আরও একবার বেনজেমার গোলেই জয় পেল আনচেলত্তির রিয়াল
আরও একবার বেনজেমার গোলেই জয় পেল আনচেলত্তির রিয়াল

বলছেন আনচেলত্তি

সবাই রিয়ালের পিছলে পড়া দেখতে চায়, কিন্তু রিয়াল পিছলে পড়ে না

এক ম্যাচে এর চেয়ে বেশি কিছু সম্ভবত আর চাইতে পারত না স্প্যানিশ লিগ!

এই সপ্তাহ শুরুর আগে শীর্ষে থাকা রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে তিনে থাকা সেভিয়ার ম্যাচ, রিয়াল হারলে প্রায় রিয়ালের ঘরেই চলে যাওয়া লিগ শিরোপার লড়াইয়ে একটু প্রাণ ফিরত। এমন ম্যাচে ২৫ মিনিটে ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়া রিয়াল দ্বিতীয়ার্ধে কী অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখল! যোগ করা সময়ের গোলে ৩-২ ব্যবধানে জিতেই গেল মাদ্রিদের কুলীন ক্লাবটি। এতটুকুই ম্যাচটিকে আলাদা জায়গা দিতে যথেষ্ট, কিন্তু সেভিয়ার মাঠে ম্যাচটাতে আরও বাড়তি কিছুও থাকল!

কী সেটা? রেফারিং বিতর্ক! রিয়ালের কামাভিঙ্গাকে লাল কার্ড না দেখানো, রিয়ালের ভিনিসিয়ুসের একটা গোল হ্যান্ডবলে বাতিল করা...কত নাটকই হলো! সেটি নিয়ে ম্যাচ শেষে কথা বলেছেন রিয়াল কোচ কার্লো আনচেলত্তি। তবে সব ছাপিয়ে রিয়ালের বারবার এমন প্রত্যাবর্তনের গল্প লেখার রহস্য নিয়ে আনচেলত্তির কথাটাই সম্ভবত রিয়ালের গর্বের কথা বলবে।

রিয়াল কোচ আনচেলত্তি

চ্যাম্পিয়নস লিগে পিএসজি ও চেলসির বিপক্ষে পরপর দুই রাউন্ডে দারুণ ফিরে আসার গল্প লিখেছে রিয়াল। পিএসজির বিপক্ষে দুই লেগের ১৮০ মিনিটের মধ্যে ১৫০ মিনিট পর্যন্ত পিছিয়ে থেকেও শেষ ৩০ মিনিটের ঝলকে মেসি-নেইমারদের শেষ ষোলোতে বিদায় করে দিয়েছেন বেনজেমারা, এরপর শেষ আটে চেলসির প্রত্যাবর্তনের গল্পের শেষ টেনে দিলেন শেষ মুহূর্তে নিজেরা জেগে ওঠে।

সেসবের রেশ তাজা থাকতে থাকতেই কাল আবার সেভিয়াকে একই স্বাদ উপহার দিলেন বেনজেমারা। প্রতিপক্ষ দল না এখন রিয়ালের জালে আগে গোল না দেওয়ার কৌশলই নিয়ে বসে! পিছিয়ে না পড়লে রিয়ালের প্রত্যাবর্তনের গল্পও লেখা হবে না—এই আর কী!

হ্যান্ডবলের অভিযোগে গোল বাতিল হওয়ার পর ভিনিসিয়ুসের হতাশা

কিন্তু একের পর এক এভাবে প্রত্যাবর্তনের গল্প কীভাবে লিখছে রিয়াল? আনচেলত্তির ব্যাখ্যা, ‘এই দলটা বিশেষ কিছু করার ক্ষমতা রাখে। আমরা আত্মবিশ্বাস হারাইনি। আমার মনে হয় পিএসজি আর চেলসির বিপক্ষে ম্যাচ দুটি আমাদের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।’

আনচেলত্তির পরের কথাটি রিয়ালের আবেগী সমর্থকদের চোখমুখে অন্য দ্যুতিই এনে দিতে পারে, ‘অন্য সবাই রিয়াল মাদ্রিদের পিছলে পড়া দেখতে চায়, কিন্তু রিয়াল মাদ্রিদ কখনো পিছলে পড়ে না।’

এসব নিয়ে প্রশ্ন হয়েছে, আর ম্যাচের নাটকীয়তা নিয়ে প্রশ্ন হবে না আনচেলত্তিকে? হয়েছে, তাতে আনচেলত্তি স্বাভাবিকভাবেই নিজের দল কীভাবে বঞ্চিত হয়েছে, সেদিকটিই তুলে এনেছেন।

এ বেলায় হলুদ কার্ড দেখলেও মিনিট সাতেক পর আরেকটি কড়া ফাউল করলেও দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখেননি কামাভিঙ্গা (২৫ নম্বর জার্সি)

হ্যান্ডবলের কারণে ভিনিসিয়ুসের গোল বাতিল হয়েছে, ওদিকে নিজেদের বক্সে সেভিয়া ডিফেন্ডার দিয়েগো কার্লোসের হাতে বল লাগলেও পেনাল্টি না দেওয়ার পাল্টা অভিযোগ রিয়ালের।

‘তাঁরা (রেফারি) ভিনিসিয়ুসের বিরুদ্ধে হ্যান্ডবলের সিদ্ধান্ত দিলে দিয়েগো কার্লোসের হ্যান্ডবল কীভাবে না দেন, সেটা আমি বুঝতে পারছি না। জানি এসব পরিস্থিতি ঠিকভাবে মূল্যায়ন করা কঠিন, সেটা মেনে নিয়েও ব্যাপারটা বুঝতে পারছি না’—আনচেলত্তির হতাশা।

আর কামাভিঙ্গার লাল কার্ড না দেখা? রিয়াল কোচ সেটিকেও নিজেদের বিরুদ্ধে যেত বলেই যুক্তি দিচ্ছেন। কীভাবে? আনচেলত্তির উত্তরটাই শুনুন। ভিনিসিয়ুসের গোল বাতিল, দিয়েগো কার্লোসের বিরুদ্ধে পেনাল্টি না দেওয়ার পর কামাভিঙ্গার লাল কার্ডের প্রসঙ্গে বললেন, ‘কামাভিঙ্গার লাল কার্ড হলে পরিকল্পনাটা একেবারে যথাযথভাবে পালন করা হয়ে যেত!’

পরিকল্পনা বলতে কি রিয়ালের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র বোঝাচ্ছেন আনচেলত্তি? তা অবশ্য পরিষ্কার করে আর বলেননি। শুধু ভিনিসিয়ুসের গোল বাতিল নিয়ে বললেন, ‘ভিনিসিয়ুস আমাকে নিশ্চিত করেছে, ও হাত দিয়ে বল স্পর্শ করেনি। আমিও তখন সরাসরি ঘটনাটা দেখেছি, আমার কাছেও মনে হয়নি বল ওর হাতে লেগেছে।’