ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসের ফুয়ের্তে তিউনায় দেশটির অন্যতম সামরিক কমপ্লেক্সে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ৩ জানুয়ারি
ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসের ফুয়ের্তে তিউনায় দেশটির অন্যতম সামরিক কমপ্লেক্সে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ৩ জানুয়ারি

রাজপথে আমাদের দেখতে পাবেন, ইতিহাস বলবে কারা বিশ্বাসঘাতক: মাদুরোর ছেলে

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

ট্রাম্পের সতর্কবার্তা: মাদুরোর চেয়েও ‘বড় মূল্য’ দিতে হতে পারে রদ্রিগেজকে

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ভেনেজুয়েলার ভাইস প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ ‘যদি সঠিক কাজ না করেন’, তবে নিকোলাস মাদুরোর চেয়েও বড় মূল্য দিতে হতে পারে।

দ্য আটলান্টিক সাময়িকীকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এই সতর্কবার্তা দেন। দেলসি রদ্রিগেজ ইতিমধ্যে ভেনেজুয়েলার সুপ্রিম কোর্টের আদেশে দেশটির অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিয়েছেন।

ট্রাম্প বলেন, দেলসি রদ্রিগেজ যদি সঠিক কাজ না করেন, তাহলে তাঁকে খুব বড় মূল্য দিতে হবে—সম্ভবত তা মাদুরোর চেয়েও বড়।

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে আটক করতে দেশটিতে মার্কিন অভিযানের বিরোধিতা করেছেন দেলসি রদ্রিগেজ। এর জবাবে ট্রাম্প এ সতর্কবার্তা দেন।

মার্কিন বাহিনী মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে আটক করার পর শনিবার ট্রাম্প প্রথমে রদ্রিগেজের প্রশংসা করেছিলেন। তবে রদ্রিগেজ বলেন, তাঁর দেশ প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষা করবে।

মাদুরোকে শক্তি প্রয়োগ করে আটক করার সিদ্ধান্তের পক্ষে সাফাই দিয়ে ট্রাম্প আটলান্টিককে বলেন, ‘আপনি এটাকে পুনর্গঠন বলুন, শাসন পরিবর্তন বলুন—যাই বলুন না কেন—বর্তমান পরিস্থিতির চেয়ে যেকোনো কিছুই ভালো। এর চেয়ে খারাপ হওয়ার আর সুযোগ নেই।’

সূত্র: আল জাজিরা

রাজপথে আমাদের দেখতে পাবেন, ইতিহাস বলবে কারা বিশ্বাসঘাতক: মাদুরোর ছেলে

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোর ছেলে নিকোলা মাদুরো গুয়েরা

নিকোলা মাদুরো গুয়েরা—যুক্তরাষ্ট্রের হাতে আটক ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোর ছেলে। সামরিক অভিযানে রাজধানী কারাকাস থেকে বাবাকে তুলে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় মুখ খুলেছেন তিনি। গুয়েরা এক ভিডিওবার্তায় এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে রাজপথে থাকার কথা বলেছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া ভিডিওতে গুয়েরা বলেন, ‘ভেনেজুয়েলার রাজপথে আপনারা আমাদের দেখতে পাবেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘ইতিহাস বলবে কারা বিশ্বাসঘাতক ছিল।’

স্থানীয় সময় শনিবার কারাকাস থেকে নিকোলা মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে তুলে নিয়ে যায় যুক্তরাষ্ট্র। এখন মাদকসংক্রান্ত অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে তাঁদের বিচার করার ঘোষণা দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। স্থানীয় সময় সোমবার তাঁদের আদালতে তোলার কথা জানা গেছে।

মাদুরোপুত্র গুয়েরার বিরুদ্ধেও যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে মাদক পাচারের অভিযোগ আনা হয়েছে। ভেনেজুয়েলার পার্লামেন্ট সদস্য তিনি। ৩৫ বছর বয়সী গুয়েরা ‘নিকোলাসিতো’ বা ‘রাজপুত্র’ নামেও পরিচিত বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

কিউবার ৩২ নাগরিক নিহত, ট্রাম্প বললেন মাদুরোকে সুরক্ষিত রাখছিল তাঁরা 

মাদুরো নিকোলা ও ডোনাল্ড ট্রাম্প

ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সেনাবাহিনীর অভিযানে কিউবার ৩২ নাগরিক নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির সরকার। এ জন্য কিউবায় দুদিনের শোক ঘোষণা করা হয়েছে।

গতকাল রোববার এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিউ ইয়র্ক পোস্টকে জানান, কিউবার অনেক নাগরিক নিহত হয়েছেন। ট্রাম্প ওই সাক্ষাৎকারে আরও বলেন, ‘তাঁরা মাদুরোকে সুরক্ষিত রাখছিল। এটা ভালো পদক্ষেপ ছিল না।’

ইইউর পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক প্রধান কাজা কালাস

ভেনেজুয়েলা ইস্যুতে সব পক্ষকে শান্ত থাকার আহ্বান ইইউর

ভেনেজুয়েলা ইস্যুতে সব পক্ষকে ‘শান্ত ও সংযত’ থাকার আহ্বান জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। উদ্ভূত সংকট যেন কোনোভাবেই বড় ধরনের সংঘাতের দিকে না যায়, সে বিষয়েও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

ইইউর পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক প্রধান কাজা কালাস জোটের পক্ষ থেকে একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করেছেন। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘ভেনেজুয়েলার জনগণের নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকারকে অবশ্যই সম্মান জানাতে হবে।’ এতে আরও উল্লেখ করা হয় যে, জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলনই ভেনেজুয়েলায় গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও বর্তমান সংকট সমাধানের একমাত্র পথ।

ইইউর সব সদস্য দেশ এই বিবৃতিতে সই করলেও হাঙ্গেরি এতে অংশ নেয়নি। কেন দেশটি এই বিবৃতিতে সই করা থেকে বিরত থাকল, সে বিষয়ে হাঙ্গেরির প্রতিনিধি দলের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

ভেনেজুয়েলায় বিদেশি হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে পাঁচ দেশের হুঁশিয়ারি

ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বাইরের কোনো দেশের ‘নিয়ন্ত্রণ’ বা হস্তক্ষেপের চেষ্টার বিরুদ্ধে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে লাতিন আমেরিকার পাঁচটি দেশ। দেশগুলো হলো— ব্রাজিল, চিলি, কলম্বিয়া, মেক্সিকো ও উরুগুয়ে। খবর আল–জাজিরার।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার শাসনভার গ্রহণ এবং দেশটির তেলের খনিগুলো নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার ইঙ্গিত দেওয়ার পর এই যৌথ প্রতিক্রিয়া এল। এক বিবৃতিতে দেশগুলো জানিয়েছে, ভেনেজুয়েলার সরকার বা প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর বিদেশি কোনো শক্তির নিয়ন্ত্রণ বা প্রশাসনিক আধিপত্য প্রতিষ্ঠার যেকোনো প্রচেষ্টাকে তারা প্রত্যাখ্যান করছে।

বিবৃতিতে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করতে মার্কিন বাহিনীর ভূমিকার তীব্র নিন্দা জানানো হয়। দেশগুলো একে অন্যের আঞ্চলিক অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার আহ্বান জানিয়েছে।

এদিকে মাদুরোর মিত্ররা এখনো সরকারের মূল দায়িত্বে রয়েছেন। তারা মাদুরোকে আটকের ঘটনাকে সাম্রাজ্যবাদী শক্তির জ্বালানি তেল কুক্ষিগত করার চক্রান্ত হিসেবে অভিহিত করেছেন। ভেনেজুয়েলার প্রতিরক্ষামন্ত্রী এক ঘোষণায় জানিয়েছেন, যেকোনো বিদেশি ‘আগ্রাসন’ মোকাবিলায় তাদের সামরিক বাহিনী পুরোপুরি প্রস্তুত।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

আমাদের গ্রিনল্যান্ড দরকার: ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, অন্য দেশগুলিও মার্কিন হস্তক্ষেপের আওতায় আসতে পারে। ন্যাটোর সদস্য ডেনমার্কের অংশ গ্রিনল্যান্ড সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমাদের গ্রিনল্যান্ড দরকার, একেবারেই দরকার।’

দ্য আটলান্টিক সাময়িকীকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এ কথা বলেন।

সূত্র: আল জাজিরা

মার্কিন হামলার পর ভেনেজুয়েলার সর্ববৃহৎ সামরিক কেন্দ্র ফুয়ের্তে তিউনায় আগুন ধরে যায়। ৩ জানুয়ারি

ভেনেজুয়েলায় অভিযানে আহত মার্কিন সেনাদের শারীরিক অবস্থা ‘স্থিতিশীল’: সিএনএন

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার অভিযানের সময় আহত সব মার্কিন সেনার শারীরিক অবস্থা ‘স্থিতিশীল’ রয়েছে বলে জানা গেছে।

রোববার মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের খবরে হোয়াইট হাউসের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, অভিযানে আহত সেনাদের আঘাত ছিল ‘হালকা’ এবং আহত সবাই ‘স্থিতিশীল ও ভালো অবস্থায়’ আছেন। তবে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত বলতে অস্বীকৃতি জানান। সেনার সংখ্যাও উল্লেখ করেননি।

এর আগে শনিবার সিএনএন ওয়াকিবহাল একটি সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছিল, ভেনেজুয়েলায় অভিযানের সময় কিছু সেনা আহত হন, তবে তা প্রাণঘাতী নয়।

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোর সঙ্গে প্রতিরক্ষামন্ত্রী ভ্লাদিমির পাদ্রিনো

মাদুরোর নিরাপত্তা দলের ‘বড় অংশ’ মার্কিন হামলায় নিহত হয়েছে: ভেনেজুয়েলার প্রতিরক্ষামন্ত্রী

ভেনেজুয়েলার প্রতিরক্ষামন্ত্রী ভ্লাদিমির পাদ্রিনো বলেছেন, মার্কিন অভিযানে নিকোলা মাদুরো আটক হওয়ার সময় তাঁর নিরাপত্তা দলের সদস্যদের একটি বড় অংশ নিহত হয়েছে। টেলিভিশনে দেওয়া বক্তব্যে পাদ্রিনো এ কথা বলেন। তবে কতজন নিহত হয়েছে, সে কথা উল্লেখ করেননি তিনি।

যুক্তরাষ্ট্র শনিবার ভেনেজুয়েলায় অভিযান চালিয়ে প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে আটক করে নিউইয়র্কে নিয়ে যায়। এরপর ভেনেজুয়েলার আদালতের আদেশে দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেন।

ডেলসি রদ্রিগেজের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পাদ্রিনো। প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেছেন, ভেনেজুয়েলার সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করতে সারা দেশে সশস্ত্র বাহিনীকে সক্রিয় করা হয়েছে।

সূত্র: আল জাজিরা

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও

এটি মধ্যপ্রাচ্য নয় এবং এখানে আমাদের মিশন অনেক ভিন্ন, ভেনেজুয়েলা প্রসঙ্গে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার অবশিষ্ট নেতাদের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত, যদি সেই নেতারা ‘সঠিক সিদ্ধান্ত’ নেয়।

আজ রোববার মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএসের ‘ফেস দ্য নেশন’ অনুষ্ঠানে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও এ কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘তাঁরা (ভেনেজুয়েলার নেতারা) কী করে তার ওপর ভিত্তি করে আমরা বিবেচনা করব। দেখব, তারা কী করে।’

রুবিও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলা পুনর্গঠনে জড়িয়ে পড়তে চায় না। তিনি উল্লেখ করেন, পররাষ্ট্রনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা সবকিছুকে লিবিয়া, সবকিছুকে ইরাক, সবকিছুকে আফগানিস্তান মনে করে— যা ইতিপূর্বে যুক্তরাষ্ট্রের বিদেশে হস্তক্ষেপের উদাহরণ। রুবিও বলেন, এটি মধ্যপ্রাচ্য নয়, এবং এখানে আমাদের মিশন অনেক ভিন্ন।

সূত্র: আল জাজিরা

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও

ভেনেজুয়েলার বিষয়ে ‘সব বিকল্প রাখবে’ যুক্তরাষ্ট্র: মার্কিন  পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও

ভেনেজুয়েলার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ‘সব বিকল্প রাখবে’ বলে জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। আজ রোববার মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর সঙ্গে আলাপকালে রুবিও এ কথা জানান।

মার্কো রুবিওকে প্রশ্ন করা হয়, ভেনেজুয়েলা যদি অভিবাসন ও মাদক পাচার নিয়ে মার্কিন উদ্বেগ মেটাতে ব্যর্থ হয়, তখন কী হবে। জবাবে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র মাদুরোকে আটক হওয়ার আগে যেসব বিকল্প রেখেছিল, তা সবই বজায় রাখবে।

এর অর্থ হলো, যুক্তরাষ্ট্রের আদালতের আদেশ অনুযায়ী ভেনেজুয়েলার দিকে যাওয়া নিষিদ্ধ ট্যাংকারগুলো জব্দ করা হবে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এটি তাদের (ভেনেজুয়েলা) ভবিষ্যতের জন্য কতটা বিধ্বংসী তা আমি অতিরিক্তভাবে বলতে পারি না।’ তিনি জোর দিয়ে বলেন, বিকল্পটি হলো ভেনেজুয়েলার তেলশিল্প শুধু কিছু ব্যক্তিকে নয়, প্রকৃতপক্ষে সাধারণ মানুষকে উপকৃত করবে।

এর আগে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলা থেকে যা চায়, তা না পেলে আবার হামলা চালানো হবে।

সূত্র: বিবিসি

মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ

যুক্তরাষ্ট্র যা চায়, তা না পেলে ভেনেজুয়েলায় আবার হামলা: মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী

ভেনেজুয়েলায় আবার হামলা চালানো হতে পারে বলে হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলা থেকে যা চায়, তা না পেলে আবার হামলা চালানো হবে।

আল জাজিরার খবরে বলা হয়, মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথ বলেছেন, ভেনেজুয়েলার পরবর্তী পরিস্থিতি নির্ভর করবে মূলত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের ওপর। হেগসেথ সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, মার্কিন সামরিক বাহিনী এখনো অঞ্চলে রয়েছে এবং তারা যা চায় তা না পেলে ভেনেজুয়েলায় আরও একবার হামলা চালানো হতে পারে।

মাদুরোকে আটকের পর ভেনেজুয়েলায় প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিয়েছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজে। মূলত ডেলসি রদ্রিগেজের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে ডেলসি বলেছেন, তিনি এখনো মনে করেন মাদুরো ভেনেজুয়েলার বৈধ নেতা এবং যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নতি স্বীকার করবেন না।

এটি ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য সমস্যা সৃষ্টি করছে।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরো। গত ৭ মে ক্রেমলিনে

মাদুরোর মুক্তি চায় রাশিয়া

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে মুক্তি দিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে রাশিয়া। ভেনেজুয়েলায় হামলা চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তারের নিন্দাও জানিয়েছে মস্কো।

রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে আছেন—এমন নিশ্চিত প্রতিবেদনের প্রেক্ষাপটে আমরা যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বকে তাদের অবস্থান পুনর্বিবেচনা করার আহ্বান জানাই; একটি সার্বভৌম দেশের বৈধভাবে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ও তাঁর স্ত্রীকে মুক্তি দেওয়ার জন্য জোরালো আহ্বান জানাই।’

পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক থিঙ্ক ট্যাংক ভ্যালদাই ডিসকাশন ক্লাবের সদস্য আন্দ্রেই কোরতুনভ বলেন, ভেনেজুয়েলায় সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে রাশিয়ার জন্য এখন অনেক দেরি হয়ে গেছে। তবে মস্কো এখন লাতিন আমেরিকায় তার মিত্রদের কীভাবে সমর্থন দেবে, সে বিষয়টি নতুন করে মূল্যায়ন করবে।

সূত্র: আল জাজিরা

যুক্তরাষ্ট্রে মাদুরোকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে

যুক্তরাষ্ট্রে বন্দী দশায় ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরো। হোয়াইট হাউসের প্রকাশ করা ভিডিও থেকে নেওয়া ছবি

মাদক চোরাচালানের অভিযোগে করা মামলায় ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে জিজ্ঞাবাসাদ করা হচ্ছে। শনিবার শেষ রাতে ভেনেজুয়ালার রাজধানী কারাকাস থেকে স্ত্রীসহ তাকে তুলে নিয়ে যায় মার্কিন বাহিনী। তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে একটি আটককেন্দ্রে রাখা হয়েছে। সেখানেই তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

কারাকাসসহ ভেনেজুয়েলার বিভিন্ন জায়গায় গতকাল ভোরে ‘বড় পরিসরে’ হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী। যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় এদিন ভোর ৪টা ২১ মিনিটে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বার্তায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ তথ্য জানান।

ট্রাম্প লেখেন, ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে ধরতে এক ‘দুঃসাহসিক অভিযান’ চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সেনাবাহিনীর ডেল্টা ফোর্সসহ মার্কিন এলিট সেনারা মাদুরোর ‘সেফ হাউস’ বা নিরাপদ আবাসস্থল থেকে তাঁকে ও তাঁর স্ত্রীকে তুলে আনেন।

এর পর থেকে মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীর হদিস পাওয়া যাচ্ছিল না। প্রায় ৭ ঘণ্টা পর ট্রাম্প নিজে ‘আটক’ মাদুরোর ছবি ট্রুথ সোশ্যালে প্রকাশ করেন। ছবিতে দেখা যায়, মাদুরোর চোখ বাঁধা ও হাতে হাতকড়া। পরনে ধূসর রঙের নরম কাপড়ের তৈরি ট্রাউজার-জ্যাকেট। বলা হয়, ছবিটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস আইডব্লিউও জিমায় তোলা।

গতকাল ভোরেই কারাকাস থেকে যুক্তরাষ্ট্রের হেলিকপ্টারে নিকোলা মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে উড়িয়ে নেওয়া হয়। গন্তব্য ছিল মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস আইডব্লিউও জিমা। ক্যারিবীয় সাগরের কোনো এক অজানা জায়গায় যুদ্ধজাহাজটি অবস্থান করছিল।

এরপর যুদ্ধজাহাজটি মাদুরোকে কিউবার গুয়ানতানামো বে মার্কিন নৌঘাঁটিতে নিয়ে যায়। সেখান থেকে উড়োজাহাজে করে মাদুরোকে নেওয়া হয় নিউইয়র্কে।

সূত্র: আল-জাজিরা

মাদুরোকে তুলে আনায় ট্রাম্পকে স্যালুট জানালেন নেতানিয়াহু

নিকোলা মাদুরোকে (বাঁয়ে) তুলে আনায় ডোনাল্ড ট্রাম্পকে (মাঝে)অভিনন্দন জানিয়েছেন বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু (ডানে)

ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান চালানো এবং সস্ত্রীক দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে তুলে আনার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অভিনন্দন জানিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।

আজ রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট দিয়ে এ অভিনন্দন জানান তিনি।

ট্রাম্পকে ট্যাগ করে দেওয়া ওই পোস্টে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী লেখেন, ‘স্বাধীনতা আর ন্যায়বিচারের পক্ষে সাহসী ও ঐতিহাসিক নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অভিনন্দন। আপনার দৃঢ় সংকল্প এবং আপনার সাহসী সেনাদের দুর্দান্ত পদক্ষেপকে আমি স্যালুট জানাই।’ সূত্র: আল–জাজিরা

মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে তুলে আনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ যুক্তরাষ্ট্রে, দেখুন ছবিতে

ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সামরিক অভিযানে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে তুলে আনার ঘটনায় শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ হয়েছে। ওয়াশিংটনে হোয়াইট হাউসের সামনে শ খানেক মানুষ জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেন। একই ধরনের বিক্ষোভ হয়েছে নিউইয়র্কের টাইমস স্কয়ারেও। লস অ্যাঞ্জেলস ও লাস ভেগাসে বিক্ষোভের খবর পাওয়া গেছে।

বিক্ষোভকারীদের হাতে ‘নো ব্লাড, নো অয়েল’ লেখা প্ল্যাকার্ড। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের টাইমস স্কয়ারে

মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে তুলে নিতে যুক্তরাষ্ট্রকে সাহায্য করল কে

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোর ছবি নিজের ট্রুথ সোশ্যালে প্রকাশ করছেনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা হঠাৎ ঘটেনি। রয়টার্সের খবরে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানানো হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম জটিল এই অভিযানের পরিকল্পনা চলছিল কয়েক মাস ধরেই। ছিল অভিযানের পুঙ্খানুপুঙ্খ মহড়াও।

রাজধানী কারাকাসসহ ভেনেজুয়েলার বিভিন্ন জায়গায় স্থানীয় সময় গতকাল শনিবার ভোররাতে ‘বড় পরিসরে’ হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী। অভিযানে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে তুলে আনা হয়। মাদুরো এখন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে একটি আটককেন্দ্রে আছেন। ফ্লোরেসের অবস্থান নিশ্চিত জানা যায়নি।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বার্তায় জানান, প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে ধরতে এক ‘দুঃসাহসিক অভিযান’ চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

জানানো হয়, সামরিক বাহিনীর ডেল্টা ফোর্সসহ মার্কিন এলিট সেনারা মাদুরোর ‘সেফ হাউস’ বা নিরাপদ আবাসস্থল থেকে মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে তুলে আনেন।

সেনাবাহিনীর ডেল্টা ফোর্সসহ মার্কিন এলিট সেনারা মাদুরোর ‘সেফ হাউস’ বা নিরাপদ বাসস্থলের একটি হুবহু প্রতিকৃতি তৈরি করেছিলেন। অত্যন্ত সুরক্ষিত সেই বাসভবনে তাঁরা কীভাবে প্রবেশ করবেন, তার অনুশীলনও চালিয়েছিলেন সেনারা।

একটি সূত্রের তথ্যমতে, ট্রাম্পের জ্যেষ্ঠ সহযোগী স্টিফেন মিলার, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং সিআইএ পরিচালক জন র‍্যাটক্লিফ এই বিষয়টি নিয়ে কাজ করার জন্য একটি ‘কোর টিম’ গঠন করেছিলেন। তাঁরা কয়েক মাস ধরে নিয়মিত, কখনো কখনো প্রতিদিন বৈঠক ও ফোনে আলাপ করেছেন। এ বিষয় নিয়ে তাঁরা প্রায়ই প্রেসিডেন্টের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করতেন।

বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একটি সূত্রের দেওয়া তথ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর একটি ছোট দল গত আগস্ট মাস থেকেই সেখানে অবস্থান করছিল। তারা মাদুরোর জীবনযাত্রার ধরন সম্পর্কে এমন গভীর ধারণা দিতে সক্ষম হয়েছিল, যা তাঁকে ধরার কাজটি সহজ করে দেয়।

অন্য দুটি সূত্র রয়টার্সকে জানায়, সিআইএর একজন ‘অ্যাসেট’ বা তথ্যদাতা ছিলেন, যিনি মাদুরোর খুবই ঘনিষ্ঠ। ওই ব্যক্তি মাদুরোর গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করতেন। অভিযান চলাকালে তাঁর একবারে সঠিক অবস্থানের তথ্য দেওয়ার জন্য প্রস্তুত ছিলেন।

ট্রাম্পের ভেনেজুয়েলা হামলাকে ‘নির্লজ্জ সাম্রাজ্যবাদ’ বললেন বার্নি স্যান্ডার্স

মার্কিন সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স

যুক্তরাষ্ট্রের বামঘেঁষা স্বতন্ত্র সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স বলেছেন, ভেনেজুয়েলায় ট্রাম্পের এই হামলা যুক্তরাষ্ট্র বা বিশ্বকে আরও নিরাপদ করবে না।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে বার্নি বলেন, ‘বরং এটি (ভেনেজুয়েলায় অভিযান) উল্টো ফল দেবে। আন্তর্জাতিক আইনের এই নির্লজ্জ লঙ্ঘন পৃথিবীর যেকোনো দেশকে অন্য কোনো দেশ আক্রমণ করার, সম্পদ দখল করার বা সরকার পরিবর্তন করার সুযোগ করে দেবে।’

স্যান্ডার্স প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই পদক্ষেপকে ইউক্রেনে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের আগ্রাসনের সঙ্গে তুলনা করেছেন। তিনি বলেন, ‘পুতিন ইউক্রেনে তাঁর নৃশংস হামলাকে বৈধ করতে যে ভয়াবহ যুক্তি ব্যবহার করেছিলেন, এটিও ঠিক সেই একই রকম।’

প্রবীণ এই সিনেটর আরও যোগ করেন, ‘আসুন আমরা কোনো ভুল না করি। এটি স্রেফ নির্লজ্জ সাম্রাজ্যবাদ। এটি লাতিন আমেরিকায় মার্কিন হস্তক্ষেপের সেই অন্ধকার দিনগুলোর কথা মনে করিয়ে দেয়, যা এক ভয়াবহ কলঙ্ক রেখে গেছে। গণতান্ত্রিক বিশ্বের উচিত এর নিন্দা জানানো এবং তারা তা করবেও।’ সূত্র সিএনএন।

মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে মুক্তি দিতে বলল চীন 

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরো (ডানে) ও তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেস। ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে

ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সামরিক অভিযানে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে তুলে আনার ঘটনাকে ‘আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন’ বলেছে চীন। সেই সঙ্গে মাদুরো দম্পতিকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বেইজিং।

আজ রোববার চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এমন আহ্বান জানানো হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে জোরপূর্বক আটক করা এবং দেশ থেকে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় চীন গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে।

তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা

মাদুরো এখন ব্রুকলিনের আটককেন্দ্রে: বিবিসি

ম্যানহাটানের ওয়েস্টসাইড হেলিপোর্টে নামছে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে বহনকারী হেলিকপ্টার । নিউইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট্র, ৩ জানুয়ারি ২০২৬

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের ব্রুকলিনে অবস্থিত মেট্রোপলিটন ডিটেনশন সেন্টারে (এমডিসি) নেওয়া হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের বরাত দিয়ে মাদুরোকে এমডিসিতে নেওয়ার বিষয়টি জানিয়েছে বিবিসি।

লাতিন আমেরিকার দেশটির রাজধানী কারাকাস থেকে তুলে আনার পর তাঁকে প্রায় ২ হাজার ১০০ মাইল পাড়ি দিয়ে এই আটক কেন্দ্রে নেওয়া হয়।

আগামী সপ্তাহে ম্যানহাটনের ফেডারেল আদালতে মাদক ও অস্ত্রের মামলায় আইনি লড়াইয়ের মুখোমুখি হওয়ার আগে মাদুরোকে এই কেন্দ্রে রাখা হবে বলে জানা গেছে।

গতকাল শনিবার ভোরে ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে অভিযান চালিয়ে প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে তুলে আনে মার্কিন সেনাবাহিনীর ডেল্টা ফোর্স। সঙ্গে আনা হয় মাদুরোর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকেও। তবে ফ্লোরেস এখন কোথায় আছেন, সেই বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

ট্রাম্পের হামলা ও মাদুরোকে তুলে নেওয়ার পর ভেনেজুয়েলাবাসীকে বিনা মূল্যে ইন্টারনেট দিচ্ছে স্টারলিংক 

স্টারলিংক

ভেনেজুয়েলার জনগণকে বিনা মূল্যে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট পরিসেবা দেওয়ার কথা জানিয়েছে স্টারলিংক। বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্কের স্যাটেলাইটভিত্তিক ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান এটা।

লাতিন আমেরিকার দেশটিতে ‘বড় পরিসরে’ মার্কিন সামরিক অভিযান পরিচালনা এবং প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে তুলে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে নিয়ে আসার পর স্টারলিংক এ ঘোষণা দিয়েছে বলে জানিয়েছে বিবিসি।

এক্সে দেওয়া এক পোস্টে স্টারলিংক জানায়, আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ভেনেজুয়েলার জনগণকে বিনা মূল্যে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট পরিষেবায় প্রবেশাধিকার দেওয়া হবে। অর্থাৎ, ভেনেজুয়েলাবাসী বিনা মূল্যে স্টারলিংকের নির্বিঘ্ন সংযোগ পাবেন।

ভেনেজুয়েলায় মার্কিন হামলায় অন্তত ৪০ জন নিহত: নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন

কারাকাসের লা কারলোতা সামরিক বিমান ঘাঁটিতে মার্কিন হামলায় ধ্বংস হয়ে যাওয়া একটি বিমান বিধ্বংসী ইউনিট। ৩ জানুয়ারি, ২০২৬

ভেনেজুয়েলায় স্থানীয় সময় গতকাল শনিবার শেষরাতে মার্কিন বাহিনীর হামলায় অন্তত ৪০ জন নিহত হয়েছেন বলে নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

প্রাথমিক মূল্যায়নের বরাত দিয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভেনেজুয়েলার এক কর্মকর্তা এই তথ্য জানিয়েছেন। নিউইয়র্ক টাইমস-এর খবরে বলা হয়েছে, নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে বেসামরিক নাগরিক এবং সামরিক বাহিনীর সদস্যরা রয়েছেন। কারাকাস বিমানবন্দরের পশ্চিমে অবস্থিত উপকূলীয় এলাকা কাতিয়া লা মার-এর একটি তিনতলা আবাসিক ভবনে মার্কিন যুদ্ধবিমান হামলা চালায়।

নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে রোজা গঞ্জালেজ নামে ৮০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধা এবং তাঁর পরিবারের সদস্যরা রয়েছেন। ওই হামলায় আরও এক ব্যক্তি আহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।

উইলম্যান গঞ্জালেস নামে এক ব্যক্তি ওই হামলায় আহত হয়েছেন এবং তাঁর বাড়ি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাঁকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, তিনি এখন কোথায় যাবেন। জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি জানি না’।

ওই ব্যক্তির ৭০ বছর বয়সী প্রতিবেশী জর্জ নামের এক ব্যক্তি টাইমসকে বলেন, এই বিমান হামলায় তিনি সবকিছু হারিয়েছেন।

ভেনেজুয়েলার কোথায় কোথায় হামলা চালাল যুক্তরাষ্ট্র: বিবিসি

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে আটক করতে রাজধানী কারাকাস ও আশপাশের এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় বিভিন্ন স্থানে বিস্ফোরণ, আগুন ও ধোঁয়া উড়তে দেখা গেছে। বিবিসি এমন বেশ কয়েকটি ভিডিওর সত্যতা যাচাই করে এখন পর্যন্ত পাঁচটি স্থানে হামলার বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছে। সেগুলো হলো-

  • লা কারলোতা নামে পরিচিত জেনেরালিসিমো ফ্রান্সিসকো দ্য মিরান্ডা বিমান ঘাঁটি

  • ফুয়ের্তে তিউনা, কারাকাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা

  • পোর্ত লা গুয়েরা, ক্যারিবীয় সাগরের সঙ্গে কারাকাসের প্রধান সংযোগ বন্দর, এটি মিরান্ডা অঙ্গরাজ্যে অবস্থিত

  • হিগুয়েরোতে বিমানবন্দর, কারাকাসের ঠিক পূর্বে মিরান্ডা অঙ্গরাজ্যে অবস্থিত

  • আন্তেনাস এল ভলকান, এটি সেরো এল ভলকানে অবস্থিত টেলিকম টাওয়ার, মিরান্ডা অঙ্গরাজ্যের সুউচ্চ শৃঙ্গ

হামলার পর ভেনেজুয়েলা, দেখুন ছবিতে 

যুক্তরাষ্ট্রের হামলা এবং প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর চরম অনিশ্চয়তায় পড়া ভেনেজুয়েলার বাসিন্দারা খাদ্যপণ্য কিনতে সুপারমার্কেটগুলোতে ভিড় করেছেন। ৩ জানুয়ারি, ২০২৬

প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করবেন ভেনেজুয়েলার ভাইস প্রেসিডেন্ট: আদালতের নির্দেশ 

দেলসি রদ্রিগুয়েজ

ভেনেজুয়েলার ভাইস প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগুয়েজ দেশটির ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। ভেনেজুয়েলার আদালত এমন আদেশ দিয়েছেন।

স্থানীয় সময় শনিবার রাতে ভেনেজুয়েলার আদালত এই আদেশ দেন। আদালত বলেছেন, মাদুরো তাঁর দায়িত্ব পালনে সাময়িকভাবে অক্ষম অবস্থায় রয়েছেন। রদ্রিগুয়েজ ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে সব দায়িত্ব পালন করবেন।

আদালতের আদেশে আরও বলা হয়, রদ্রিগুয়েজ প্রেসিডেন্টের সব ক্ষমতা, কর্তব্য ও দায়িত্বসমূহ কার্যকর করার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত। তিনি অস্থায়ী প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন, যাতে প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা এবং দেশের সার্বিক প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করা যায়।

ভেনেজুয়েলার সংবিধান অনুযায়ী, প্রেসিডেন্টের সাময়িক বা স্থায়ী অনুপস্থিতির ক্ষেত্রে ভাইস প্রেসিডেন্ট তাঁর স্থলাভিষিক্ত হবেন।

যুক্তরাষ্ট্র যা চায় রদ্রিগুয়েজ যদি তা মেনে নেন, তবে যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলা দখল করবে না বলে আগেই বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

সূত্র: সিএনএন, রয়টার্স

গভীর উদ্বেগ জানালেন জাতিসংঘ মহাসচিব 

জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ

ভেনেজুয়েলার পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে বৈঠক ডাকা হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) এ বৈঠক হওয়ার কথা।

মার্কিন সামরিক অভিযান ও ভেনেজুয়েলায় প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে সস্ত্রীক তুলে আনার ঘটনায় ‘গভীর উদ্বেগ’ জানিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। মহাসচিবের মুখপাত্র সতর্ক করে বলেছেন, এসব হামলার ঘটনা ‘বিপজ্জনক নজির’ সৃষ্টি করতে পারে।

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের দুই স্থায়ী সদস্য চীন ও রাশিয়া হামলার নিন্দা জানিয়েছে। এ দুটি দেশ ভেনেজুয়েলার মিত্র হিসেবে পরিচিত।

অপর দুই স্থায়ী সদস্য এবং মার্কিন মিত্র ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য ক্ষমতা থেকে মাদুরোর অপসারণকে স্বাগত জানিয়েছে। দেশ দুটি বলেছে, তারা ভেনেজুয়েলায় গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের প্রত্যাশা করছে।

তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা

তেলের জন্যই এ রক্তপাত, বললেন মার্কিন কংগ্রেসম্যান

মার্কিন বাহিনীর ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান চালিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে সস্ত্রীক তুলে আনার ঘটনাটিকে ‘তেলের জন্য রক্তপাত’ বলে মন্তব্য করেছেন জ্যাক অচিনক্লজ। তিনি ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্য থেকে নির্বাচিত মার্কিন পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের ডেমোক্র্যাট দলীয় সদস্য।

শনিবার সিএনএনকে কংগ্রেসম্যান জ্যাক বলেন, ‘তেলের জন্যই এ রক্তপাত। এর সঙ্গে মাদক পাচারের কোনো সম্পর্ক নেই। মাদকের বেশির ভাগই ইউরোপের দেশগুলোয় যায়। আর কোকেন সেই মাদক নয়, যেটি মার্কিনিদের প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে। বরং সেটা ফেন্টানিল, যা চীন থেকে আসে।’

জ্যাক আরও বলেন, ‘এ বিষয়টা বরাবরই আলোচনায় ছিল, বিশ্বের বুকে জ্বালানি তেলের সবচেয়ে বড় মজুত রয়েছে ভেনেজুয়েলাতে।’

ওয়াশিংটন তাঁর এসব পদক্ষেপকে ন্যায্যতা দিয়েছে এই যুক্তিতে যে, প্রেসিডেন্ট মাদুরো, তাঁর স্ত্রী আর ভেনেজুয়েলার অন্যান্য সুপরিচিত ব্যক্তিরা মাদক-সন্ত্রাসবাদ, মাদক পাচার ও অন্যান্য অপরাধের জন্য দায়ী। যদিও কারাকাসের পক্ষ থেকে বরাবরই এসব অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে।

ট্রাম্পের এমন পদক্ষেপের বিষয়ে জ্যাক বলেন, ‘শেভরনের (যুক্তরাষ্ট্রের তেল কোম্পানি) কাছে ভেনেজুয়েলার তেলের মজুত কাজে লাগানোর চুক্তি ও অর্থ বিভাগের অনুমতি রয়েছে। এই প্রেসিডেন্ট (ট্রাম্প) মার্কিন তেল কোম্পানিগুলোর প্রধানদের কাছে তাঁর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণ করছেন।’

মাদুরোকে ‘অপরাধীর মতো হাঁটিয়ে নেওয়ার’ ভিডিও প্রকাশ করল হোয়াইট হাউস

নিকোলা মাদুরোর `অপরাধীকে জনসমক্ষে হাঁটিয়ে নেওয়ার মতো' একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে হোয়াইট হাউসের সরকারি র‍্যাপিড রেসপন্স অ্যাকাউন্ট

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে `অপরাধীকে জনসমক্ষে হাঁটিয়ে নেওয়ার মতো' একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে হোয়াইট হাউসের সরকারি র‍্যাপিড রেসপন্স অ্যাকাউন্ট। খবর সিএনএনের।

ভিডিওটির ওপর ‘র‍্যাপিড রেসপন্স ৪৭’ লিখেছে, ‘পার্প ওয়াক (অপরাধীকে জনসমক্ষে হাঁটিয়ে নেওয়া) করানো হলো।’ ভিডিওতে দেখা যায়, কালো হুডি পরা অবস্থায় মাদুরো একটি করিডোর দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন। সেখানকার নীল রঙের কার্পেটে ‘ডিইএ এনওয়াইডি’ (মাদক নিয়ন্ত্রণ সংস্থা-ডিইএ, নিউইয়র্ক বিভাগ) লেখা রয়েছে।

ভিডিওটিতে মাদুরোকে সেখানে উপস্থিত এক ব্যক্তিকে ‘শুভ নববর্ষ’ বলে শুভেচ্ছা জানাতে দেখা যায়।

মাদুরোকে নিউইয়র্কে নেওয়া হলেও খোঁজ নেই স্ত্রীর

স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে নিয়ে সমর্থকদের অভিবাদনের জবাব দিচ্ছেন ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরো। কারাকাস, ভেনেজুয়েলা

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে নিউইয়র্কের স্টুয়ার্ট আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দেখা গেলেও তাঁর সঙ্গে স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেস ছিলেন না। হোয়াইট হাউস এর আগে বলেছে, মাদুরোর সঙ্গে তাঁর স্ত্রীকেও আটক করা হয়েছে।খবর আল জাজিরার।

নিউইয়র্কের নিউ উইন্ডসরে অবতরণ করা বোয়িং ৭৫৭ উড়োজাহাজে ফ্লোরেস ছিলেন না তা নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। মাদক পাচার ও কোকেন আমদানির অভিযোগে করা মামলায় মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী দুজনেরই নিউ ইয়র্কের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্টে হাজিরা দেওয়া কথা। কিন্তু মাদুরোর সঙ্গে স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে নামতে দেখা যায়নি।

হোয়াইট হাউস এ বিষয়ে কোনো তথ্য জানায়নি।

তবে বিবিসির খবর বলছে, নিকোলা মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে একটি হেলিকপ্টারে ব্রুকলিনের মেট্রোপলিটন ডিটেনশন সেন্টারে নেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

হাডসন নদীর কাছে তিনটি হেলিকপ্টার উড়ে যেতে দেখা গেছে। স্ট্যাচু অফ লিবার্টির পাশ দিয়ে হেলিকপ্টারগুলো যেতে দেখা যায়।

বিবিসির খবরে আরও জানানো হয়, ধারণা করা হচ্ছে হেলিকপ্টারগুলো অবতরণ করেছে এবং সেগুলোকে বন্দী শিবিরের দিকে নেওয়া হয়েছে।

মাদুরোকে রক্ষা করতে গিয়ে অনেক কিউবান মারা গেছেন: ট্রাম্প

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে আটকের অভিযানে কিউবার অনেক নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্থানীয় সময় শনিবার নিউইয়র্ক পোস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, মার্কিন অভিযানের সময় কিউবানরা মাদুরোকে সুরক্ষা দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন, যা তাঁদের জন্য মোটেও ভালো সিদ্ধান্ত ছিল না।

দীর্ঘদিন ধরেই ভেনেজুয়েলার অন্যতম ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত কিউবা। মার্কিন গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, মাদুরো তাঁর নিরাপত্তা ও গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শের জন্য কিউবান দেহরক্ষী ও উপদেষ্টাদের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল ছিলেন।

মার্কিন বাহিনী যখন মাদুরোকে আটক করতে যায়, তখন সেখানে থাকা কিউবানরা বাধা দিলে এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে বলে জানান ট্রাম্প।

সূত্র: আল–জাজিরা

নিউইয়র্কে মাদুরো, রাখা হবে ব্রুকলিনের কুখ্যাত কারাগারে

যুক্তরাষ্ট্রের হাতে আটক ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে কড়া নিরাপত্তায় ব্রুকলিনের বন্দিশিবিরে (মেট্রোপলিটন ডিটেনশন সেন্টারে) নেওয়া হচ্ছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেখান থেকেই তাঁকে মাদক ও অস্ত্র চোরাচালানের অভিযোগে করা মামলায় ম্যানহাটনের ফেডারেল আদালতে হাজির করা হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, স্থানীয় সময় শনিবার বিকেলে নিউইয়র্কের বিমানঘাঁটিতে নামার পর মাদুরোকে হেলিকপ্টারে করে ম্যানহাটনের ওয়েস্টসাইড হেলিপোর্টে নেওয়া হয়। সেখান থেকে তাঁকে মার্কিন মাদক নিয়ন্ত্রণ সংস্থার (ডিইএ) সদর দপ্তরে নিয়ে প্রাথমিক আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার কথা। এরপরই তাঁর পরবর্তী গন্তব্য হতে যাচ্ছে ব্রুকলিনের বন্দিশিবির।

নিউইয়র্কের এই কুখ্যাত কারাগারটি গুরুত্বপূর্ণ বন্দীদের রাখার জন্য পরিচিত। এর আগে পপ তারকা আর কেলি, যৌন নিপীড়ক জেফরি এপস্টেইনের সহযোগী গিলেন ম্যাক্সওয়েল এবং সম্প্রতি র‍্যাপার শন ‘ডিডি’ কম্বসকে এই কারাগারেই রাখা হয়েছিল।

সূত্র: বিবিসি

ভেনেজুয়েলা কোনো দেশের উপনিবেশ হবে না: ভাইস প্রেসিডেন্ট

প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে আটকের ঘটনা ভেনেজুয়েলার মানুষের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষাকে ধূলিসাৎ করার একটি অপচেষ্টা বলে অভিহিত করেছেন দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ। শনিবার টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক ভাষণে তিনি বলেন, তাঁর দেশ কখনোই কোনো দেশের উপনিবেশ হবে না।

ভেনেজুয়েলার পতাকাকে পেছনে রেখে দেওয়া ওই ভাষণে ডেলসি রদ্রিগেজ সতর্ক করে বলেন, আজ ভেনেজুয়েলার সঙ্গে যা ঘটেছে, বিশ্বের যেকোনো দেশের সঙ্গে তা ঘটতে পারে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপকে বেআইনি কর্মকাণ্ড ও শক্তির অপব্যবহার বলে বর্ণনা করেন।

মাদুরোকে আটকের পর উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ভেনেজুয়েলার জনগণকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে ভাইস প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘ভেনেজুয়েলার মানুষ ধৈর্যশীল। আমরা শান্তি ও স্থৈর্যের মধ্য দিয়েই আমাদের সামনের পথ খুঁজে নেব।’

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবির সরাসরি বিরোধিতা করে রদ্রিগেজ বলেন, ‘যাঁরা শক্তির ব্যবহার করেছেন এবং বেআইনি পথ বেছে নিয়েছেন, সত্য তাঁদের পক্ষে নেই।’

এর আগে শনিবার ভোরে রাজধানী কারাকাসে এক ঝটিকা অভিযানে নিকোলা মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে তুলে নিয়ে যায় মার্কিন বাহিনী। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দাবি, ডেলসি রদ্রিগেজ তাঁদের চাওয়া অনুযায়ী কাজ করতে রাজি হয়েছেন। তবে রদ্রিগেজের এই কঠোর ভাষণ ট্রাম্পের দাবিকে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।

সূত্র: আল–জাজিরা

ভাইস প্রেসিডেন্ট ‘কথা শুনলে’ ভেনেজুয়েলায় সেনা পাঠাবে না যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ভেনেজুয়েলার ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ যুক্তরাষ্ট্রের চাওয়া অনুযায়ী কাজ করলে দেশটিতে সেনা মোতায়েন করবে না যুক্তরাষ্ট্র। নিউইয়র্ক পোস্টের এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে এমন মন্তব্য করেন তিনি।

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে আটকের পর দেশটি বর্তমানে কার নিয়ন্ত্রণে থাকবে, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ট্রাম্প বলেন, ডেলসি রদ্রিগেজ যদি যুক্তরাষ্ট্রের চাওয়া অনুযায়ী কাজ করেন, তবে সেখানে সরাসরি মার্কিন সেনা মোতায়েনের প্রয়োজন পড়বে না।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘আমরা তাঁর (রদ্রিগেজ) সঙ্গে বহুবার কথা বলেছি এবং তিনি বুঝতে পারছেন।’ এর আগে ট্রাম্প এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছিলেন, ডেলসি রদ্রিগেজ এরই মধ্যে ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিয়েছেন এবং মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে কাজ করতে রাজি হয়েছেন।

তবে ট্রাম্পের এই দাবির বিপরীতে অবস্থান নিয়েছেন ডেলসি রদ্রিগেজ। মাদুরোর কট্টর অনুসারী হিসেবে পরিচিত এই নেত্রী ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে মাদুরোকে ‘একমাত্র বৈধ প্রেসিডেন্ট’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি মাদুরোকে ‘অপহরণ’ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করে তাঁর ও তাঁর স্ত্রীর অবিলম্বে মুক্তি দাবি করেছেন।

সূত্র: আল-জাজিরা

তুলে নেওয়ার ১৫ ঘণ্টা পর নিউইয়র্কে মাদুরো

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে বহনকারী উড়োজাহাজ যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটি থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত স্টুয়ার্ট এয়ার ন্যাশনাল গার্ড বিমানঘাঁটিতে অবতরণ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলীয় সময় শনিবার বিকেল ৫টার দিকে উড়োজাহাজটি ওই বিমানঘাঁটিতে অবতরণ করে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রচারিত ভিডিও ফুটেজে ওই উড়োজাহাজের দরজায় যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা-এফবিআই’র ইউনিফর্ম পরিহিত কর্মকর্তাদের দেখা যায়। এরপর উড়োজাহাজটি থেকে মাদুরো বের হয়ে আসেন। ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাস তুলে নেওয়ার ১৫ ঘণ্টা পর তাঁকে নিউইয়র্কে দেখা গেল।

উল্লেখ্য, ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে ২০২০ সালে মাদুরোর বিরুদ্ধে নিউইয়র্কের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্ট আদালতে কোকেন আমদানির ষড়যন্ত্র এবং সংশ্লিষ্ট অভিযোগে মামলা করা হয়।

সূত্র: বিবিসি ও আল–জাজিরা

উড়োজাহাজ থেকে নামছেন যুক্তরাষ্ট্রের হাতে আটক ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরো। স্টুয়ার্ট এয়ার ন্যাশনাল গার্ড বিমান ঘাঁটি, নিউইয়র্ক; ৩ জানুয়ারি ২০২৬

‘মাদুরোকে বহনকারী উড়োজাহাজ নিউইয়র্কে’

নিউইয়র্ক সিটি থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত স্টুয়ার্ট বিমান ঘাঁটিতে একটি উড়োজাহাজ অবতরণ করেছে। ধারণা করা হচ্ছে, ওই উড়োজাহাজে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরো রয়েছেন।

উড়োজাহাজটির দরজার কাছে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা–এফবিআই’র ইউনিফর্ম পরিহিত কর্মকর্তাদের দেখা গেছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে আল–জাজিরা এ কথা জানিয়েছে।

এদিকে নিকোলা মাদুরোকে বহনকারী উড়োজাহাজ নিউইয়র্কে অবতরণ করেছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্সও।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে শনিবার দেশটির রাজধানীর কারকাসের একটি সুরক্ষিত দুর্গ থেকে আটক করা হয়েছে। তাঁদের যুক্তরাষ্ট্রে আনা হচ্ছে।

টাইমস স্কোয়ারে যুদ্ধবিরোধী বিক্ষোভে নেমেছে সাধারণ মানুষ। নিউইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে যুদ্ধবিরোধী বিক্ষোভ শুরু হয়েছে

ভেনেজুয়েলায় হামলা চালিয়ে প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে আটক করার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন, তাঁর দেশ ভেনেজুয়েলা ‘চালাবে’। শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র এই কাজ করবে।

এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে যুদ্ধবিরোধী বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। যুদ্ধবিরোধী স্লোগান লেখা প্ল্যাকার্ড–ব্যনার নিয়ে নেমেছে সাধারণ মানুষ। কারও কারও হাতে ভেনেজুয়েলার পতাকাও দেখা গেছে।

ওয়াশিংটন, নিউইয়র্ক, বোস্টন, মিনেপোলিসসহ বিভিন্ন শহরে যুদ্ধবিরোধী বিক্ষোভ হচ্ছে।

সূত্র: সিএনএন

নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি

হামলা চালিয়ে প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে আটক আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন: জোহরান মামদানি

ভেনেজুয়েলায় হামলা চালিয়ে প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে আটকের ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি। তিনি এই হামলাকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেছেন।

নতুন বছরের প্রথম দিন নিউইয়র্কের মেয়র হিসেবে শপথ নেন জোহরান। নিউইয়র্ক টাইমসের খবরে বলা হয়, জোহরান মামদানি ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেন্সকে আটক করার নিন্দা জানিয়ে বলেন, এটা যুদ্ধের মতো একটা কাজ। একই সঙ্গে দেশের ও আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন।

নিউইয়র্ক টাইমসের এডিটরিয়াল বোর্ড ভেনেজুয়েলাায় হামলাকে অবৈধ বলেছে

ট্রাম্পের ভেনেজুয়েলায় হামলা অবৈধ: নিউইয়র্ক টাইমস

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভেনেজুয়েলায় হামলা চালনোকে অবৈধ ও অপরিণামদর্শী কাজ বলে উল্লেখ করেছে নিউইয়র্ক টাইমসের এডিটরিয়াল বোর্ড। শনিবার নিউইয়র্ক টাইমসের অনলাইন সংস্করণে পত্রিকাটির এই মত তুলে ধরা হয়েছে।

ভেনেজুয়েলায় হামলা চালিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট ও তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করে মার্কিন বাহিনী। পরে ট্রাম্প জানান, মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে মার্কিন জাহাজে করে নিউইয়র্কে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

ফ্লোরিডায় এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, মাদুরোর বিচার করা হবে যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে।

নিউইয়র্ক টাইমসের এডিটরিয়াল বোর্ড মনে করে, ভেনেজুয়েলায় এই হামলার ফলে দেশটির জনগণের কষ্ট বাড়বে, আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা বাড়বে এবং বিশ্বজুড়ে মার্কিন স্বার্থের স্থায়ী ক্ষতি হবে।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফ্লোরিডায় সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন

মাদুরোকে হত্যা করতে পারত মার্কিন বাহিনী: ট্রাম্প

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শনিবার বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী রাতভর অভিযানের সময় প্রয়োজন হলে ভেনেজুয়েলার নেতা নিকোলা মাদুরোকে হত্যা করতে পারত।

ফ্লোরিডায় নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, এটি (মাদুরোকে হত্যা) ঘটতে পারত। তিনি (মাদুরো) নিরাপদ স্থানে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। সেই নিরাপদ স্থানটি পুরো স্টিলের। কিন্তু মার্কিন বাহিনীর সদস্যরা এত ক্ষিপ্র যে মাদুরো দরজায় পৌঁছাতে পারেননি।

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোর ছবি নিজের ট্রুথ সোশ্যালে প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

আটক প্রেসিডেন্ট মাদুরোর ছবি প্রকাশ করলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের হাতে আটক ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোর ছবি প্রকাশ করছেনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

সিএনএনের খবরে বলা হয়, কিছুক্ষণ আগে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে মাদুরোর ছবি প্রকাশ করেন ট্রাম্প। মাদুরোকে মার্কিন জাহাজ ইউএসএস আইয়ো জিমায় দেখা যায়।

ছবিতে দেখা যায়, ধূসর রঙের পোশাক পরা মাদুরো হাতে একটি পানির বোতল নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন।

মাদুরোর চোখ কালো রঙের আবরণে ঢাকা এবং তাঁর কানে বড় আকারের হেডফোনের মতো কিছু পরানো রয়েছে। ছবিতে তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে দেখা যায়নি; ফলে মাদুরো তাঁর কাছাকাছি আছেন কি না, তা স্পষ্ট নয়।

ফ্লোরিডায় সংবাদ সম্মেলন শুরু করার একটু আগে ট্রাম্প আটক মাদুরোর ছবি ট্রুথ সোশ্যালে প্রকাশ করলেন।

ভেনেজুয়েলা অভিযানকে ট্রাম্প বললেন, যুক্তরাষ্ট্রের কার্যকর ও শক্তিশালী হামলার চমকপ্রদ প্রদর্শনী

ভেনেজুয়েলায় মার্কিন বাহিনীর অভিযানকে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে কার্যকর এবং সামরিক ক্ষমতা ও দক্ষতার শক্তিশালী চমকপ্রদ প্রদর্শনী হিসেবে বর্ণনা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ফ্লোরিডায় সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র শনিবার যা অর্জন করেছে, বিশ্বের কোনো দেশই তা করতে পারত না। খুব সংক্ষিপ্ত সময়ে এটা করা সম্ভব হয়েছে। ভেনেজুয়েলার সামরিক সক্ষমতাকে অক্ষম করা হয়েছে।

ট্রাম্প আরও বলেন, অভিযানে একজন আমেরিকানও নিহত হয়নি, এবং কোনো আমেরিকান সামরিক সরঞ্জামের ক্ষতি হয়নি। বহু হেলিকপ্টার, বিমান এবং অসংখ্য মানুষ এই অভিযানে যুক্ত ছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে মাদুরোর বিচার হবে: ট্রাম্প

মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতেই বিচারের মুখোমুখি হতে হবে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।

ট্রাম্প দাবি করেছেন, মাদুরোর বিরুদ্ধে অপরাধের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আদালতের কাছে অনেক ‘জোরালো প্রমাণ’ রয়েছে। তিনি বলেন, এটি (মাদুরোর অপরাধ) একদিকে ভয়াবহ, অন্যদিকে হতবাক করে দেওয়ার মতো।

‘শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতার হস্তান্তর’ না হওয়া পর্যন্ত ভেনেজুয়েলা চালাবে যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, ভেনেজুয়েলায় শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতার হস্তান্তর না হওয়া পর্যন্ত দেশটি যুক্তরাষ্ট্র ‘চালাবে’। তিনি বলেন, ‘নিরাপদ, সঠিক ও বিচক্ষণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর সম্ভব না হওয়া পর্যন্ত আমরা দেশটি পরিচালনা করব।’

ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা চাই না, অন্য কেউ ক্ষমতায় এসে আবার সেই একই পরিস্থিতির সৃষ্টি করুক, যা দীর্ঘ সময় ধরে আমরা দেখে আসছি।’

প্রয়োজনে ভেনেজুয়েলায় দ্বিতীয় দফায় ‘আরও বড় হামলা’: ট্রাম্প

প্রয়োজন হলে ভেনেজুয়েলায় দ্বিতীয় দফায় ‘আরও অনেক বড় হামলা’ চালাতে যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।

তবে ট্রাম্প বলেন, প্রথম অভিযানের ‘সাফল্য’ বিবেচনায় এনে দ্বিতীয় হামলার প্রয়োজন নাও হতে পারে।

ট্রাম্পের ভাষায়, ‘আমরা আসলে ধরেই নিয়েছিলাম যে দ্বিতীয় একটি ধাপ প্রয়োজন হবে, কিন্তু সম্ভবত তা লাগবে না। প্রথম হামলাটি এতটাই সফল ছিল যে আমাদের হয়তো দ্বিতীয়টি চালাতে হবে না।’

সূত্র: আল জাজিরা

মার্কিন হামলার পর জ্বলছে ভেনেজুয়েলার সর্ববৃহৎ সামরিক কমপ্লেক্স। ৩ জানুয়ারি

অন্য দেশের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন বন্ধ করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান চীনের

ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিপ্রয়োগের নিন্দা জানিয়েছে চীন। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এই নিন্দা জানিয়েছে। পাশাপাশি অন্য দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা লঙ্ঘন বন্ধ করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে চীন।

মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এক্স-এ পোস্ট করা বিবৃতিতে বলেন, একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রকাশ্য শক্তি প্রয়োগ এবং ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্টের (নিকোলা মাদুরো) বিরুদ্ধে পদক্ষেপে চীন গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। বেইজিং এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানায়।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের এই আধিপত্যবাদী কর্মকাণ্ডগুলো আন্তর্জাতিক আইন এবং ভেনেজুয়েলার সার্বভৌমত্বকে গুরুতরভাবে লঙ্ঘন করে; এবং লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের শান্তি ও নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলে। চীন দৃঢ়ভাবে এর বিরোধিতা করে।

বিবৃতিতে বলা হয়, আন্তর্জাতিক আইন প্রতি সম্মান দেখাতে এবং অন্য দেশগুলোর সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা লঙ্ঘন বন্ধ করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানায় চীন।

সূত্র: সিএনএন

কারাকাসে বিমান ঘাঁটিতে মার্কিন হামলায় বিধ্বস্ত অ্যান্টি এয়ারক্রাফট ইউনিট। ভেনেজুয়েলা, ৩ জানুয়ারি

নিকোলা মাদুরোকে সুরক্ষিত দুর্গ থেকে আটক করা হয়: ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে একটি সুরক্ষিত দুর্গ থেকে আটক করা হয়েছে।

মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে আটক করার সময় কয়েকজন আহত হয়েছেন। তবে তাঁরা (মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী) ফিরে এসেছেন, তাঁদের পরিস্থিতি ভালো থাকার কথা।

ভেনেজুয়েলায় মার্কিন অভিযানে ‘গতি’ ও ‘ধ্বংস’ প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, যেন টেলিভিশনে কোনো শো দেখছিলেন।

সূত্র: আল জাজিরা

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

ভেনেজুয়েলার তেল শিল্পে অত্যন্ত সক্রিয়ভাবে যুক্ত হবে যুক্তরাষ্ট্র : ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার তেল শিল্পে অত্যন্ত সক্রিয়ভাবে যুক্ত হবে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

তিনি বলেছেন, ‘আমাদের কাছে বিশ্বের সেরা, সবচেয়ে বড়, অসাধারণ তেল কোম্পানি আছে। আমরা এতে (ভেনেজুয়েলার তেলশিল্প) অত্যন্ত সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকব।’

সূত্র: আল জাজিরা

স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে নিয়ে সমর্থকদের অভিবাদনের জবাব দিচ্ছেন ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরো। কারাকাস, ভেনেজুয়েলা, ২৬ জানুয়ারি

মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে নিউইয়র্কে নেওয়া হচ্ছে: ট্রাম্প

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরো এবং তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে মার্কিন জাহাজে করে নিউইয়র্কে নেওয়া হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্থানীয় সময় আজ শনিবার সকালে ফক্স নিউজকে টেলিফোনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এ কথা জানিয়েছেন।

ট্রাম্প জানিয়েছেন, ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তাঁর স্ত্রীকে মার্কিন জাহাজ ইউএসএস আইয়ো জিমায় নিউইয়র্কের পথে আছেন।

ট্রাম্প বলেন, ‘হেলিকপ্টারে করে তাদের জাহাজে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সুন্দর একটি ফ্লাইটে গেছেন—আমি নিশ্চিত তাঁরা এটি উপভোগ করেছেন। তবে তাঁরা অনেক মানুষ হত্যা করেছেন, এটা মনে রাখতে হবে।’

মাদুরোকে কী বিকল্প দেওয়া হয়েছিল সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে ট্রাম্প বলেন, ‘মূলত আমি বলেছিলাম, আপনাকে হার মানতে হবে। আত্মসমর্পণ করতে হবে।’

এক সপ্তাহ আগে মাদুরোর সঙ্গে কথা বলেছেন জানিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘এটি (মাদুরোর সঙ্গে কথা বলা) একটি খুব গুরুত্বপূর্ণ সংকেত ছিল। ...আমি নিজেই তাঁর সঙ্গে কথা বলেছি, আমি বলেছিলাম, হার মানতে হবে। আত্মসমর্পণ করতে হবে।’

ভেনেজুয়েলার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভান গিল

মাদুরো এখনো ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট: পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিল

নিকোলা মাদুরো এখনো ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভান গিল।

ভেনেজুয়েলায় অভিযান চালিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরো এবং তাঁর স্ত্রীকে আটক করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে—স্থানীয় সময় শনিবার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই ঘোষণা দেন।

এরপর নিকোলা মাদুরোর স্থলাভিষিক্ত কে হবেন, তা নিয়ে নানা আলোচনা চলছিল। এরই মধ্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভান গিল মন্তব্য করলেন, নিকোলা মাদুরোই ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট।

সিএনএনের খবরে বলা হয়, রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিল বলেন, সংবিধানে সুস্পষ্ট বলা আছে, নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট, সংবিধানমতে প্রেসিডেন্ট হলেন নিকোলা মাদুরো। যুক্তরাষ্ট্রকে ভেনেজুয়েলার মাটিতে মাদুরোর উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে, কারণ এটি (প্রেসিডেন্টকে তুলে নিয়ে যাওয়া) আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন।

রাজধানী কারাকাসের কাতিয়া এলাকায় প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোর সমর্থনে তাঁর ছবি নিয়ে সড়কে দাঁড়িয়েছেন এক সমর্থক। ভেনেজুয়েলা, ৩ জানুয়ারি
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরো। গত ৭ মে ক্রেমলিনে

পরিস্থিতি ‘দ্রুত স্পষ্ট’ করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান রাশিয়ার

ভেনেজুয়েলার পরিস্থিতি ‘দ্রুত স্পষ্ট’ করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে রাশিয়া। ভেনেজুয়েলায় অভিযান চালিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরো এবং তাঁর স্ত্রীকে আটক করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে—প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই ঘোষণার পর রাশিয়া ওই আহ্বান জানাল।

রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসী অভিযানের সময় ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট মাদুরো এবং তাঁর স্ত্রীকে সে দেশ থেকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে—এটি অত্যন্ত উদ্বেগের। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ‘আমরা এই পরিস্থিতি দ্রুত স্পষ্ট করার আহ্বান জানাই।’

রাশিয়া জানিয়েছে, এই ধরনের পদক্ষেপ সত্য হলে, তা একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের অগ্রহণযোগ্য লঙ্ঘন। আন্তর্জাতিক আইনের মূল নীতিকে সম্মান জানানো উচিত।

রাজধানী কারাকাসের কাতিয়া এলাকায় জাতীয় পতাকা নিয়ে নিকোলা মাদুরোর পক্ষে সড়কে নেমেছেন সমর্থকেরা। ভেনেজুয়েলা, ৩ জানুয়ারি
মার্কিন হামলার সময় আবাসস্থল থেকে বেরিয়ে আসেন আতঙ্কিত সাধারণ মানুষ। ভেনেজুয়েলা, ৩ জানুয়ারি
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরো

ট্রাম্প কয়েকদিন আগে মাদুরোকে আটক করার অনুমোদন দেন

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কয়েক দিন আগে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে আটক করার অনুমোদন দিয়েছিলেন। সেনাবাহিনীর ডেল্টা ফোর্স এই অভিযান চালাবে—সেই অনুমোদনও দিয়েছিলেন ট্রাম্প। এই বিষয়ে ওয়াকিবহাল একজন ব্যক্তি মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে এ কথা জানিয়েছেন।

মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা (সিআইএ) প্রেসিডেন্ট মাদুরোর অবস্থান ট্র্যাক করছিল। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কয়েক মাস আগে ভেনেজুয়েলায় গোপন কার্যক্রম পরিচালনা করার অনুমতি দিয়েছিলেন সিআইএকে।

যুক্তরাষ্ট্রে হওয়া মামলার বিচার করার জন্য মাদুরোকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন ওয়াকিবহাল ওই ব্যক্তি। তবে মাদুরো এখন ঠিক কোথায় আছেন, স্থানীয় সময় শনিবার সকাল পর্যন্ত তা স্পষ্ট ছিল না।

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার

ভেনেজুয়েলায় মার্কিন অভিযানে যুক্তরাজ্য জড়িত নয়: ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেছেন, ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানে যুক্তরাজ্য জড়িত নয়। তবে এই হামলার বিষয়ে মন্তব্য করার আগে তিনি এ বিষয়ে আরও তথ্য জানতে চান।

বিবিসির খবরে বলা হয়, স্টারমার বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের হাতে ভেনেজুয়ােলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরো আটক হওয়ার বিষয়ে তিনি এখনো প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলেননি।

যুক্তরাজ্যের সম্প্রচারমাধ্যমগুলোর জন্য রেকর্ড করা বক্তব্যে স্টারসার বলেন, বিষয়টি (হামলা পরিস্থিতি) খুব দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে, তাই সব তথ্য নিশ্চিত হওয়ার পর তিনি এ বিষয়ে মন্তব্য করবেন। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমি এটুকু বলতে পারি যে, এই অভিযানে যুক্তরাজ্য কোনোভাবেই সম্পৃক্ত ছিল না।’

ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসের ফুয়ের্তে তিউনায় দেশটির অন্যতম সামরিক কমপ্লেক্সে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ৩ জানুয়ারি

ভেনেজুয়েলায় হামলা: কী জানা গেল, কী অজানা

ভেনেজুয়েলায় মার্কিন হামলা নিয়ে এখন পর্যন্ত কী জানা গেল এবং কী অজানা, তা তুলে ধরেছে যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

কী জানা গেল—

* মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলায় ‘বড় আকারের হামলা’ চালিয়েছে।

* ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে আটক করা হয়েছে এবং দেশের বাইরে পাঠানো হয়েছে।

* মাদুরোকে আটক করার অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র সেনাবাহিনীর ডেল্টা ফোর্স অংশ নেয়।

* ভেনেজুয়েলা জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে এবং এই ঘটনাকে ‘সামরিক আগ্রাসন’ আখ্যা দিয়ে তা প্রত্যাখ্যান করেছে।

* হামলার নিন্দা জানিয়েছে রাশিয়া। মস্কো বলেছে, যে অজুহাতে হামলা চালানো হয়েছে, তা গ্রহণযোগ্য নয়।

* ট্রাম্প জানিয়েছেন, ভেনেজুয়েলায় হামলার বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরতে ফ্লোরিডায় স্থানীয় সময় আজ সকাল ১১টায় সংবাদ সম্মেলন করবেন তিনি।

যা অজানা—

* নিকোলা মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে কোথাও নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

* ভেনেজুয়েলায় হামলায় হতাহত ঘটনা ঘটেছে কি না।

* কত স্থানে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

‘বড় পরিসরে’ হামলা চালানো হয়েছে: ট্রাম্প

ভেনেজুয়েলায় আজ শনিবার ভোরে ‘বড় পরিসরে’ হামলা চালিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে তুলে নিয়ে যাওয়ার কথা জানান যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

বিবিসির খবরে বলা হয়, মাদুরোকে কীভাবে ধরা হয়েছে বা তাঁকে কোথায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র মাদুরোকে গ্রেপ্তার করার বিষয়ে তথ্য দেওয়ার জন্য ৫ কোটি ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছিল।

আজ ভোরে ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর রাজধানী কারাকাসের দুটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনায় বিকট বিস্ফোরণের পর ঘন ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়। স্থাপনা দুটির একটি হলো শহরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত লা কারলোটা সামরিক বিমানঘাঁটি।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজুয়েলায় স্থল অভিযানের ব্যাপারে বারবার হুমকি দিয়ে আসছিলেন।

যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর কারাকাসের বিধ্বস্ত গাড়ি পড়ে থাকতে দেখা যায়। ভেনেজুয়েলা, ৩ জানুয়ারি ২০২৬

ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান শেষ: সিনেটর মাইক লি

ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছেন রিপাবলিকানদলীয় সিনেটর মাইক লি। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে ফোনে কথা বলার পর তাঁকে উদ্বৃত করে ইউটাহ অঙ্গরাজ্যের এই সিনেটর বলেন, বামপন্থী নেতা নিকোলা মাদুরোকে আটক করার পরই এ অভিযান শেষ হয়েছে।

বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে বলা হয়, মার্কো রুবিওর সঙ্গে ফোনে আলাপের বরাত দিয়ে আজ শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে মাইক লি লেখেন, ‘তিনি আশা করছেন, মাদুরো যেহেতু এখন যুক্তরাষ্ট্রের হেফাজতে, তাই ভেনেজুয়েলায় আর কোনো সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে না।’

ভেনেজুয়েলার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিওসদাদো কাবেয়ো

ভেনেজুয়েলার সরকারের নেতৃত্বের ওপর আস্থা রাখার আহ্বান মাদুরোর সহযোগীর

ভেনেজুয়েলার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিওসদাদো কাবেয়ো (নিকোলা মাদুরোর অন্যতম প্রধান সহযোগী ও প্রভাবশালী নেতা) টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে দেশবাসীকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে দেশটির সরকারের নেতৃত্বের ওপর আস্থা রাখতে বলেছেন।

​তিনি বলেছেন, ‘কেউ হতাশ হবেন না। কোনোভাবেই যেন আক্রমণকারী শত্রুদের কাজ সহজ হয়ে না যায়।’

​কাবেয়ো বলেন, বেসামরিক ভবনে বোমা হামলা চালানো হয়েছে। তবে এই দাবির সপক্ষে তিনি কোনো প্রমাণ দেননি।

নিকোলা মাদুরোর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে মামলা আছে

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোর বিরুদ্ধে ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রে দুর্নীতি, মাদক পাচারসহ বিভিন্ন অভিযোগে মামলা করা হয়।

নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, এসব মামলার সময় যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর ঘোষণা দিয়েছিল—মাদুরোকে গ্রেপ্তার বা দোষী সাব্যস্ত করতে সহায়ক তথ্য দিলে ৫ কোটি ডলার পুরস্কার দেওয়া হবে।

মাদুরোকে আটক করার ঘোষণা দিতে গিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করেই ভেনেজুয়েলায় অভিযান চালানো হয়েছে। মামলার অভিযোগপত্র যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্ট ফেডারেল আদালতে দাখিল করা হয়েছিল।

মার্কিন হামলার পর কারাকাসের বিভিন্ন স্থানে এমন আগুন জ্বলতে দেখা যায়। ভেনেজুয়েলা, ৩ জানুয়ারি, ২০২৬

যে অজুহাতে ভেনেজুয়েলায় হামলা, তা গ্রহণযোগ্য নয়: রাশিয়া

ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের নিন্দা জানিয়েছে রাশিয়া। রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, আজ সকালে যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে সশস্ত্র আগ্রাসন চালিয়েছে। এটা উদ্বেগজনক এবং নিন্দনীয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, এই হামলাকে ন্যায্যতা দিতে যে অজুহাত দেখানো হয়েছে, তা গ্রহণযোগ্য নয়। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘আমরা ভেনেজুয়েলার জনগণের সঙ্গে আমাদের সংহতি পুনর্ব্যক্ত করছি।’

ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় কোনো রুশ নাগরিক হতাহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

ভেনেজুয়েলা দক্ষিণ আমেরিকায় রাশিয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মিত্র হিসেবে পরিচিতি। তবে এখনো কারাকাসকে সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়নি ক্রেমলিন।

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরো

মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়া হয়েছে, তাঁর বিচার হবে: রুবিওর বরাতে মার্কিন সিনেটরের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকান পার্টির নেতা সিনেটর দাবি করেছেন, ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে মার্কিন বাহিনী গ্রেপ্তার করেছে। বিচারের জন্য তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়া হয়েছে। ওই সিনেটর জানান, তিনি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে কথা বলে এই তথ্য জেনেছেন।

ইউটাহ অঙ্গরাজ্যের সিনেটর মাইক লি আজ শনিবার ভোরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ জানান, ‘তিনি (মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও) আমাকে জানিয়েছেন, মার্কিন বাহিনী নিকোলা মাদুরোকে গ্রেপ্তার করেছে। যুক্তরাষ্ট্রে ফৌজদারি অপরাধের মামলায় তাঁর বিচার করা হবে। আজ রাতে আমরা যে সামরিক অভিযান দেখেছি, তা মূলত এই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করতে চালানো হয়েছিল।’

সিনেটর লি আরও বলেন, ‘প্রেসিডেন্টের এই পদক্ষেপ সম্ভবত সংবিধানের দ্বিতীয় অনুচ্ছেদের আওতায় পড়ে, যা কোনো আসন্ন হামলা থেকে মার্কিন কর্মী ও নাগরিকদের সুরক্ষা দেওয়ার ক্ষমতা দেয়।’

তবে এর আগে সকালে সিনেটর লি এই হামলার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। তিনি জানতে চেয়েছিলেন, যুদ্ধ ঘোষণা বা সামরিক শক্তি ব্যবহারের আগাম অনুমতি ছাড়াই এই হামলা চালানোর কোনো সাংবিধানিক যুক্তি আছে কি না।

কারাকাসে বিমানবন্দরে বিস্ফোরণ, আগুন

ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসের লা কারলোটা বিমানবন্দরের কাছে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছে এবং সেখান থেকে ঘন ধোঁয়া উড়ছে। দ্য টাইমস ভিডিও যাচাই করে বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে।

ভেনেজুয়েলার কর্মকর্তাদের বিবৃতির বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ভেনেজুয়েলার কতজন নাগরিক নিহত ও আহত হয়েছেন, তা এখনো নির্দিষ্ট করে জানা যায়নি। বিষয়টি যাচাই–বাছাই করা হচ্ছে।

ভেনেজুয়েলায় সেনাবাহিনীর এক অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেস। ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫, লা গুয়াইরা

ট্রাম্পের কাছে মাদুরোর বেঁচে থাকার প্রমাণ চাইলেন ভেনেজুয়েলার ভাইস প্রেসিডেন্ট

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছে নিকোলা মাদুরোর বেঁচে থাকার প্রমাণ চেয়েছেন ভেনেজুয়েলার ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়, একটি টেলিভিশন চ্যানেলে কথা বলার সময় রদ্রিগেজ বলেন, নিকোলা মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীর বর্তমান অবস্থান অজানা। তিনি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছে তাঁদের বেঁচে থাকার প্রমাণ চেয়েছেন।

ভেনেজুয়েলার প্রতিরক্ষামন্ত্রী ভ্লাদিমির পাদ্রিনো লোপেজ

ঐক্যবদ্ধভাবে এই হামলা প্রতিরোধ করার ঘোষণা ভেনেজুয়েলার প্রতিরক্ষামন্ত্রীর

ভেনেজুয়েলার প্রতিরক্ষামন্ত্রী ভ্লাদিমির পাদ্রিনো লোপেজ বলেছেন, কোনোভাবেই তিনি দেশে বিদেশি সেনা সহ্য করবেন না, ঐক্যবদ্ধভাবে এই হামলা প্রতিরোধ করবেন।

পাদ্রিনো লোপেজ বলেন, আজ শনিবারের মার্কিন হামলায় ভেনেজুয়েলার বিভিন্ন জনবসতিপূর্ণ এলাকা আক্রান্ত হয়েছে। মার্কিন যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টার থেকে ক্ষেপণাস্ত্র এবং রকেট ছোড়া হয়েছে।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেছেন, হামলায় কতজন নিহত বা আহত হয়েছেন, সরকার সে তথ্য সংগ্রহ করছে।

পাদ্রিনো লোপেজ নিশ্চিত করেছেন, রাজধানী কারাকাসের প্রধান সামরিক ঘাঁটি ‘ফোর্ট তিউনা’–তে হামলা করা হয়েছে।

লোপেজ এই হামলাকে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ‘অপমানজনক ঘটনা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

ভেনেজুয়েলার ক্ষমতা কার হাতে যাবে স্পষ্ট নয়

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।

নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের দাবি যদি সত্য হয়, তবে ভেনেজুয়েলার সংবিধান অনুযায়ী ক্ষমতা নিকোলা মাদুরোর সরকারের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের হাতে যাওয়ার কথা। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি সম্পূর্ণ এক অনিশ্চিত ও অজানা পথে মোড় নিয়েছে এবং শেষ পর্যন্ত কার হাতে ক্ষমতা যাবে তা এখনো স্পষ্ট নয়।

যুক্তরাষ্ট্র মাদুরোকে বৈধ প্রেসিডেন্ট হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি, অন্যদিকে ভেনেজুয়েলার বিরোধী দলগুলোর দাবি—দেশটির প্রকৃত ও বৈধ প্রেসিডেন্ট হলেন বর্তমানে নির্বাসিত রাজনীতিক এডমুন্ডো গঞ্জালেস।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

এটি ছিল একটি চমৎকার অভিযান: ট্রাম্প

ভেনেজুয়েলায় অভিযানের সাফল্য নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমসকে দেওয়া এক সংক্ষিপ্ত টেলিফোন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, দক্ষ ও দুর্দান্ত সব মানুষ এই অসাধারণ পরিকল্পনায় যুক্ত ছিলেন। তিনি আরও বলেন, আসলে এটি ছিল একটি চমৎকার অভিযান।

তবে এই অভিযানের জন্য মার্কিন কংগ্রেসের কোনো অনুমতি নেওয়া হয়েছিল কি না কিংবা ভেনেজুয়েলার পরবর্তী রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কী হবে— সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি ট্রাম্প।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, আজ স্থানীয় সময় সকাল ১১টায় ফ্লোরিডার মার-এ-লাগোতে সংবাদ সম্মেলন করে তিনি এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরবেন।

মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে মার্কিন সেনাবাহিনীর ডেল্টা ফোর্স আটক করেছে: সিবিএস

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরো

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে মার্কিন সেনাবাহিনীর ডেল্টা ফোর্স আটক করেছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএসকে এই তথ্য জানিয়েছেন মার্কিন কর্মকর্তারা।

ডেল্টা ফোর্স হলো যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর শীর্ষ সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ইউনিট।

ভেনেজুয়েলায় হামলা চালিয়ে প্রেসিডেন্ট মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে তুলে নিয়ে গেছে যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্প

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী

ভেনেজুয়েলায় আজ শনিবার ভোরে ‘বড় পরিসরে’ হামলা চালিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে তুলে নিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

বিবিসির খবরে বলা হয়, মাদুরোকে কীভাবে ধরা হয়েছে বা তাঁকে কোথায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র মাদুরোকে গ্রেপ্তার করার বিষয়ে তথ্য দেওয়ার জন্য ৫ কোটি ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছিল।

প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্রের তুলে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি ভেনেজুয়েলা সরকার তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করেনি।

আজ ভোরে ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর রাজধানী কারাকাসের দুটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনায় বিকট বিস্ফোরণের পর ঘন ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়। স্থাপনা দুটির একটি হলো শহরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত লা কারলোটা সামরিক বিমানঘাঁটি।

অন্য সামরিক ঘাঁটি হলো ফুয়ের্তে তিউনা সামরিক ঘাঁটি। এটিতেই প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরো দীর্ঘদিন ধরে থাকেন বলে মনে করা হচ্ছিল।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজুয়েলায় স্থল অভিযানের ব্যাপারে বারবার হুমকি দিয়ে আসছিলেন।