জার্মানিতে বহমান হিমশীতল প্রবল তুষারঝড় ‘এল্লি’ এখনো প্রবহমান। আটলান্টিক মহাসাগর থেকে আসা একটি শক্তিশালী নিম্নচাপ তুষারঝড়ে রূপ নিয়ে জার্মানিতে হানা দেয়। এটি উত্তর জার্মানির পর এখন দক্ষিণ দিকে প্রবাহিত হচ্ছে। উত্তরের ব্রেমেন, হামবুর্গ ও লোয়ারসাক্সনি রাজ্যে প্রচণ্ড তুষারপাতের পর সেখানে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। তবে দক্ষিণ জার্মানির কিছু অংশে তীব্র আবহাওয়ার সতর্কতা জারি করা হয়েছে। প্রয়োজন ছাড়া বাড়ি থেকে বের না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর।
নিম্নচাপ ‘এল্লি’ তুষারঝড়ে রূপ নিয়ে গত তিন দিনে জার্মানির বিভিন্ন অঞ্চলে যানবাহন চলাচল ও দৈনন্দিন জীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত করেছে। উত্তর জার্মানি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখানে এখনো বরফ ও তুষারঝড়ের প্রভাব রয়ে গেছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে রাস্তা, ফুটপাত, ট্রেনলাইনসহ শীতকালীন অন্যান্য পরিষেবা বিভাগ ব্যস্ত সময় পার করছে।
উত্তরে আবহাওয়া পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতির দিকে গেলেও, মধ্য জার্মানি থেকে দক্ষিণাঞ্চল পর্যন্ত তুষারপাতের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, দক্ষিণ-পশ্চিমের বাডেন-ভ্যুর্টেনবার্গ রাজ্যের কিছু অংশে সপ্তাহান্তে চরম আবহাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
জার্মান আবহাওয়া দপ্তরের আবহাওয়াবিদ হেলগা শেফ ‘ডের স্পিগেল’ সংবাদমাধ্যমকে বলেন, পূর্বাভাস অনুযায়ী দক্ষিণাঞ্চলে তুষারপাতের সীমা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৩০০ থেকে ৫০০ মিটার উচ্চতায় থাকবে। আগামীকাল ভোর পর্যন্ত নতুন করে ৪০ সেন্টিমিটার তুষারপাতের আশঙ্কা রয়েছে। ব্ল্যাক ফরেস্টের পাশাপাশি পূর্ব আল্পস এলাকাতেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে নতুন তুষারপাতের আশঙ্কা রয়েছে।
জার্মান আবহাওয়া দপ্তরের তথ্যমতে, পাহাড়ি এলাকায় তাপমাত্রা মাইনাস ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং অন্যান্য অঞ্চলে শূন্য থেকে ৪ ডিগ্রির মধ্যে থাকবে। রাইন উপত্যকায় তাপমাত্রা ৫ ডিগ্রি পর্যন্ত উঠতে পারে। উঁচু পাহাড়ি এলাকায় প্রবল ঝোড়ো হাওয়ার সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এর ফলে তুষারঝড় আরও বিপজ্জনক হতে উঠতে পারে।
দক্ষিণ জার্মানির ব্ল্যাক ফরেস্ট ও ওবার আলগয় এলাকায় আজ শনিবার শীতের প্রকোপ তীব্র হতে পারে। সেখানে ১০ থেকে ৪০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত নতুন তুষারপাতের পূর্বাভাস রয়েছে। তবে তা কোনো এলাকায় ৫০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। এসব অঞ্চলের জন্য চরম আবহাওয়ার সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
জার্মান রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ উত্তরাঞ্চলে দূরপাল্লার ট্রেন চালু করতে চাইলেও পরে তা পিছিয়ে দিয়েছে। দক্ষিণ-পশ্চিম জার্মানিতে ট্রেন চলাচলে বিলম্ব ও ট্রেনসেবা বাতিলের সতর্কতা দেওয়া হয়েছে। কিছু আঞ্চলিক ট্রেন কম গতিতে চলবে। অতি জরুরি না হলে এই পরিস্থিতিতে ভ্রমণ করতে নিষেধ করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।
উত্তর জার্মানির হ্যানোভার শহরে বিভিন্ন পার্ক ও কবরস্থানও বন্ধ রাখা হয়েছে। গত দুই দিনের মতো উত্তর জার্মানির বিভিন্ন শহরে স্কুল বন্ধ রয়েছে। জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। বরফের চাদরে ঢাকা রাস্তা ফাঁকা পড়ে আছে।