
গোয়ার মারগাঁওয়ের জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে আজ অষ্টম নারী সাফের প্রথম সেমিফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে বাংলাদেশ ও নেপাল। আজ হারলেই সাফের মঞ্চে লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের চার বছরের গৌরবময় রাজত্বের অবসান ঘটবে। কিন্তু জয় পেলে টানা তৃতীয়বারের মতো শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখার লক্ষ্যে বাংলাদেশ টিকিট কাটবে ফাইনালের। বাংলাদেশ সময় বিকেল সাড়ে ৪টায় ম্যাচটি শুরু হবে।
দক্ষিণ এশিয়ার নারী ফুটবলে এ দুই পরাশক্তির মাঠের লড়াইয়ের ইতিহাস বেশ দীর্ঘ ও রোমাঞ্চকর। সাফে গত সাতটি আসরের পরিসংখ্যান ঘাঁটলে দেখা যায়, দুই দল এ পর্যন্ত পাঁচবার মুখোমুখি হয়েছে। নেপালের জয় তিন ম্যাচে, বাংলাদেশ পেয়েছে দুই ম্যাচে জয়। নেপালের গোল ৯টি, বাংলাদেশের গোল ৫টি।
২০১০ সালে বাংলাদেশের পর্যটন নগরী কক্সবাজারে অনুষ্ঠিত প্রথম সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের সেমিফাইনালে প্রথমবার মুখোমুখি হয়েছিল বাংলাদেশ ও নেপাল। প্রথম দেখায় বাংলাদেশ ৩-০ গোলে নেপালের কাছে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেয়। এরপর ২০১২ সালে শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত সাফের দ্বিতীয় আসরে দুই দলের দেখা হয়নি।
২০১৪ সালে পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত সাফের তৃতীয় আসরে আবারও সেমিফাইনালে মুখোমুখি হয় এই দুই দল। সেবারও বাংলাদেশ নেপালের কাছে হেরে যায়। তবে ম্যাচে লড়াই হয়েছিল তুমুল এবং বাংলাদেশের মেয়েদের হারের ব্যবধান ছিল ১-০। সেটিও ৫৬ মিনিটে সাজানা রানার পেনাল্টি গোলে।
২০১৬ সালে ভারতে চতুর্থ সাফে দল দুটির দেখা না হলেও ২০১৯ সালে নেপালের কাঠমান্ডুতে পঞ্চম আসরে গ্রুপ পর্বে মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ ও নেপাল। সেই ম্যাচে স্বাগতিক নেপালের কাছে ৩-০ গোলে হেরে যায় বাংলাদেশ দল।
তবে ২০২২ সালের ষষ্ঠ আসর থেকে গল্পটা পুরোপুরি বদলে যায়। কাঠমান্ডুতে সেই টুর্নামেন্টের ঐতিহাসিক ফাইনালে নেপালকে ৩-১ গোলে স্তব্ধ করে দিয়ে প্রথমবারের মতো সাফের শিরোপা উঁচিয়ে ধরে বাংলাদেশ।
২০২৪ সালে সর্বশেষ আসরেও চিত্রনাট্য বদলায়নি। আবারও কাঠামান্ডুতে খেলা, ফাইনালে মুখোমুখি দুই দল এবং নেপালকে ২-১ গোলে হারিয়ে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখে বাংলাদেশ দল।
দুটি আসরের ফাইনালে দেখা হলেও, দীর্ঘ ১২ বছর পর আজ আবারও টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ও নেপাল।