আর মাত্র কয়েক ঘণ্টার অপেক্ষা। ইউরোপিয়ান ক্লাব ফুটবলের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত ট্রফির লড়াইয়ে আজ রাত ১০টায় মুখোমুখি হবে পিএসজি ও আর্সেনাল। দীর্ঘ মৌসুমের পরিশ্রম, স্বপ্ন আর প্রত্যাশার শেষ গন্তব্যে দাঁড়িয়ে দুই দল। এমন এক ম্যাচে জয়-পরাজয়ের ব্যবধান খুবই সূক্ষ্ম হয়ে থাকে।
কৌশল, মানসিক দৃঢ়তা, কোনো তারকার ঝলক কিংবা একটি ভুল—যেকোনো কিছুই নির্ধারণ করে দিতে পারে শিরোপার ভাগ্য। মিউনিখের ফাইনালেও নজর থাকবে তেমনই কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের দিকে, যেগুলো শেষ পর্যন্ত গড়ে দিতে পারে ইউরোপসেরার মুকুটের নতুন মালিক।
আজ রাতের ফাইনালে যেসব বিষয় শিরোপা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ তার অন্যতম। ফাইনালে যে দল মাঝমাঠে বলের গতি ও ছন্দ নিয়ন্ত্রণ করবে, তারাই ম্যাচের দখল নিতে পারবে। বিশেষ করে প্রতিপক্ষের প্রেসিং নষ্ট করা, বলের দখল বেশির ভাগ সময় নিজেদের কাছে রাখা এবং চাপের মুখে সঠিক সময় নিতে পারলেই ফল নিজেদের পক্ষে নেওয়া সহজ হবে। দুই দলেই মাঝমাঠের দখল নেওয়ার মতো তারকা আছে। এখন কেবল জ্বলে ওঠার অপেক্ষা।
ফাইনালের মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ অনেক সময় ৯০ মিনিটের ধারাবাহিক আধিপত্যে নয়, বরং একটি মুহূর্তে নির্ধারিত হয়। একজন ফরোয়ার্ডের অসাধারণ ফিনিশ, একজন উইঙ্গারের ব্যক্তিগত দক্ষতা কিংবা গোলরক্ষকের অবিশ্বাস্য সেভ পুরো ম্যাচের গল্প বদলে দিতে পারে। আর্সেনাল তারকা বুকায়ো সাকা যেমনটা বলেছিলেন, এমন ম্যাচে ‘মিনিট নয়, মুহূর্তই’ পার্থক্য গড়ে দেয়। আজ রাতেও তেমন মুহূর্তের অপেক্ষাতেই থাকবে দুই দল।
বর্তমান ফুটবলে বল হারানোর পর কয়েক সেকেন্ডই সবচেয়ে বিপজ্জনক। যে দল দ্রুত রক্ষণে ফিরতে পারবে এবং প্রতিপক্ষের প্রতি–আক্রমণ ঠেকাতে পারবে, তাদের ম্যাচে ভালো করার সম্ভাবনা অনেক বাড়বে।
আর ৯০ মিনিট ধরে ধারাবাহিকভাবে এই কাজ করতে পারলে ম্যাচের ফল নিজেদের পক্ষে আনাও অনেক সহজ হয়ে যাবে। আজ পিএসজি ও আর্সেনাল দুই দলকেই তাই রক্ষণ ও ট্রানজিশন সামলানোর ক্ষেত্রে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে।
লম্বা মৌসুম শেষে খেলোয়াড়দের শারীরিক অবস্থাও ম্যাচের ফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখে। কারা পুরোপুরি ফিট, কারা শেষ ৩০ মিনিটে বেঞ্চ থেকে নেমে ম্যাচের গতি বদলাতে পারে—এসবই শিরোপা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক সময়ে দেখা গেছে, ফাইনালে বিকল্প খেলোয়াড়রা মাঠে নেমে অনেক সময় ম্যাচের ভাগ্য বদলে দিয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে পিএসজির চেয়ে আর্সেনাল কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থানে থাকবে। তাদের দলে চোটে হানা কম এবং দলে ভালো বিকল্পও আছে। অন্য দিকে পিএসজিতে উসমান দেম্বেলে কিংবা খিচা কাভারাস্কেইয়ার বিকল্প নেই বললেই চলে।