আজিজুর রহমান ওরফে মুছাব্বির
আজিজুর রহমান ওরফে মুছাব্বির

চাঁদাবাজি নিয়ে বিরোধ

বিদেশ থেকে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা মুছাব্বিরকে হত্যার নির্দেশ দেওয়া হয়: ডিবি

রাজধানীর পশ্চিম তেজতুরী বাজার এলাকায় স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা আজিজুর রহমান ওরফে মুছাব্বিরকে (৪৪) হত্যার নির্দেশ দেন দীলিপ ওরফে বিনাশ নামের এক ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’। দেশের বাইরে থেকে তিনি এ নির্দেশ দেন। আধিপত্য বিস্তার ও চাঁদাবাজি নিয়ে বিরোধের কারণেই মুছাব্বিরকে হত্যা করা হয়।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম আজ শনিবার বেলা ১১টার দিকে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান।

মুছাব্বির হত্যায় গতকাল শুক্রবার ভোরে নরসিংদী থেকে আবদুর রহিম নামের এক শুটারকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর বিষয়ে তথ্য জানাতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এ নিয়ে এই হত্যাকাণ্ডে মোট পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হলো।

গ্রেপ্তার আসামিদের সঙ্গে শীর্ষ সন্ত্রাসী দীলিপের সম্পর্ক রয়েছে বলছে ডিবি। তাঁদের মধ্যে একজন স্বীকারোক্তি দিয়েছেন বলেও ডিবি সংবাদ সম্মেলনে জানায়।

সংবাদ সম্মেলনে ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম আরও বলেন, মুছাব্বিরকে গুলি করেন দুজন। এর মধ্যে একজন জিন্নাত, আরেকজন রহিম। জিন্নাতকে আগেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই দুজন টাকার বিনিময়ে গুলি করেছেন। ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজেও তাঁদের দেখা গেছে। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ২টি বিদেশি পিস্তল, ২টি ম্যাগাজিন ও ১২টি গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।

১১ জানুয়ারি জিন্নাত (২৪), আবদুল কাদের (২৮), মো. রিয়াজ (৩১) ও মো. বিলাল নামের চারজনকে গ্রেপ্তার করে ডিবি। হত্যাকারীরা কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত কি না, জানতে চাইলে শফিকুল ইসলাম বলেন, চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের কোনো দল নেই। তারা নিজেদের প্রয়োজনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যেতে রাজি থাকে। জিজ্ঞাসাবাদে তারা বিভিন্ন চাঁদাবাজ গ্রুপের নাম বলেছে, তবে কোনো রাজনৈতিক দলের কথা বলেনি।

কারওয়ান বাজার এলাকায় ৮ থেকে ৯টি গ্রুপ নামে-বেনামে চাঁদা তোলে জানিয়ে পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘চাঁদাবাজির এই সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়ার জন্য আমরা চেষ্টা করছি। আমরা বিভিন্ন অভিযান পরিচালনা করছি।’

৭ জানুয়ারি রাত আটটার পর রাজধানীর পশ্চিম তেজতুরী পাড়ায় হোটেল সুপার স্টারের পাশের গলিতে মুছাব্বিরকে গুলি করে হত্যা করে মোটরসাইকেলে আসা আততায়ীরা। এ সময় তাঁর সঙ্গে থাকা আবু সুফিয়ান ব্যাপারী মাসুদও গুলিবিদ্ধ হন। আজিজুর একসময় ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব এবং কেন্দ্রীয় সংসদের যুগ্ম সম্পাদকও ছিলেন। আর মাসুদ তেজগাঁও থানার ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক।

এ ঘটনায় আজিজুরের স্ত্রী সুরাইয়া বেগম অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে তেজগাঁও থানায় হত্যা মামলা করেন।