ঈদের ছুটিতে যাওয়ার আগে মোটরসাইকেলের যত্ন নিতে হবে
ঈদের ছুটিতে যাওয়ার আগে মোটরসাইকেলের যত্ন নিতে হবে

ঈদের ছুটিতে গ্যারেজে মোটরসাইকেল ভালো রাখার ৮ উপায়

ঘরে বা অফিসের গ্যারেজে মোটরসাইকেল রেখে ঈদের ছুটিতে বাড়ি ফিরছেন অনেকে। তবে দীর্ঘদিন না চালালে বা ভালোভাবে না রাখলে মোটরসাইকেলের কার্যক্ষমতা ধীরে ধীরে কমে যায়। আর তাই লম্বা ছুটিতে যাওয়ার আগে এই ৮টি বিষয় মেনে চলতে হবে।

১. পরিষ্কার করে রাখা

ছুটিতে বেড়াতে যাওয়ার আগে অবশ্যই মোটরসাইকেল ভালোভাবে মুছে ফেলতে হবে। লক্ষ রাখতে হবে কোথাও যেন পানি জমে না থাকে। ভেজা মোটরসাইকেল কখনোই ঢেকে রাখবেন না। বাইকে কোনো আঁচড় বা রং নষ্ট হলে তা দ্রুত মেরামত করুন। এতে মরিচা পড়া থেকে রক্ষা পাবে শখের মোটরসাইকেল।

২. ডাবল স্ট্যান্ড ব্যবহার

মোটরসাইকেল দুইভাবে দাঁড় করিয়ে রাখা যায়। অনেকেই একক স্ট্যান্ডের ওপর মোটরসাইকেল রেখে থাকেন, ফলে এক পাশের চাকার ওপর চাপ বেশি পড়ে। আর তাই ছুটিতে যাওয়ার আগে অবশ্যই একক স্ট্যান্ডের বদলে দ্বৈত স্ট্যান্ড বা মেইন স্ট্যান্ডে মোটরসাইকেল রাখতে হবে।

৩. রাখার স্থান নিরাপদ হলে ঘাড় লক না করা

কোরবানির সময় গ্যারেজে পশু রাখা হয়। ফলে মোটরসাইকেলের স্থান পরিবর্তনের প্রয়োজন হতে পারে। আর তাই মোটরসাইকেলের ঘাড় লক না করাই ভালো। কারণ ঘাড় লক অবস্থায় মোটরসাইকেলের স্থান পরিবর্তন করা হলে লকের ওপরের অংশ বা অন্যান্য ক্ষুদ্র যন্ত্রাংশ ভেঙে যেতে পারে। তবে এ ক্ষেত্রে অবশ্যই গ্যারেজটি নিরাপদ কি না, তা নিশ্চিত হতে হবে।

৪. ব্যাটারির সংযোগ বিচ্ছিন্ন

যদি এক সপ্তাহ বা এর বেশি সময় মোটরসাইকেল পার্কিংয়ে রাখার প্রয়োজন হয়, তবে ব্যাটারির সংযোগ খুলে ফেলতে হবে। এতে ব্যাটারির ওপর চাপ পড়বে না। জটিল মনে হলেও এর ফলে ব্যাটারির কোনো ক্ষতি হবে না।

৫. জ্বালানি সংযোগ বিচ্ছিন্ন

কার্বুরেটর চালিত মোটরসাইকেল হলে জ্বালানি প্রবেশের সুইচ বন্ধ করে রাখতে হবে। তবে ফুয়েল ইনজেক্টর বা এফ আই ইঞ্জিনের ক্ষেত্রে এই সুবিধা পাওয়া যাবে না।

৬. ঢেকে রাখা

গ্যারেজে দীর্ঘদিন মোটরসাইকেল রেখে দিলে ধুলাবালু জমে। কোনো কোনো পার্কিংয়ে বৃষ্টির পানি আসার সম্ভাবনাও থাকে। এখন যেহেতু হুটহাট বৃষ্টি হচ্ছে, তাই মোটরসাইকেল অবশ্যই পানি ও ধুলাবালুরোধক আবরণ দিয়ে ভালোভাবে ঢেকে রাখতে হবে।

৭.রিমোট লক বন্ধ

নিরাপত্তার স্বার্থে মোটরসাইকেলে অনেকে রিমোট লক সিস্টেম ব্যবহার করেন। যদি গ্যারেজে বাইক নিরাপদ হয়, সে ক্ষেত্রে আনলক করে বাইকটির রিমোটের ব্যাটারি খুলে ফেলুন। আর যদি ফিক্সড ব্যাটারি হয় সে ক্ষেত্রে ফুল চার্জ দিয়ে আনলক করে রাখুন। নিরাপত্তাসংকেতের লেভেল নামিয়ে রাখুন। গ্যারেজে অ্যালার্ম বাজলে তা বিকট শব্দের কারণ হতে পারে। তবে নিরাপত্তা নিয়ে সংশয় রাখলে অবশ্যই লক করে রাখতে হবে। এতে মোটরসাইকেল কেউ চুরি করতে চাইলে সংকেতের মাধ্যমে নিরাপত্তাকর্মী বা বাসায় থাকা লোকজন সতর্ক হতে পারবে।

৮. বৈদ্যুতিক বাইক বা ই-বাইকের ক্ষেত্রে

রক্ষণাবেক্ষণের ক্ষেত্রে বৈদ্যুতিক বাইকে তেমন কোনো বাড়তি যত্নের দরকার হয় না। তবে দীর্ঘদিন ব্যবহার করা না হলে বাইকের আসনের নিচে সার্কিট ব্রেকারটি অফ করে রাখতে হবে। ব্যাটারি ফুল চার্জ করে রাখা ভালো। বহনযোগ্য ব্যাটারি হলে বাসায় ব্যাটারি রাখা যেতে পারে। আর গ্যারেজে রাখলে চার্জারের সুইচ বন্ধ করে রাখতে হবে।