সানায়ে তাকাইচি
সানায়ে তাকাইচি

জাপানে আগাম নির্বাচনের ভোট গ্রহণ চলছে, তাকাইচির জোটের জয়ের আভাস

জাপানে আজ রোববার প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির ডাকা আগাম সাধারণ নির্বাচনে ভোট গ্রহণ চলছে। নির্বাচনে তাঁর নেতৃত্বাধীন জোট নিরঙ্কুশ জয় পাবে বলে জরিপে আভাস দেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার কয়েক মাসের মাথায় এ নির্বাচনের ডাক দেন তাকাইচি।

জনমত জরিপে দেখা গেছে, তাকাইচির দল লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) ও জাপানিজ ইনোভেশন পার্টির জোট নিম্নকক্ষে ৪৬৫টি আসনের মধ্যে সর্বোচ্চ ৩০০টি আসন পেতে পারে। এতে গত বছর পার্লামেন্টের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারানো এলডিপির জন্য বড় ধরনের ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

রক্ষণশীল নেত্রী তাকাইচি করছাড় ও ভর্তুকির প্রতিশ্রুতি দিয়ে কিছু ভোটারের সমর্থন অর্জন করেছেন। তবে সমালোচকদের মতে, এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে তা জাপানের ধীরগতির অর্থনীতিতে বড় ধরনের চাপ তৈরি করতে পারে।

এবার আগের নির্বাচনের তুলনায় অগ্রিম ভোট কম পড়েছে। এক সপ্তাহ আগে পর্যন্ত প্রায় ৪৬ লাখ ভোটার অগ্রিম ব্যালটে ভোট দিয়েছেন। এটি ২০২৪ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের তুলনায় ২ দশমিক ৫ শতাংশ কম। উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলে ভারী তুষারপাতের কারণে এমনটা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

পর্যবেক্ষকদের মতে, তাকাইচির ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা এ নির্বাচনে এলডিপিকে তাদের অবস্থান শক্তপোক্ত করতে সহায়তা করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

যুক্তরাজ্যের সাবেক নেত্রী মার্গারেট থ্যাচারের ভক্ত হিসেবে পরিচিত তাকাইচি দীর্ঘদিন ধরে জাপানের ‘আয়রন লেডি’ হওয়ার আকাঙ্ক্ষা লালন করছেন। জাপানের প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবেও পরিচিত তিনি। শক্তিশালী প্রতিরক্ষা, জাতীয়তাবাদী নীতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে আবের মতোই অবস্থান তাকাইচির।

জরিপে দেখা যাচ্ছে, ১৮ থেকে ৩০ বছর বয়সী তরুণ ভোটারদের মধ্যে তাকাইচি বিশেষভাবে জনপ্রিয়। গত অক্টোবর মাসে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে চালানো জরিপে তাঁর সরকারের প্রতি সমর্থনের হার বেশির ভাগ সময়ই ৭০ শতাংশের ওপরে থেকেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাকাইচি শক্তপোক্ত অবস্থান গড়ে তুলেছেন। এক্সে তাঁর অনুসারী সংখ্যা ২৬ লাখ। তাঁকে সামনে রেখে এলডিপি যে প্রচার ভিডিও তৈরি করেছে, সেটি ১০ দিনেরও কম সময়ে ১০ কোটির বেশিবার দেখা হয়েছে।

এই আগাম নির্বাচন তাকাইচির জন্য একধরনের ঝুঁকিপূর্ণ পদক্ষেপ। কারণ, এবার তাঁর দলকে তুলনামূলক বেশি ঐক্যবদ্ধ বিরোধী জোটের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। এলডিপির দীর্ঘদিনের সাবেক জোটসঙ্গী কোমেইতো এখন জাপানের কনস্টিটিউশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টির সঙ্গে মিলে নিম্নকক্ষে সবচেয়ে বড় বিরোধী জোট গঠন করেছে।

এলডিপির সামনে আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ, তাদের ব্যয়নির্ভর নীতিগুলো জাপানের আর্থিক সংকটকে আরও বাড়িয়ে তুলবে না—এটি ভোটারদের বোঝানো।

অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির এশিয়া-বিষয়ক জ্যেষ্ঠ গবেষক মাসাহিকো তাকেদা সম্প্রতি এক নিবন্ধে লিখেছেন, সরকারের নীতি প্যাকেজ হয়তো স্বল্প মেয়াদে পরিবারগুলোকে কিছুটা স্বস্তি দেবে। তবে এটি দুর্বল উৎপাদনক্ষমতা ও প্রকৃত মজুরিতে স্থবিরতার মতো সমস্যাগুলো সমাধানে ব্যর্থ হবে।

সোফিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক কোইচি নাকানো মনে করেন, চীনকে ক্ষুব্ধ করার মধ্য দিয়ে তাকাইচি নিজেই পররাষ্ট্র ও নিরাপত্তানীতিকে এক গভীর গর্তে ফেলেছেন।

গত বছরের শেষ দিকে তাকাইচি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, চীন যদি তাইওয়ানে হামলা চালায়, তবে জাপানও তাদের প্রতিরক্ষা বাহিনীকে দিয়ে তার জবাব দেবে। তাকাইচির এমন মন্তব্যে বেইজিং ক্ষুব্ধ হয়। এতে ঐতিহাসিকভাবে উত্তেজনাপূর্ণ দুই দেশের সম্পর্ক এক দশকের বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গেছে।

অন্যদিকে টোকিও তার ঘনিষ্ঠ মিত্র ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্ক আরও স্থিতিশীল করতে চাইছে। তাকাইচি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করেছেন। গত শুক্রবার ট্রাম্প তাকাইচিকে সমর্থন জানিয়েছেন, যা কোনো মার্কিন নেতার জন্য বিরল পদক্ষেপ।