বিশ্ব রেকর্ড গড়ার পর আরমান্দ ‘মন্ডো’ ডুপ্লান্টিস
বিশ্ব রেকর্ড গড়ার পর আরমান্দ ‘মন্ডো’ ডুপ্লান্টিস

পোল ভল্ট

বিশ্ব রেকর্ড গড়েই চলছেন ডুপ্লান্টিস

আবারও!

হ্যাঁ, পোল ভল্টে আবারও বিশ্ব রেকর্ড গড়েছেন আরমান্দ ‘মন্ডো’ ডুপ্লান্টিস। গতকাল সুইডেনের আপসালায় মন্ডো ক্ল্যাসিক ইনডোর মিটিংয়ে ১৫তমবারের মতো বিশ্ব রেকর্ড গড়েন সুইডিশ কিংবদন্তি। আইএফইউ অ্যারেনায় ৬.৩১ মিটার উচ্চতা পাড়ি দিয়ে ভেঙে ফেলেন গত বছর বিশ্ব অ্যাথলেটিকস চ্যাম্পিয়নশিপে নিজের গড়া রেকর্ড।

টোকিওতে অনুষ্ঠিত বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে ৬.৩০ মিটার উচ্চতা পাড়ি দিয়েছিলেন ডুপ্লান্টিস। সেই রেকর্ডকেই এবার ১ সেন্টিমিটার ওপরে তুললেন তিনি। মন্ডো ক্ল্যাসিক প্রতিযোগিতাটি তাঁর নামে আয়োজিত এবং সেখানে তিনি অনুশীলন করেন।

ডুপ্লান্টিস প্রথম বিশ্ব রেকর্ড গড়েন ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে। পোল্যান্ডের টরুনে অনুষ্ঠিত ওরলেন কোপের্নিকাস কাপে ৬.১৭ মিটার উচ্চতা পাড়ি দিয়ে রেকর্ডটি গড়েন। এর পর থেকে ধীরে ধীরে সেই উচ্চতা আরও ১৪ সেন্টিমিটার বাড়িয়েছেন। প্রতিবারই মাত্র ১ সেন্টিমিটার করে নিজের রেকর্ডকে আরও উঁচুতে স্থাপন করেছেন ডুপ্লান্টিস। অর্থাৎ ডুপ্লান্টিসের প্রতিযোগিতাটি আসলে তাঁর নিজের সঙ্গেই।

রেকর্ড গড়ার পর ডুপ্লান্টিসের উচ্ছ্বাস

ডুপ্লান্টিসের দাপট শুরুর আগে রেকর্ডটি ছিল ফ্রান্সের রেঁনে লাভিলেনির দখলে। ২০১৪ সাল থেকে ৬.১৬ মিটার উচ্চতা পাড়ি দিয়ে বিশ্ব রেকর্ড গড়েছিলেন লাভিলেনি। ছয় বছর পর পোল্যান্ডে সে রেকর্ড ভেঙে পোল ভল্টে নিজের সাম্রাজ্যের শুরু করেন ডুপ্লান্টিস।

আইএফইউ অ্যারেনায় প্রথম চেষ্টাতেই ৫.৬৫ মিটার, ৫.৯০ মিটার এবং ৬.০৮ মিটার পার হওয়ার পর ডুপ্লান্টিস বারটি ৬.৩১ মিটারে তুলতে বলেন। তখন উপস্থিত দর্শকের উচ্ছ্বাস দেখে কে! ডুপ্লান্টিসের প্রথম চেষ্টায় বারটি হালকা কেঁপে উঠলেও যখন শরীর বাঁকিয়ে সেটি পার হলেন, তখন গ্যালারিতে উন্মত্ত দৃশ্য তৈরি হয়। কয়েকজন প্রতিদ্বন্দ্বী গিয়ে ডুপ্লান্টিসকে জড়িয়ে ধরে অভিনন্দন জানান। ধারাভাষ্যকার তখন বলছিলেন, ‘কী বলা যায়? এই মানুষটিকে নিয়ে আর কিছুই বলার নেই!’ ডুপ্লান্টিসের এটি চলতি বছরের প্রথম বিশ্ব রেকর্ড এবং টানা ৩৮তম প্রতিযোগিতা জয়।

আমেরিকায় জন্ম নেওয়া ডুপ্লান্টিস মায়ের জন্মসূত্রে খেলেন সুইডেনের হয়ে। সুইডেনে এই নিয়ে দ্বিতীয়বার বিশ্ব রেকর্ড গড়লেন। ৯ মাস আগে স্টকহোমে ৬.২৮ মিটার পাড়ি দিয়ে বিশ্ব রেকর্ড গড়েছিলেন।

নিজেকে প্রতিনিয়ত ছাপিয়ে যাচ্ছেন ডুপ্লান্টিস

১৯৮৩ থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত ছয়টি বৈশ্বিক খেতাব জিতেছিলেন ইউক্রেনের কিংবদন্তি পোল ভল্টার সের্গেই বুবকা। তাঁর সেই কীর্তির পর প্রথম পুরুষ পোল ভল্টার হিসেবে গত সেপ্টেম্বরে টানা তিন বৈশ্বিক খেতাব জেতেন অলিম্পিকে দুবারের চ্যাম্পিয়ন ডুপ্লান্টিস।

ডুপ্লান্টিসের ক্যারিয়ারে মোট ১৩০টি জয়, এর মধ্যে শেষ ৫০টি জয় পেয়েছেন টানা। সর্বশেষ ৮৪টি প্রতিযোগিতার মধ্যে ৮২টিতে জিতেছেন এবং ২০২৩ সালের ২১ জুলাইয়ের পর থেকে কোনো প্রতিযোগিতায় হারেননি।

আইএফইউ অ্যারেনায় গতকাল জয়ের পর দর্শকদের প্রতি ডুপ্লান্টিস বলেন, ‘এটা আমার ঘর। এটা আমাদের ঘর। যখনই আমি ট্র্যাকে নামি, আপনাদের প্রতিনিধিত্ব করি এবং সেটা আমি ভীষণ গর্বের সঙ্গে করি। আপনাদের সামনে এটি করতে পেরে আমি ভীষণ গর্বিত। আমি নিজের জন্য লাফাই, পরিবারের জন্য লাফাই। কিন্তু আপনাদের জন্যও লাফাই, সুইডেনের জন্য লাফাই এবং যাঁরা আমাকে সমর্থন করেন, তাঁদের সবার জন্য।’

সুইডিশ সম্প্রচারমাধ্যম এসভিটিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ডুপ্লান্টিস এরপর বলেন, ‘কেউ যদি সুইডেনে এসে আমাকে চ্যালেঞ্জ জানাতে চায়, তাহলে আমাকে হারানো তার জন্য আরও কঠিন হবে। এই মুহূর্তে আমি খুব আবেগাপ্লুত। ভিন্ন কিছু করতে চেয়েছিলাম বলেই বাড়তি চাপ ছিল। এখানে বিশ্ব রেকর্ড গড়া সত্যিই অবিশ্বাস্য।’

লাফিয়ে নামার মুহূর্তে ডুপ্লান্টিস। এই লাফেই হয়েছে নতুন বিশ্ব রেকর্ড

ডুপ্লান্টিস জানান, শক্ত পোল নিয়ন্ত্রণে রাখতে তিনি রানআপ কিছুটা বাড়িয়েছিলেন, ‘নতুন কিছু করার চেষ্টা করেছি এবং নিজেকে সীমার শেষ পর্যন্ত ঠেলে দিয়েছি। অনুভূতিটা দারুণ।’

নরওয়ের সন্দ্রে গাটোরমেসন ৬.০০ মিটার লাফিয়ে দ্বিতীয় হন। যুক্তরাষ্ট্রের জ্যাকারি ব্র্যাডফোর্ড, স্যাম কেনড্রিকস ও অস্ট্রেলিয়ার কার্টিস মার্শেল ৫.৯০ মিটার উচ্চতা পার হয়ে যথাক্রমে তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম হন।