সান্তোসের জার্সিতে প্রতিটি ম্যাচই এখন নেইমারের জন্য নিজেকে প্রমাণ করার। বিশ্বকাপ দলে জায়গা পেতে ফিটনেস ধরে রাখার পাশাপাশি মাঠে পারফরম্যান্সের জাদুও দেখাতে হবে তাঁকে। সে লক্ষ্যেই গতকাল রাতে ব্রাজিলিয়ান লিগে কোরিন্থিয়ান্সের বিপক্ষে সান্তোসের হয়ে মাঠে নামেন নেইমার।
ম্যাচে সান্তোসের একমাত্র গোলে অ্যাসিস্ট করেন এই ব্রাজিলিয়ান তারকা। তবে শেষ পর্যন্ত জয় পায়নি সান্তোস। ঘরের মাঠে ম্যাচটি ড্র হয়েছে ১-১ গোলে। ফলে ৬ ম্যাচে মাত্র ১ জয় নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের ১৩ নম্বরে রয়েছে সান্তোস।
এই ম্যাচে নেইমার মাত্র তিনটি শট নেন, যার দুটি ছিল আবার ফ্রি-কিক থেকে। কিন্তু সেগুলো সফল হয়নি। এই ম্যাচে অসফল পাসের সংখ্যাও ছিল চোখে পড়ার মতো। সব মিলিয়ে ২৯টি পাসের মধ্যে ৯টিই ঠিক ঠিকানায় পৌঁছায়নি।
কয়েকবার অতিরিক্ত ড্রিবল করতে গিয়ে আক্রমণের ভালো সুযোগও নষ্ট করেন। প্রতিপক্ষের কড়া মার্কিংয়েও ভুগতে হয়েছে তাঁকে। ম্যাচে তাঁকে তিনবার ফাউল করা হয়, আর তিনি নিজেও দুটি ফাউল করেন। সব মিলিয়ে দিনটি কেটেছে বেশ সাদামাটা।
ম্যাচ শেষে নেইমার কথা বলেছেন তাঁর জাতীয় দলে ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে। ফ্রান্স ও ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে আজ সোমবার প্রীতি ম্যাচের চূড়ান্ত দল ঘোষণার আগে এটি ছিল নেইমারের শেষ ম্যাচ। ওই দুই ম্যাচ বিশ্বকাপ দলে জায়গা পাওয়ার লড়াইয়ের গুরুত্বপূর্ণ সিঁড়িও। এই ম্যাচ দুটির পরই মে মাসে বিশ্বকাপের চূড়ান্ত দল ঘোষণা করবেন আনচেলত্তি। তাই এই দুই ম্যাচের পারফরম্যান্স অনেক কিছু নির্ধারণ করতে পারে।
এ প্রসঙ্গে নেইমার বলেন, ‘আমি সে লক্ষ্যেই (জাতীয় দলে ফেরা) কাজ করছি। জাতীয় দলে ফিরে বিশ্বকাপে খেলার খুব ইচ্ছা আমার। তবে সিদ্ধান্তটা কোচিং স্টাফের। আমি দলে থাকি বা না থাকি, সব সময়ই জাতীয় দলকে সমর্থন করব।’
নেইমারদের খেলা দেখতে এদিন অবশ্য ইতালিয়ান কোচ কার্লো আনচেলত্তি নিজে মাঠে ছিলেন না। মাঠে ছিলেন আনচেলত্তির সহকারী মিনো ফুলকো ও ফ্রান্সেসকো মাউরি। কে জানে, তাঁদের রিপোর্টের ওপরই হয়তো নির্ভর করছে নেইমারের জাতীয় দলে ফেরা না–ফেরার অনেকটাই। এর আগে নেইমার অবশ্য প্রাথমিক দলে জায়গা পেয়েছিলেন।
২৬ মার্চ রাতে ফ্রান্সের বিপক্ষে প্রথম প্রীতি ম্যাচটি খেলবে ব্রাজিল। আর ১ এপ্রিল সকাল ৬টায় ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচ। বিশ্বকাপ শুরু হবে ১১ জুন। আর শেষ হবে ১৯ জুলাই।