ফাইনালে চার গোল করেছেন সুলেমান দিয়াবাতে
ফাইনালে চার গোল করেছেন সুলেমান দিয়াবাতে

সাক্ষাৎকারে সুলেমান দিয়াবাতে

‘আমি বাফুফের কাছে যাব না, প্রস্তাব দিলে খেলব’

এক ম্যাচে চার গোল, সেটাও আবার ফাইনালে! গত পরশু ফেডারেশন কাপের ফাইনালে আবাহনীর বিপক্ষে এই কীর্তি গড়ার পর থেকেই আলোচনায় সুলেমান দিয়াবাতে। ১৪ বছর পর মোহামেডানকে জিতিয়েছেন ফেডারেশন কাপ। ফাইনালের সেরা খেলোয়াড় হওয়ার পাশাপাশি টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ গোলদাতা ও সেরা খেলোয়াড়ও হয়েছেন মালির ৩২ বছর বয়সী স্ট্রাইকার। বাংলাদেশে পাঁচ বছর খেলে তাঁর মনে হয়েছে এ দেশের স্ট্রাইকারদের বড় ঘাটতি ব্যক্তিগত অনুশীলন না করা। গতকাল উচ্ছ্বাস-আনন্দের মধ্যে মোহামেডান ক্লাব চত্বরে দাঁড়িয়ে সাদা–কালোর অধিনায়ক কথা বললেন নানা বিষয়ে—

প্রশ্ন

ভেবেছিলেন কি চার গোল করে আবাহনীকে এভাবে একাই হারিয়ে দেবেন!

সুলেমান দিয়াবাতে: একেবারেই না। আশা ছিল ভালো করব। কিন্তু চার-চারটি গোল করব ভাবিনি।

প্রশ্ন

প্রথমার্ধে মাঠে আপনাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। অথচ দ্বিতীয়ার্ধে মনে হলো আপনি মেসি-এমবাপ্পে...

দিয়াবাতে: (হাসি) আসলে প্রথমার্ধে আমরা যেমন খেলেছি, সেটাই আমাদের খেলার ধরন। তবে আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ ছিলাম যে জিতব। আলহামদুলিল্লাহ, আমরা জিতেছি। নিজের সেরাটা দিতে পেরেছি।

ফেডারেশন কাপের ট্রফির সঙ্গে সর্বোচ্চ গোলদাতা ও সেরা খেলোয়াড়ের ট্রফি হাতে সুলেমান দিয়াবাতে
প্রশ্ন

এ মুহূর্তে নিজেকে বাংলাদেশের ঘরোয়া ফুটবলে সেরা স্ট্রাইকার মনে করছেন?

দিয়াবাতে: না, না, সেরা বলব না। অন্যতম সেরা। অনেক ভালো ভালো স্ট্রাইকার আছে। দরিয়েলতন..., রবসন (স্ট্রাইকার নন)। সবার নাম বলতে পারব না।

প্রশ্ন

একজন ভালো স্ট্রাইকারের কী কী গুণ থাকা দরকার?

দিয়াবাতে: গোল করার ক্ষমতা অবশ্যই। ভালো হেড ওয়ার্ক দরকার। কঠিন পরিশ্রম, ব্যক্তিগত অনুশীলন। আমার সাফল্যের মূলেও এগুলোই।

১৪ বছর পর মোহামেডানকে ফেডারেশন কাপ জিতিয়েছেন সুলেমান দিয়াবাতে
প্রশ্ন

বাংলাদেশের স্ট্রাইকারদের কেমন দেখেছেন। কী ঘাটতি তাঁদের?

দিয়াবাতে: আমার মনে হয়েছে, বাংলাদেশের বেশির ভাগ ফুটবলার (স্ট্রাইকার) ব্যক্তিগত অনুশীলন পছন্দ করে না। ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর কথা বলতে পারি। তিনি ব্যক্তিগত অনুশীলন খুব করেন। ব্যক্তিগত অনুশীলন আপনাকে শক্তিশালী করবে। ফিটনেস বাড়াবে। তাই আমি সবাইকে বলব, ব্যক্তিগত অনুশীলন করতে। এই কাজটা বাংলাদেশি খেলোয়াড়েরা করে না বলে তারা শারীরিকভাবে শক্তিশালী নয়। কখনো কখনো তারা একটু অলস। তাদের নিজেদের প্রতি বিশ্বাস রাখতে হবে।

প্রশ্ন

২০১৮ সালে আপনি মোহামেডানে প্রথম আসেন। সেই থেকে খেলেছেন টানা। সামনে কী? বসুন্ধরা কিংস চাইলে যাবেন?

দিয়াবাতে: চোট বা কার্ড সমস্যা বাদ দিলে বাকি সব ম্যাচই খেলেছি পাঁচ বছরে। গত লিগে সর্বোচ্চ ২১ গোল করেছি। এ বছর লিগে ১২ গোল করেছি, ফেডারেশন কাপে ৮ গোল। স্বাধীনতা কাপেও গোল আছে। আমার কাজ গোল করা। সেটা আমি করে যাচ্ছি। সামনে কী আছে, সেটা বলতে পারব না। মোহামেডানের সঙ্গে এ মৌসুম পর্যন্ত চুক্তি আছে। দেখা যাক কী হয়। আমার বিশ্বাস, আগামী ২-৩ বছরের মধ্যে মোহামেডান অতীতের অবস্থানে চলে আসবে।

প্রশ্ন

বাংলাদেশের ফুটবল কেমন দেখলেন গত পাঁচ বছরে?

দিয়াবাতে: বাংলাদেশে বড় সমস্যা মাঠ। যে কারণে ভালো ফুটবল খেলা কঠিন। তা ছাড়া এখানে কোনো একাডেমি নেই। এটাও বড় সমস্যা।

প্রশ্ন

আপনি নাকি ছোটবেলায় বাস্কেটবল খেলোয়াড় ছিলেন?

দিয়াবাতে: আমি ১৫ বছর বয়স পর্যন্ত ক্লাব পর্যায়ে বাস্কেটবল খেলেছি। এরপর চলে আসি ফুটবলে। দক্ষিণ আফ্রিকা, ভিয়েতনামে খেলে বাংলাদেশে এসেছি।

বাফুফে প্রস্তাব দিলে বাংলাদেশের হয়ে খেলবেন দিয়াবাতে
প্রশ্ন

শেষ প্রশ্ন। আপনি বলেছেন, বাংলাদেশ জাতীয় দলে খেলতে চান। আসলে এটা কতটা সম্ভব মনে করেন?

দিয়াবাতে: এ বিষয়টা নিয়ে সবাই প্রশ্ন করছে। আমি বলেছি, আমি বাংলাদেশের জার্সিতে খেলতে আগ্রহী। তবে আমি বাফুফের কাছে যাব না। তারা আমার কাছে প্রস্তাব দিলে আমি খেলব। আর এটা অসম্ভব নয়।