মহাকবি ফেরদৌসীর মহাকাব্য শাহনামার গল্প অবলম্বনে দৃশ্যায়ন
মহাকবি ফেরদৌসীর মহাকাব্য শাহনামার গল্প অবলম্বনে দৃশ্যায়ন

বোমা, কবিতা আর স্বর্গ: ইরানের সভ্যতা কেন বিনাশ করতে পারবেন না ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে বোমা মেরে প্রস্তর যুগে পাঠিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন। কয়েক হাজার বছরের পুরোনো সভ্যতার দেশটিকে এভাবে হুমকি দেওয়াটা সারা বিশ্বকে হতবাক করেছিল। মার্কিন প্রেসিডেন্টের এ হুমকি নিয়ে এশিয়া টাইমসে লিখেছেন নরওয়ের বিখ্যাত ইতিহাসবিদ তোর ফোরোভিক। তিনি এশিয়া নিয়ে ১২টি বই লিখেছেন। কয়েকটি ভাষায় তাঁর বই অনুবাদ হয়েছে। তিনি তিনবার নরওয়ের সর্বোচ্চ সাহিত্য পুরস্কার ব্রাগে অ্যাওয়ার্ড জিতেছেন।

ইরান যুদ্ধের পক্ষগুলো যুদ্ধবিরতি করতে রাজি হয়েছে। ফলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আপাতত ইরানকে বোমা মেরে প্রস্তর যুগে ফিরিয়ে দেওয়ার সুযোগ হারালেন। সেই সঙ্গে তাঁকে মহাকবি ফেরদৌসীর সমাধিসৌধ ধ্বংস করার পরিকল্পনাও পিছিয়ে দিতে হচ্ছে। ফেরদৌসী ছিলেন ইরানের অপূর্ব একজন কবি। যিনি এক হাজার বছর আগে প্রায় ৫০ হাজার চরণের মহাকাব্য ‘শাহনামা’ লিখেছিলেন। পারস্য জাতির ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এ কবিকে পরবর্তী সময়ে ইরানের জাতীয় কবি করা হয়।

ইরানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় মাশহাদ শহরের কাছে প্রাচীন নগরী তুসের এখনো ধ্বংসাবশেষ রয়ে গেছে। একসময় প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের মধ্যে সংযোগ স্থাপনকারী সিল্ক রোডের গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ছিল এই তুস নগরী। আজ সেখানে কেবল ধ্বংসস্তূপ, পড়ে আছে মাটির প্রাচীর আর নিস্তব্ধ প্রান্তর। প্রাচীন এই নগরীর এক প্রান্তে সমাহিত আছেন আবুল কাসেম ফেরদৌসী।

ফেরদৌসীর কবরের ওপর নির্মিত স্মৃতিসৌধটি সাদামাটা হলেও অসাধারণ। বিংশ শতাব্দীতে রেজা শাহের শাসনামলে সৌধটির বর্তমান রূপটি তৈরি করা হয়। তখন ইরানে ইসলাম পূর্ব যুগের ঐতিহ্য তুলে ধরার ব্যাপারে বিশেষ প্রচেষ্টা ছিল। হালকা রঙের পাথর, স্তম্ভ ও কারুকার্যমণ্ডিত স্মৃতিসৌধটি প্রাচীন পারস্যের স্থাপত্যশৈলী থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে তৈরি করা হয়েছে। এটি দেখতে ধ্রুপদি বা ক্ল্যাসিক্যাল ঘরানার।

ফেরদৌসী ৯৪০ খ্রিষ্টাব্দের দিকে তুস শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তখন পারস্য দেশ পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল। সেখানে ইসলাম ধর্ম প্রভাব বিস্তার করছিল। আরবি ভাষা পারস্যের নিজস্ব ভাষাকে কোণঠাসা করছিল। তখনকার শিক্ষিত ব্যক্তিদের মতো ফেরদৌসীও সম্ভবত আরবি শিখেছিলেন। কিন্তু ফারসি ছিল তাঁর মাতৃভাষা। তাঁর শহরে প্রাচীন পারস্যের স্মৃতি তখনো তরতাজা। ফেরদৌসী সেসব স্মৃতি নিয়ে সাহিত্য রচনা করলেন। এসব সাহিত্যকর্ম পরিণত হলো সোনায়।

মহাকাব্য রচনা করতে তিনি প্রাচীন নানা উৎস, হারিয়ে যাওয়া কবিতা ও গদ্য এবং বংশপরম্পরায় চলে আসা গল্পের সাহায্য নিয়েছিলেন।

সপ্তম শতাব্দীর শুরুর দিকে সৌদি আরবের মক্কা নগরে মহানবী (সা.)-এর মাধ্যমে ইসলাম ধর্মের আবির্ভাব ঘটে। পরবর্তী কয়েক শতাব্দীতে এই ধর্ম ও আরবি ভাষা ঢেউয়ের মতো চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। একের পর এক দেশ বিভিন্ন মাত্রায় আরবিকরণ হতে থাকে। কিন্তু পারস্য তেমনি হয়নি। এর পেছনে ফেরদৌসী ও আরও কয়েকজন কবির অবদান সবচেয়ে বেশি। এসব কবি ফারসি ভাষা ও সংস্কৃতির চর্চায় নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন।

দশম শতাব্দী নাগাদ আরবি পারস্যের প্রশাসনিক ভাষায় পরিণত হয়। মসজিদ ও বিদ্যালয়েও আরবির ব্যবহার শুরু হয়। ফলে লেখালেখি ও উচ্চবিত্তের সংস্কৃতি থেকে ফারসি পিছিয়ে পড়ে। তবে সাধারণ মানুষ প্রাচীন ফারসি ভাষায় কথা বলতেন। তাঁরাই ভাষাটিকে টিকিয়ে রাখলেন।

ঠিক সেই সময়ে সাহিত্যের দৃশ্যপটে ফেরদৌসীর আগমন ঘটে। কয়েক দশক কঠোর পরিশ্রম করে তিনি ‘শাহনামা’ লিখেছিলেন। যার অর্থ ‘রাজাদের বই’। এই মহাকাব্য লিখতে গিয়ে তিনি প্রাচীন নানা উৎস, হারিয়ে যাওয়া কবিতা ও গদ্য এবং বংশপরম্পরায় চলে আসা গল্পের সাহায্য নিয়েছিলেন।

ফেরদৌসীর মহাকাব্য শাহনামার একটি পাতার ইলাস্ট্রেশন

শাহনামাকে মোটা দাগে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। প্রথম ভাগে রয়েছে পারস্য ইতিহাসের পৌরাণিক পর্যায়। এখানে প্রাচীন রাজা এবং বিশৃঙ্খলা বনাম শৃঙ্খলার লড়াই দেখানো হয়েছে। দ্বিতীয় ভাগে আছে বীরত্বের যুগের বর্ণনা। এখানে পারস্য জাতির শ্রেষ্ঠ বীরদের উত্থানের গল্প আছে। তৃতীয় অংশে ঐতিহাসিক নানা ঘটনার বিবরণ রয়েছে। এই অংশে পরিচিত শাসক ও বাস্তব ঘটনাবলি তুলে ধরা হয়েছে। অতিকায় এই মহাকাব্যের নানা দৃশ্যে মানুষ, পাখি, সাপ ও নানা পশুর দেখা মেলে। রাজবংশের উত্থান-পতনের বিশাল ক্যানভাসে এসব কিছু থরে থরে গেঁথে আছে।

বর্তমান ইরানে ফেরদৌসী একজন জাতীয় নায়কের মর্যাদা পান। তাঁর রেখে যাওয়া সাহিত্যকর্মকে ইরানি সংস্কৃতির ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

ফেরদৌসী যা করেছিলেন, তাকে এক ধরনের নীরব প্রতিরোধ বলা যায়। অনেকে মনে করেন, তিনি ফারসি ভাষাকে বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা করেছেন। এ দাবিটি হয়তো কিছুটা অতিরঞ্জিত। কারণ, তখন ফারসি ভাষা হারিয়ে যাওয়ার মতো অবস্থায় ছিল না। তবে তিনি ফরসি ভাষার শক্তিশালী একটি সাহিত্যিক রূপ তৈরি করেছিলেন, যা ভাষাটিকে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে সাহায্য করেছিল।

বলা হয়ে থাকে, ফেরদৌসী খুবই সাদাসিধে ও অভাবের মধ্যে জীবন কাটিয়েছেন। তাঁর সমসাময়িক বা পূর্বসূরি কবিদের মতো তিনিও শাসকদের পৃষ্ঠপোষকতা আশা করেছিলেন। বিশেষ করে সুলতান মাহমুদ গজনভির কাছ থেকে এ ধরনের সুযোগ-সুবিধার আশা করেছিলেন তিনি। তবে তাঁর জীবনে প্রাচুর্য আসেনি।

প্রচলিত কাহিনি অনুযায়ী, ফেরদৌসীকে প্রতিশ্রুতির তুলনায় নগণ্য পুরস্কার দেওয়া হয়েছিল। এতে তিনি বেশ হতাশ হয়েছিলেন। অবশ্য পরে বড় অঙ্কের উপহার পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে।

প্রচলিত আছে, স্বর্ণালংকার বোঝাই একটি কাফেলা যখন তুস শহরে পৌঁছায়, ঠিক সেই মুহূর্তে ফেরদৌসীর মরদেহ শহর থেকে বের করে কবরের দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। গল্পটি সম্ভবত সত্য নয়। তবে এটি এমন একজন কবির ভাবমূর্তির সঙ্গে দারুণভাবে মানানসই, যিনি নিজের ব্রতের জন্য সবকিছু বিসর্জন দিয়েছিলেন।

বর্তমান ইরানে ফেরদৌসী একজন জাতীয় নায়কের মর্যাদা পান। তাঁর রেখে যাওয়া সাহিত্যকর্মকে ইরানি সংস্কৃতির ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে খুব কম সংখ্যক মানুষের পক্ষে শাহনামা মহাকাব্য শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পড়ার সুযোগ হয়। এর ভাষা প্রাচীন। তাই অনেক সময় উচ্চশিক্ষিত ইরানিদের পক্ষেও তা বোঝা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।

এ কারণে আধুনিক ইরানে মহাকাব্যটি সাধারণত সংক্ষিপ্ত বা আধুনিক সংস্করণে পড়া হয়। তা সত্ত্বেও এটি যথেষ্ট প্রভাবশালী। এর স্মরণীয় বিভিন্ন পঙ্‌ক্তিমালা আজও মানুষের মুখে মুখে ঘুরে বেড়ায়।

ফেরদৌসী নিজে সম্ভবত মুসলিম ছিলেন। কিন্তু তাঁর মহাকাব্যের বড় একটি অংশ প্রাক্‌-ইসলামি যুগের কাহিনি নিয়ে লেখা। সেই সময়ে পারস্যের মানুষ অন্য ধর্ম অনুসরণ করতেন। ফলে মহাকাব্যটির কিছু বিষয় বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে কিছুটা জটিলতা তৈরি করে। এর প্রধান কারণ হলো, এটি এমন এক ইরানের কথা বলে, যা ইসলামের চেয়েও পুরোনো।

তাই কর্তৃপক্ষ সব সময় এই মহাকাব্যের সেই দিকগুলোকে কিছুটা হালকা করে দেখাতে চেয়েছে, যা বর্তমান ইসলামি প্রজাতন্ত্রের জন্য চ্যালেঞ্জ হতে পারে। তবে ফেরদৌসী এতটা বড় যে তাঁকে এড়িয়ে যাওয়া অসম্ভব। আবার তিনি এতটাই শক্তিশালী যে তাঁকে পুরোপুরি মুক্তি দেওয়াও বিপজ্জনক।

পরবর্তীকালের কবি রুমি ও হাফিজের ক্ষেত্রেও একই কথা খাটে। এই দুই কবি যথাক্রমে ত্রয়োদশ ও চতুর্দশ শতাব্দীতে বেঁচে ছিলেন। তাঁরা সবাই পারস্যের মহান সাহিত্য ঐতিহ্যের অংশ। তবে তাঁদের প্রকাশের ধরন ছিল ভিন্ন।

প্যারাডাইস বা স্বর্গ শব্দটি এসেছে ফারসি ভাষা থেকে। ফারসি ‘পায়রি’ ও ‘দায়েজা’ থেকে প্যারাডাইস শব্দের উৎপত্তি। এর অর্থ ‘ঘেরা জায়গা’। তবে এটি কোনো সাধারণ ঘেরাও বা বেষ্টনী ছিল না। প্যারাডাইস বা ঘেরা জায়গা বলতে পারস্যের রাজাদের চমৎকার বাগান ও উদ্যানকে বোঝানো হতো।

বর্তমানে ইরানের প্রায় ৯ কোটি ৩০ লাখ বাসিন্দার মধ্যে প্রায় ৬০ শতাংশের মাতৃভাষা ফারসি। বাকিরা এটিকে দ্বিতীয় ভাষা হিসেবে ব্যবহার করেন। দেশটির প্রায় সব বাসিন্দা কোনো না কোনোভাবে এই ভাষায় কথা বলতে পারেন।

মহাকবি ফেরদৌসীর স্মৃতিসৌধ। ইরানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে মাশহাদ শহরের কাছে প্রাচীন তুস নগরীতে

ইরানের বর্তমান জনসংখ্যার অন্তত ১৫ শতাংশ আজারবাইজানি (তুর্কি) ভাষায় কথা বলেন। তা ছাড়া ৫ থেকে ১০ শতাংশ মানুষের প্রথম ভাষা কুর্দি। দেশটির খুব অল্পসংখ্যক মানুষ আরবি ভাষায় কথা বলেন।

সপ্তম শতাব্দীতে ইসলামের প্রসারের আগে মধ্যপ্রাচ্যে সবচেয়ে বেশি প্রচলিত ছিল আরামায়িক ভাষা। অন্যদিকে তখনো পারস্যে আধিপত্য ছিল ফারসি ভাষার। তবে ইসলামের আবির্ভাবেরও এক হাজার বছর আগে এই অঞ্চলের বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে প্রশাসনিক যোগাযোগের মাধ্যম বা লিঙ্গুয়া ফ্রাঙ্কা হিসেবে আরামায়িক ভাষা ব্যবহৃত হতো।

আরামেয় জাতি থেকেই ফারসি ভাষার উদ্ভব ঘটেছিল। এই সেমিটিক জনগোষ্ঠীটি সিরিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব তুরস্ক এবং উত্তর মেসোপটেমিয়া (ইরাক) সংলগ্ন অঞ্চলে বসবাস করত। সম্ভবত আরামায়িক ভাষার গ্যালিলি অঞ্চলের একটি উপভাষা ছিল যিশুখ্রিষ্টের মুখের ভাষা।

ট্রাম্প যখন ইরানকে ‘প্রস্তর যুগে’ পাঠিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে বলেছিলেন ‘তারা ওখানেই থাকার যোগ্য।’ হোয়াইট হাউসের এই শাসক অনেক বিষয়েই অনেক কিছু জানেন না বলে মনে হয়। তাই তাঁকে মনে করিয়ে দেওয়া ভালো, পারস্য তাদের প্রথম রাজা পেয়েছিল খ্রিষ্টপূর্ব ৫৫৯ বছর আগে। তখন সাইরাস দ্য গ্রেট বা মহান সাইরাস সিংহাসনে আরোহণ করেছিলেন, যা ১৭৭৬ সালে যুক্তরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ২ হাজার ৩৩৫ বছর আগের ঘটনা।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের করার মতো কিছু না থাকলে তিনি এই ভেবে স্বস্তি পেতে পারেন যে ইরানে বোমা মারার মতো বাগানের অভাব নেই। কিন্তু আজ বা কাল, সেই ধ্বংসস্তূপ থেকেই বাগানগুলো আবার জেগে উঠবে। অন্যদিকে ট্রাম্প নিজে খুব শিগগির অতীতের বিষয়ে পরিণত হবেন।

জেনে রাখা ভালো, প্যারাডাইস বা স্বর্গ শব্দটি এসেছে ফারসি ভাষা থেকে। ফারসি ‘পায়রি’ ও ‘দায়েজা’ থেকে প্যারাডাইস শব্দের উৎপত্তি। এর অর্থ ‘ঘেরা জায়গা’। তবে এটি কোনো সাধারণ ঘেরাও বা বেষ্টনী ছিল না। প্যারাডাইস বা ঘেরা জায়গা বলতে পারস্যের রাজাদের চমৎকার বাগান ও উদ্যানকে বোঝানো হতো।

শুষ্ক ও ধূলিময় এই ভূখণ্ডে প্রাচীনকালে উন্নত সেচব্যবস্থার মাধ্যমে পানির প্রবাহ তৈরি করা হয়েছিল। সেখানে ফলদ বৃক্ষ, ফুলের বাগান ও ছায়াদানকারী গাছ রোপণ করা হতো। এর ফলে সেখানে স্বর্গীয় এক আবহের সৃষ্টি হতো।

প্রাচীনকালের বাগানের ঐতিহ্য আধুনিক ইরানেও টিকে আছে। ২০১১ সালে ইরানের ৯টি নির্বাচিত বাগান ইউনেসকোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় স্থান পেয়েছে। তা ছাড়া দেশটির নানা প্রান্তে এখনো হাজারো বাগান রয়েছে, যেগুলোর নকশায় একই ধরনের চিন্তার ছাপ সুস্পষ্ট। প্রতিটি বাগান জলবাহী নালা দিয়ে চারটি আয়তক্ষেত্রে বিভক্ত, যা একটি কেন্দ্রে গিয়ে মিলিত হয়। এসব আয়তক্ষেত্র স্বর্গের চারটি নদীর প্রতীক।

ফেরদৌসীর মহাকাব্য শাহনামার একটি পাতার ইলাস্ট্রেশন

পারস্যের সাধারণ প্রকৃতি বেশ রুক্ষ। এসব বাগান বাইরের রুক্ষ প্রকৃতির একদম বিপরীত। এসব বাগানের প্রতিটি অংশ অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ও সুসামঞ্জস্য। প্রতিটি বাগান ঘিরে গড়ে তোলা হয় একটি খাঁটি পারস্য উদ্যান। উদ্যানটি এমনভাবে গড়ে তোলা হয়, যাতে মূল বাগানকে ধুলোবালি ও বাইরের শব্দ থেকে মুক্ত রাখা যায় এবং ভেতরে নিরাপদ ও শীতল মনোরম পরিবেশ বজায় থাকে।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের করার মতো কিছু না থাকলে তিনি এই ভেবে স্বস্তি পেতে পারেন, ইরানে বোমা মারার মতো বাগানের অভাব নেই। কিন্তু আজ বা কাল, সেই ধ্বংসস্তূপ থেকেই বাগানগুলো আবার জেগে উঠবে।

অন্যদিকে ট্রাম্প নিজে খুব শিগগির অতীতের বিষয়ে পরিণত হবেন।