
ইরানের তেল স্থাপনায় দফায় দফায় হামলার পর সেখানে কী পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল, তা বিবিসির কাছে বর্ণনা করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। গতকাল রোববার রাতে ইরানের বেশ কয়েকটি তেলের ডিপোতে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল।
স্থানীয় সংবাদ সংস্থাগুলো ইরানের তেল মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্রের বরাতে বলেছে, ইরানের রাজধানী তেহরান এবং পশ্চিমের আলবোর্জ প্রদেশের রাজধানী কারাজে জ্বালানি তেলের ডিপোতে হামলা হয়েছে।
একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, তেহরানে একটি ডিপোর কাছের একটি সড়কে আগুন জ্বলছে। ভিডিওতে এক ব্যক্তিকে বলতে শোনা যাচ্ছে, দোকান ও বাড়িতেও আগুন জ্বলছে।
এক বাসিন্দা বিবিসিকে বলেন, ‘কারাজ একদিন শান্ত ছিল, কিন্তু এখন আবার উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। তারা এটিকে উড়িয়ে দিয়েছে।’
কারাজের আরেক বাসিন্দা বলেন, ‘এটি শুরু হয়েছিল একটি লাল আলো দিয়ে, সবকিছু আলোকিত হয়ে উঠেছিল, সঙ্গে সঙ্গে যেন একটি ঢেউ এসে দরজা ঝাঁকিয়ে দিল। তারপর আবার আকাশ আলোকিত হয়ে উঠল। বিশাল আকারের একটি লাল মেঘ দেখা দিল। আমরা জানতাম না কী ঘটছিল।’
কী ঘটছে, সেটা দেখতে ওই ব্যক্তি বাড়ির ছাদে যান। সেখান গিয়ে তিনি দেখতে পান, কাছের তেলের ডিপোতে আগুন জ্বলছে।
যেসব ইরানি বিবিসির সঙ্গে কথা বলেছেন, নিরাপত্তার খাতিরে বিবিসি তাঁদের নাম প্রকাশ করেনি।
ইরানি কর্তৃপক্ষ বলেছে, তারা তেহরানের বাতাসের মান পরীক্ষা করছে এবং বাসিন্দাদের বাড়ির ভেতরে থাকতে বলেছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বকায়ি বলেন, হামলার কারণে বাতাসে বিপজ্জনক পদার্থ ও বিষাক্ত উপাদান ছড়াচ্ছে, যা বড় পরিসরে মানুষের জীবনকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে।
তেহরান থেকে এক নারী বলেছেন, পুরো নগরী ধোঁয়ায় ঢেকে গেছে।
ওই নারী আরও বলেন, ‘আপনি পোড়া গন্ধ পাবেন। আমি সূর্যের দেখা পাচ্ছি না। এখানে ভয়ংকর ধোঁয়া। এখনো সেখানে ধোঁয়া রয়েছে, আমি খুবই ক্লান্ত।’
কারাজের আরেক বাসিন্দা বলেন, ডিপোতে হামলার পর বড় ধরনের বিস্ফোরণ হয়েছে এবং কয়েক ঘণ্টা ধরে সেখানে আগুন জ্বলতে দেখা গেছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যৌথ আগ্রাসন শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। প্রথম দিনই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যা করা হয়। এ যুদ্ধ ইতিমধ্যে দ্বিতীয় সপ্তাহে গড়িয়েছে।
ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদেশ এবং মার্কিন সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে জবাব দিচ্ছে তেহরান।
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যৌথ হামলায় ইরানে অন্তত ১ হাজার ৩৩২ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আহত হয়েছেন আরও কয়েক হাজার মানুষ। জাতিসংঘে ইরানের রাষ্ট্রদূত আমির সাইদ ইরাভানি এ তথ্য জানিয়েছেন।