ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইলন মাস্ক
ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইলন মাস্ক

ইরানে ইন্টারনেট আবার চালু করতে মাস্কের সঙ্গে কথা বলবেন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানে ইন্টারনেট পরিষেবা আবার চালুর বিষয়ে তিনি মার্কিন ধনকুবের ইলন মাস্কের সঙ্গে কথা বলার পরিকল্পনা করছেন।

ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভের মধ্যে দেশটির কর্তৃপক্ষ ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়ার প্রেক্ষাপটে গতকাল রোববার এ কথা বলেন ট্রাম্প।

মাস্কের মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা ‘স্টারলিংক’ ইরানে ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন ট্রাম্প। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, তিনি (মাস্ক) এ ধরনের কাজে খুবই পারদর্শী। তাঁর খুব ভালো একটি প্রতিষ্ঠান আছে।

ট্রাম্প ও মাস্কের মধ্যকার সম্পর্ক দীর্ঘদিন উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে গেছে। ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারে মাস্ক বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে তিনি মার্কিন ফেডারেল সরকারের ব্যয় ব্যাপকভাবে কমানোর উদ্যোগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

গত বছর ট্রাম্পের গুরুত্বপূর্ণ কর সংস্কার বিলের বিরোধিতা করেন মাস্ক। এর জেরে দুজনের মধ্যে প্রকাশ্য তিক্ততা তৈরি হয়েছিল। তবে চলতি মাসে ফ্লোরিডার মার-আ-লাগো রিসোর্টে তাঁদের একসঙ্গে নৈশভোজ করতে দেখা গেছে। এ ঘটনা থেকে ধারণা করা হচ্ছে, তাঁদের সম্পর্ক আবার জোড়া লেগেছে।

ইরানে ইন্টারনেট আবার চালুর বিষয়ে ট্রাম্পের মন্তব্যের পর মাস্ক বা স্পেসএক্সের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে নিহত মানুষের সংখ্যা বেড়ে ৫৩৮ হয়েছে। নিহত ব্যক্তিদের বেশির ভাগই বিক্ষোভকারী। গত বৃহস্পতিবার থেকে দেশটিতে ইন্টারনেট বন্ধ রয়েছে।

২০২২ সালের পর সবচেয়ে বড় সরকারবিরোধী বিক্ষোভের মুখে পড়েছে ইরান। মূল্যস্ফীতি ও আর্থিক দুরবস্থার প্রতিবাদে এই বিক্ষোভ শুরু হলেও তা দ্রুত রাজনৈতিক রূপ নেয়।

গত ২৮ ডিসেম্বর শুরু হওয়া বিক্ষোভ ইতিমধ্যে দেশটির বড় অংশজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। বিক্ষোভকারীরা বর্তমান শাসনের অবসান দাবি করছেন।