বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম
বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম

সাক্ষাৎকারে আমিনুল ইসলাম

‘পাকিস্তান অলআউট বাংলাদেশের জন্য কাজ করেছে’

টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশকে বাদ দেওয়া, পাকিস্তানের ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটের ঘোষণা—সব মিলিয়ে গত কিছুদিন বেশ টালমাটালই ছিল বিশ্ব ক্রিকেট। সংকটের সমাধানে হঠাৎই নাটকীয়ভাবে লাহোর উড়ে গিয়েছিলেন আমিনুল ইসলাম। সেখানে পিসিবি ও আইসিসির সঙ্গে রুদ্ধশ্বাস আলোচনায় যোগ দিয়েছেন বিসিবি সভাপতি। শেষ পর্যন্ত কীভাবে কাটল অনিশ্চয়তার মেঘ, প্রথম আলোর সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে গতকাল আমিনুল বলেছেন সেই গল্প। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন তারেক মাহমুদ।

প্রশ্ন

৭ ফেব্রুয়ারি গভীর রাতে হঠাৎ আপনি লাহোরে গেলেন। পরদিন মিটিং করলেন একাধিক। সেসব মিটিংয়ের ফলাফল আমরা এখন জানি। তারপরও কি একটু বিস্তারিত বলবেন কী হলো লাহোরে?

আমিনুল ইসলাম: যখন আইসিসি আমাদের বলে দিল যে তারা বাংলাদেশের পরিবর্তে স্কটল্যান্ডকে নেবে, তখন পাকিস্তানসহ আরও কয়েকটি দেশ সেখানে ছিল। এমনকি মিটিংয়ে ভারতও ছিল। আইসিসির আরও দু-একজন কর্মকর্তা ছিলেন। তাঁরা বলেছিলেন যে স্কটল্যান্ডকে সরাসরি ঘোষণা না করে বাংলাদেশের জন্য শেষ দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করা উচিত।

প্রশ্ন

একটা কথা, ‘শেষ দিন’ পর্যন্ত অপেক্ষা বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

আমিনুল: অর্থাৎ বাংলাদেশ যদি না আসে, তবে ওয়াকওভার হবে, অন‍্য কাউকে বিশ্বকাপে নেওয়া হবে না। সেখানে বেশ কয়েকটি দেশের এটাই মত ছিল। একই মত ছিল ভারতেরও। আমরাও এ লক্ষ্যেই এগোচ্ছিলাম, যেন স্কটল্যান্ডকে বাংলাদেশের প্রতিস্থাপনকারী দেশ হিসেবে ঘোষণা না করে তারা অপেক্ষা করে। পাকিস্তান এ বিষয়ে জোরালো অবস্থান নিয়েছিল; কারণ, তারা মনে করেছো আমাদের দাবি সঠিক। একপর্যায়ে তারা এমনও বলেছে যে বাংলাদেশ যদি না খেলে, তবে ওরাও খেলবে না। আমি তখন থেকেই বলেছিলাম, এটি তো হতে পারে না! এতে আইসিসির এবং ক্রিকেটের বড় ক্ষতি হবে। এরপর জিম্বাবুয়ে ও আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়, যারা শুরুতে এই গ্রুপে আসতে আগ্রহী ছিল। আইসিসি একপর্যায়ে মনে করল যে বাংলাদেশ নেই এবং পাকিস্তানও যদি না খেলে, তবে আইসিসির সবচেয়ে বড় ম্যাচের আর্থিক ক্ষতি হবে। ব্রডকাস্টার এবং কমার্শিয়াল পার্টনারদের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির ক্ষেত্রে এটি বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

লাহোরে আইসিসি ডেপুটি চেয়ারম্যান ইমরান খাজার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম। মাঝে পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি
প্রশ্ন

শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করানো গেল না কেন?

আমিনুল: আমরা না গেলে ওয়াকওভার হবে, এটাই সবাই চাচ্ছিল। আইসিসি স্কটল‍্যান্ডকে নিতে চাইলে আমরা বললাম, এটি ভুল হচ্ছে। তখন নানা রকম বিধিনিষেধ বা জরিমানার বিষয় সামনে আসতে শুরু করল, যা আপনারা সংবাদপত্রেও দেখেছেন। আমরা তখন আরও শক্ত অবস্থান নিলাম। আমার বক্তব্য ছিল, আমরা না খেললে ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা কমবে। এখন এশিয়া এবং সাবকন্টিনেন্টের প্রভাবেই বিশ্ব ক্রিকেট চলে। আমরা সেখানে বেশ সাহসী ছিলাম। পরবর্তী সময়ে যখন আইসিসি দেখল যে পাকিস্তান সত্যি সত‍্যি না খেললে বড় ক্ষতি হবে, তখন তারা মিটিং ডাকার সিদ্ধান্ত নিল।

প্রশ্ন

লাহোরের সর্বশেষ মিটিংটা তো, এটা সম্পর্কেই জানতে চাই...

আমিনুল: আমি ভেবেছিলাম মিটিংটা হয়তো অনলাইনে হবে বা আরও আগে হবে, কিন্তু আইসিসির অনেক বাধ্যবাধকতা থাকে। মাত্র দেড় ঘণ্টার নোটিশে আমাকে বলা হলো যে লাহোর যেতে হবে। পাঁচ মিনিটের মধ্যে আমার ভিসা হয়ে গেল এবং আধা ঘণ্টার মধ্যে আইসিসি সব টিকিটের ব্যবস্থা করে দিল। লাহোর এয়ারপোর্ট গিয়ে যখন পৌঁছালাম, পরিস্থিতি আরও জটিল মনে হলো। আমার মনে হয়েছে, পাকিস্তান আমাদের প্রতি যে সমর্থন দিচ্ছিল, সেটির সঙ্গে ক্রিকেট কূটনীতির বড় একটি বিষয় জড়িয়ে ছিল।

পাকিস্তানে পিসিবির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সালমান নাসির আমিনুল ইসলামকে স্বাগত জানান
প্রশ্ন

বিমানবন্দরে খুব উষ্ণ অভ্যর্থনা পেয়েছেন দেখলাম। তো সেখান থেকে সরাসরি মিটিংয়ে গেলেন?

আমিনুল: না, লাহোরে সেদিন বসন্তের ঘুড়ি উৎসব ছিল। ম্যাসিভ! পুরো শহর একদম অন্য লেভেলে ছিল। যেহেতু পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, প্লাস লাহোরে তাঁর বাসা, পিসিবিও ওখানে, কাজেই সেই উৎসবে আমাকে ‘চিফ গেস্ট’ বানানো হলো। এয়ারপোর্ট থেকে সেখানে গিয়ে নিজেও একটু ঘুড়ি ওড়ালাম (হাসি)।

প্রশ্ন

এটা লাহোরের কোথায় হয়েছে?

আমিনুল: একটা বড় হলের ছাদে, ছয়তলার ওপরে। গাদ্দাফি স্টেডিয়ামের খুব কাছেই, বিশাল। তো ওই উৎসবে গেলাম, উৎসবে বাংলাদেশ ক্রিকেট এবং পাকিস্তান ক্রিকেট নিয়ে বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারের সঙ্গে আলোচনা হলো। বলতে পারেন, আমাদের সম্পর্কটা ক্রিকেট দিয়ে আরও মসৃণ করার একটা মাধ্যম হয়ে গিয়েছিল ঘুড়ি উৎসবটা। আমরা চীনের ‘পিং পং ডিপ্লোমেসি’র কথা জানি। লাহোরে আমার কাছে মনে হয়েছে, এটা একটা ‘কাইট ডিপ্লোমেসি’।

প্রশ্ন

ওখানে কি আইসিসির ডেপুটি চেয়ারম্যানও আমন্ত্রিত ছিলেন?

আমিনুল: না, আমি লাহোরে নেমেছি বেলা দুইটায়, উনি বিকেল পাঁচটায়। উনি আসার আগে হোটেলে না গিয়ে আমি সোজা গিয়েছি ঘুড়ি উৎসবে। ঘুড়ি উৎসবে অংশগ্রহণ করে ওখান থেকে আমরা গাদ্দাফি স্টেডিয়ামের মিটিংয়ে চলে যাই। সাড়ে ৭টায় মিটিং শুরু হয়, সেটা চলে রাত সাড়ে ১২টা পর্যন্ত।

পাকিস্তানে পিসিবি ও আইসিসির সঙ্গে মিটিং করেন আমিনুল
প্রশ্ন

 রাতেই তো আবার লাহোর ছাড়লেন। কয়টা মিটিং করলেন ওই দিন মোট?

আমিনুল: প্রথমে একটা পিসিবির সঙ্গে করেছি, তারপর আইসিসি। একটা অনলাইন মিটিংও হয়েছে, ওটায় আমি ছিলাম না। আইসিসির সিইও, পাকিস্তানের সিইও ছিলেন। সেখানে আমার কিছু মতামত নিয়ে তারা আলোচনা করেন, প্রি-মিটিং বলা যায়। তারপর মূল মিটিংটা শুরু হয় সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায়।

প্রশ্ন

মূল মিটিংয়ে কে কে ছিলেন?

আমিনুল: আমি, মহসিন নাকভি আর ইমরান খাজা। অনলাইনে যোগ দিয়েছিলেন আইসিসি সিইও ও আরও কয়েকজন। তবে তাঁরা সরাসরি মিটিংয়ে ছিলেন না। আলাদা করে ইমরান খাজার সঙ্গে সলাপরামর্শ করেছেন।

প্রশ্ন

আপনি কি মিটিংয়ের আগে জানতেন, আলোচনার বিষয়বস্তু কী হবে?

আমিনুল: হ্যাঁ, জানতাম। এজেন্ডা ছিল বাংলাদেশকে যে ক্ষতিগ্রস্ত করা হচ্ছে, (বাংলাদেশ না খেলায়), সেটা যাতে না হয়। সঙ্গে আমার লক্ষ্য ছিল ভারতের সঙ্গে খেলতে কীভাবে পাকিস্তানকে রাজি করানো যায়। কারণ, পাকিস্তান অ্যাডাম্যান্ট ছিল খেলবে না। কিন্তু আমার মনে হচ্ছিল যে পাকিস্তান যদি না খেলে, ইট উইল বি ডিজাস্টার ফর আইসিসি। এখানে ১০৭টা দেশের সবাই ইনভলভ, এই টাকাটা ডিস্ট্রিবিউট হয়। আমি ওখানেও বললাম যে ক্রিকেট ডিপ্লোমেসিটা এখানে গুরুত্বপূর্ণ। ওয়ার্ল্ড ক্রিকেট এখন চলেই সাবকন্টিনেন্টের ক্রিকেটের ইনফ্লুয়েন্সে। যেখানে ভিউয়ারশিপ সব থেকে বেশি, প্লেয়ারের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। এগুলো মিলিয়ে আমার কাছে মনে হয়েছে, এই খেলাটা হওয়া উচিত। আর এ রকম একটা রোমাঞ্চকর খেলা কেন মানুষ মিস করবে? পাশাপাশি আমাদের যাতে ক্ষতি না হয়, তা নিশ্চিত করাও লক্ষ‍্য ছিল। কারণ, আইসিসি যখন সিদ্ধান্ত নেয়, সেটা চেঞ্জ করা ভেরি ডিফিকাল্ট।

ভারত–পাকিস্তান ম্যাচ হওয়ার পক্ষে ছিলেন আমিনুল
প্রশ্ন

বাংলাদেশ যেহেতু বিশ্বকাপটা খেলছে না, এর জেরে ভবিষ্যতে যেন বাংলাদেশের খেলাগুলোতে কোনোরকমের বাধাবিপত্তি না আসে, সে চেষ্টাও নিশ্চয়ই ছিল?

আমিনুল: হ্যাঁ, ওটাও একটা প্ল্যান ছিল। আমরা মনে করেছিলাম সেটা বড় চ্যালেঞ্জ হবে। কিন্তু আল্লাহর রহমতে ওটাও আমরা ওভারকাম করেছি খুব সুন্দরভাবে। দে (আইসিসি) আর ভেরি মাইল্ড অ্যান্ড কাইন্ড নাউ টু বাংলাদেশ।

প্রশ্ন

বিশ্বকাপে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচটা নিশ্চিত করা আইসিসির প্রথম কাজ ছিল। পাকিস্তানও বুঝলাম বাংলাদেশের পক্ষে। কিন্তু বিসিসিআই (ভারত), মানে ক্রিকেটের যারা সুপারপাওয়ার, তারা পুরো জিনিসটাকে কীভাবে নেবে বলে মনে করেন? বিসিসিআইয়ের সঙ্গে বিসিবির সম্পর্কটা তো সহজ থাকল না...

আমিনুল: এটা সময়ের সঙ্গে ঠিক হয়ে যাবে আশা করি। আর আগামী বছর বাংলাদেশে অনূর্ধ্ব-১৯ নারী বিশ্বকাপ হবে। ক্রিকেটের স্বার্থেই সম্পর্কগুলো ঠিক রাখতে হবে।

প্রশ্ন

যা বোঝা যাচ্ছে, বিশ্বকাপ না খেলায় বাংলাদেশের যে শঙ্কাগুলো ছিল—আর্থিক ক্ষতি এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ভবিষ‍্যৎ, সেগুলো নিয়ে তাহলে আর কোনো দুশ্চিন্তা নেই?

আমিনুল: আমরা একটা অ্যাগ্রিমেন্টও করব। অ্যাগ্রিমেন্টটা হবে লাইন বাই লাইন, এমওইউ ধরনের। যাতে কোনো অনিশ্চয়তা না থাকে। আপনারা জানেন যে এর আগে ঢাকাতে যখন এসিসির এজিএম করলাম, তখনো এ রকম একটা সমস্যা তৈরি হয়েছিল। সেখানেও কিন্তু আমরা একটা এমওইউ ধরনের একটা কাগজ তৈরি করেছিলাম, যেন কেউ কখনো কন্ট্রাক্টে কোনো ধরনের বিচ্যুতি ঘটাতে না পারে। ওই রকম একটা কথাবার্তা আইসিসির সঙ্গেও মোটামুটি ফাইনাল হয়ে আছে।

প্রশ্ন

বাংলাদেশে আইসিসির একটা বাড়তি ইভেন্ট আয়োজনের কথা বলা হচ্ছে। সেটা কী?

আমিনুল: মেয়েদের একটা ওয়ার্ল্ড কাপ বা চ্যাম্পিয়নস ট্রফি—যেকোনো একটা।

বিসিসিআইয়ের সঙ্গে বিসিবির সম্পর্ক সময়ের সঙ্গে ঠিক হয়ে যাবে বলে মনে করেন আমিনুল
প্রশ্ন

এটা কবে নাগাদ হবে?

আমিনুল: এটা ২০২৯-৩০-এ। ২০৩১-এ তো আমাদের আইসিসি পুরুষদের ওয়ার্ল্ড কাপ আছে, যেটা ভারতের সঙ্গে। সেখানে আমরা যাতে একটু বেশি ম্যাচ পাই, সেটাও দেখা হবে। কারণ, ভেন্যুর আকার এবং কমার্শিয়াল পটেনশিয়াল সঙ্গে রেভিনিউ মিলিয়ে ইন্ডিয়া তো অনেক এগিয়ে আমাদের থেকে। তো ওই জায়গাটাতে একটু বেশি পার্সেন্টেজ ম্যাচ নেওয়া; কারণ, ম্যাচ নেওয়া মানে তো হোস্ট ফি পাওয়া। তারা কথা দিয়েছে।

প্রশ্ন

পাকিস্তান সব মিলিয়ে এই ইস‍্যুতে বাংলাদেশকে বিশাল সমর্থন দিল। এটাকে কীভাবে দেখেন?

আমিনুল: এর আগে তারাও কিছু বাইল্যাটারাল সিরিজ, তারপরে ওয়ার্ল্ড কাপে বা চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে একই সমস্যায় পড়েছে। যখন আমাদের এই প্রস্তাবটা যায়, তারা ভুক্তভোগীর অভিজ্ঞতা থেকে এবং একটা ক্রিকেট খেলুড়ে দেশ হিসেবে মনে করেছে যে আমাদের সাহায্য করা উচিত। পাকিস্তান অলআউট বাংলাদেশের জন্য কাজ করেছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার ছিল লাস্ট কলটা, যেটা গত পরশু রাত সাড়ে ১১টার দিকে পাকিস্তান সময়...সেটা কিন্তু আমার ছিল, আমার মানে বাংলাদেশের। বাংলাদেশ কী বলে—এটাই ছিল সবার প্রশ্ন। বিষয়টা এ রকম ছিল যে বাংলাদেশ যদি রাজি হয়, পাকিস্তান হয়তো ভারতের সঙ্গে ম‍্যাচ খেলার কথা ভাববে। আপনারা আইসিসির প্রেস রিলিজ পেয়েছেন। সেখানেও নিশ্চয়ই দেখেছেন, বাংলাদেশের অবস্থানকে কতটা গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

প্রশ্ন

এখন পিসিবির সঙ্গে বিসিবির ভালো সম্পর্ক—অবশ্যই এটা ইতিবাচক। কিন্তু ভারতের সঙ্গে বিসিবির সম্পর্কে এর কোনো নেতিবাচক প্রভাব কি পড়তে পারে? পাকিস্তান–ভারতের সম্পর্ক তো চিরবৈরী, সে জন্যই প্রশ্নটা করা...

আমিনুল: অনেক সময় একটা দেশের ভেতরে একটা সন্দেহ থাকে যে আমার সঙ্গে আমার নীতির সঙ্গে এই লোক যায় কি না। তবে ওই জায়গাটাতে বাংলাদেশ অবশ্যই সম্পর্কের কারণে পাকিস্তানের সঙ্গে আরও ক্লোজ হয়েছে। ওই যে বলছিলাম ঘুড়ি ডিপ্লোমেসি, ওটাও এ রকম কিছু।

প্রশ্ন

ভারতের সঙ্গে ক্রিকেটীয় সম্পর্ক সহজ করার জন্য আলাদা কোনো উদ‍্যোগ কি এখন নেবেন?

আমিনুল: আইসিসি একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছে, আইসিসির বড় স্টেকহোল্ডার তো এশিয়ার এই পাঁচটা দেশ। বিশ্বকাপে ১৫ তারিখ ভারতের সঙ্গে পাকিস্তানের যে ম্যাচটা হবে, তারা চাচ্ছে এশিয়ার এই পাঁচ দেশের প্রতিনিধিদের সবাই মাঠে থেকে একসঙ্গে খেলা দেখবে এবং সবাই সবার সঙ্গে কথা বলবে।

প্রশ্ন

সবাই মানে কি বাংলাদেশ-ভারতও?

আমিনুল: হ‍্যাঁ, সব দেশ।

টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অনুপস্থিতি আমিনুলের জন্য কষ্টদায়ক
প্রশ্ন

এটা কি বরফ গলানোর কোনো পদক্ষেপ?

আমিনুল: ও রকমই একটা কিছু ধরে নিতে পারেন।

প্রশ্ন

সব ক্ষতি না হয় এড়ালেন। কিন্তু বোর্ড সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশের টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে না খেলাটা কতটা হতাশার?

আমিনুল: এটা সরকারের সিদ্ধান্ত ছিল। এটা আমার সময়ে হয়েছে এবং আই হ্যাড টু সাপোর্ট মাই গভর্নমেন্ট। অবশ্যই ব্যক্তিগতভাবে খারাপ লাগবে, তবে বাংলাদেশ অনেক চড়াই-উতরাইয়ের মধ্য দিয়ে গেছে। যে ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা ছিল, আমরা সেগুলো ওভারকাম করেছি। আই ফিল সরি ফর লিটন অ‍্যান্ড হিজ টিম যে ওরা একটা বিশ্বকাপ খেলতে পারল না। তবে সিদ্ধান্তটা ক্রিকেটের ছিল না, এটা আরও ওপর থেকে এসেছে।

প্রশ্ন

শেষ প্রশ্ন, বিশ্বকাপ বয়কটের সিদ্ধান্ত কি একটু তাড়াহুড়া করে নেওয়া হয়েছিল বলে মনে করেন? আরও ভেবেচিন্তে নেওয়া যেত কি?

আমিনুল: ভাবনাচিন্তার চেয়েও সিকিউরিটি থ্রেট এখানে বড় ছিল। আমার মনে হয়, সরকারের সিদ্ধান্তটা আর কোনোভাবে বিবেচনার সুযোগ ছিল না। এখানে পুরো ইকোসিস্টেম ইনভলভড ছিল। খেলোয়াড়দের সিকিউরিটি, আপনাদের সিকিউরিটি—সব।