যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

ট্রাম্পের ‘শান্তি পর্ষদে’ আরও ৭ মুসলিম দেশ, এ পর্যন্ত কে আছে কে নেই

ফিলিস্তিনের গাজা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প–ঘোষিত ‘শান্তি পর্ষদে’ যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সৌদি আরব, তুরস্ক, মিসরসহ সাতটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ। গতকাল বুধবার এক যৌথ বিবৃতিতে দেশগুলো এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে।

এর আগে গতকাল ট্রাম্পের শান্তি পর্ষদে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইসরায়েল। দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দপ্তর এক বিবৃতিতে ট্রাম্পের আমন্ত্রণ গ্রহণ করার কথা জানায়।

যুদ্ধপরবর্তী গাজার পুনর্গঠন তদারকি করার জন্যই মূলত এই পর্ষদ গঠন করা হয়েছে। ভূমিকা অংশে লেখা আছে, পর্ষদ ‘স্থিতিশীলতা বাড়ানো, নির্ভরযোগ্য ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং সংঘাতের প্রভাবে বা ঝুঁকিতে থাকা অঞ্চলে টেকসই শান্তি নিশ্চিত করার’ লক্ষ্য নিয়ে কাজ করবে।

ট্রাম্প নিজেই পর্ষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। পাশাপাশি তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি হিসেবেও আলাদা দায়িত্ব পালন করবেন। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ, সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার, ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারসহ কয়েকজন পর্ষদের সদস্য হিসেবে থাকছেন।

সংবাদ সংস্থা এএফপির হাতে থাকা পর্ষদের সনদ অনুযায়ী এর কাজ শুধু ফিলিস্তিন ভূখণ্ডে সীমাবদ্ধ নয়। আর শান্তি পর্ষদের স্থায়ী সদস্য হওয়ার জন্য প্রত্যেককে ১০০ কোটি ডলার পর্যন্ত অর্থ দিতে হতে পারে।

সৌদি আরব জানিয়েছে, মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ সাতটি দেশ (সৌদি আরব, তুরস্ক, মিসর, জর্ডান, ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তান ও কাতার) গাজায় স্থায়ী যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করা, পুনর্গঠনে সহায়তা করা এবং তারা যাকে ‘ন্যায়সংগত ও টেকসই শান্তি’ বলে বর্ণনা করেছে সেটা এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে একমত হয়েছে।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে গতকাল এক বিবৃতিতে ট্রাম্পের শান্তি পর্ষদে দেশটির যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে।

বুধবার সন্ধ্যায় ট্রাম্প জানান, শান্তি পর্ষদে যোগ দিতে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন তাঁর আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন। সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) বৈঠকে অংশ নেওয়ার ফাঁকে পুতিনের প্রসঙ্গে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ‘তাঁকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তিনি গ্রহণ করেছেন। অনেকেই (আমন্ত্রণ) গ্রহণ করেছেন।

এর পরপর প্রতিক্রিয়া জানান পুতিন। তিনি বলেন, আমন্ত্রণ এখনো বিবেচনাধীন। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পুতিন দ্রুত সাড়া দিয়ে বলেছেন, রাশিয়ার জব্দ থাকা সম্পদ থেকে তিনি ১০০ কোটি ডলার দিতে প্রস্তুত আছেন। তিনি শান্তি পর্ষদকে প্রাথমিকভাবে মধ্যপ্রাচ্যের জন্য প্রাসঙ্গিক বলে মনে করছেন।

ট্রাম্পের শান্তি পর্ষদে ঠিক কতগুলো দেশকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, সেটি নিশ্চিত নয়। কানাডা ও যুক্তরাজ্য এ তালিকায় রয়েছে। তবে দেশ দুটি এখনো প্রকাশ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছুই জানায়নি। ফ্রান্সের আমন্ত্রণ পাওয়ার কথা সংবাদমাধ্যমে এসেছে। আজ বৃহস্পতিবার আল–জাজিরার একটি প্রতিবেদনে এ পর্যন্ত মোট ১৯টি দেশের শান্তি পর্ষদে যোগ দেওয়া সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে।

দেশগুলো হলো আর্জেন্টিনা, আর্মেনিয়া, আজারবাইজান, বাহরাইন, বেলারুশ, মিসর, হাঙ্গেরি, ইন্দোনেশিয়া, জর্ডান, উজবেকিস্তান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাজাখস্তান, কসোভো, মরক্কো, পাকিস্তান, কাতার, সৌদি আরব, তুরস্ক ও ভিয়েতনাম।

বুধবার ভ্যাটিকান জানিয়েছে, ট্রাম্পের পক্ষ থেকে শান্তি পর্ষদে যোগ দিতে আমন্ত্রণ পেয়েছেন পোপ লিও। সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে ভ্যাটিকানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী কার্ডিনাল পিয়েত্রো পারোলিন বলেন, আমন্ত্রণের বিষয়টি বিবেচনা করতে সময় নেবেন পোপ।

স্লোভেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী রবার্ট গোলোব শান্তি পর্ষদে যোগ দেবেন না বলে জানিয়ে দিয়েছেন। তাঁর মতে, ট্রাম্পের এ পর্ষদ বৃহত্তর আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় ‘বিপজ্জনকভাবে হস্তক্ষেপ’ করছে।