বিশ্বকাপ ট্রফির পাশে জামাল ভূঁইয়া। ট্রফির ওপাশে ব্রাজিলের বিশ্বকাপজয়ী সাবেক ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার গিলবার্তো সিলভা।
বিশ্বকাপ ট্রফির পাশে জামাল ভূঁইয়া। ট্রফির ওপাশে ব্রাজিলের বিশ্বকাপজয়ী সাবেক ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার গিলবার্তো সিলভা।

সামনাসামনি বিশ্বকাপ ট্রফি: জামাল চান ডেনমার্ক না পারলে এবার ব্রাজিল জিতুক বিশ্বকাপ

আবারও বাংলাদেশে এল ফুটবল বিশ্বকাপ ফুটবলের সেই পরম আরাধ্য ট্রফি। ২০০২, ২০১৩ আর ২০২২ সালের পর এবার নিয়ে চতুর্থবারের মতো সোনালি এই ট্রফি এল ঢাকায়। ২০০৬ সাল থেকে প্রতিটি বিশ্বকাপের আগে ট্রফিটি বিশ্বভ্রমণে বের হয়। ২০২৬ বিশ্বকাপের ট্রফি ট্যুর শুরু হয়েছে এ বছরের ৩ জানুয়ারি, সৌদি আরব থেকে। বেশ কয়েকটি দেশ ঘুরে এবার তা ঢাকায়। ১৫০ দিনের এই দীর্ঘ সফর শেষ হবে মেক্সিকোর বিখ্যাত আজতেকা স্টেডিয়ামে, যেখানে ১২ জুন বসবে আগামী বিশ্বকাপের উদ্বোধনী আসর।

অন্য অনেকের মতো বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়াও এতদিন এই ট্রফি দেখেছেন শুধু টেলিভিশনে আর ছবিতে। এবারই প্রথম কাছ থেকে দেখার সুযোগ হলো তাঁর। সেই রোমাঞ্চ ছুঁয়ে গেছে লাল-সবুজের অধিনায়ককে। আজ সকালে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যখন ট্রফিটি এসে পৌঁছায়, তখন সেটাকে বরণ করে নেওয়ার দলে ছিলেন জামালও। বিশ্বকাপজয়ী ব্রাজিলিয়ান তারকা গিলবার্তো সিলভার হাত ধরে আসা ট্রফিটি দেখে জামাল উচ্ছ্বসিত।

আবেগে আপ্লুত জামাল বলছিলেন, ‘সত্যি বলতে, বিশ্বকাপ ট্রফি দেখার অভিজ্ঞতা ছিল একদম জোশ! আমি তো ভেবেছিলাম ট্রফিটা ছোট, কিন্তু সামনে থেকে দেখে বুঝলাম এটা বেশ বড়। খোঁজ নিয়ে জানলাম এর ওজন প্রায় চার কেজি, আর পুরোটাই খাঁটি সোনা। অভিজ্ঞতাটা দারুণ ছিল।’

এই ট্রফিটির জন্যই আগামী জুন থেকে ফুটবলের লড়াইয়ে নামবে ৪৮টি দল

জামাল মনে করেন, এই ট্রফি বাংলাদেশে আসাটা আমাদের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ ফুটবলারদের জন্য বড় এক অনুপ্রেরণা। তাঁর বিশ্বাস, এই ট্রফি দেখে নতুন প্রজন্মের ফুটবলাররা একদিন বিশ্বকাপের মঞ্চে বাংলাদেশের নাম লেখানোর স্বপ্ন দেখবে, ‘আশা করি, আমাদের ফুটবলার যারা কঠোর পরিশ্রম করতে পারে, এটা তাদের জন্য অনুপ্রেরণার হোক। আমি মনে করি, যারা ফুটবলার হতে চায়, তাদের জন্য এই ট্রফি আরও অনুপ্রেরণার হবে।’

ট্রফি বরণ অনুষ্ঠানে জামালের সঙ্গে কথা হয়েছে ২০০২ বিশ্বকাপজয়ী ব্রাজিলের মিডফিল্ডার গিলবার্তো সিলভার। সেখানে নিজের ‘ব্রাজিল প্রেমের’ কথা বলতে ভোলেননি জামাল। শৈশবে রোনালদো নাজারিওর জাদুতে মুগ্ধ হওয়া ১২ বছরের সেই কিশোর জামালকে আজও নাড়া দেয় ২০০২-এর সেই সোনালি দল, ‘ছোটবেলা থেকে আমি ব্রাজিলকে অনুসরণ করেছি। আমার প্রথম ফেভারিট খেলোয়াড় ছিলেন রোনালদো (নাজারিও)। বিশেষ করে, গিলবার্তোর সামনেও বলেছি ২০০২ সালে ব্রাজিল দলটাও আমাকে খুব অনুপ্রাণিত করেছে, তখন আমার বয়স ছিল ১২ বছর। এই দলটায় ছিল রোনালদো, রিভালদো, রোনালদিনিয়ো এবং গিলবার্তোও ছিল, এটা আমার জন্য ছিল বাড়তি মোটিভেশন।’

ট্রফিটি দেখতে আগ্রহী দর্শকদের সারি

তবে মজার ব্যাপার হলো, ট্রফি জয়ের লড়াইয়ে জন্মভূমি ডেনমার্ককেই এগিয়ে রাখছেন তিনি। জামাল হাসতে হাসতে বললেন, ‘মনেপ্রাণে চাই আমার জন্মভূমি ডেনমার্ক ট্রফিটা জিতুক। আর ডেনমার্ক যদি না পারে, তবে ট্রফিটা যেন ব্রাজিলের ঘরেই যায়!’

আজ বেলা দেড়টা থেকে ঢাকার রেডিসন ব্লু হোটেলে ট্রফিটি প্রদর্শনীর জন্য রাখা হয়েছে। সন্ধ্যা পর্যন্ত ভক্তদের দেখার সুযোগ থাকছে সেখানে।