লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার ভবানীগঞ্জ এলাকায় জাতীয় নির্বাচনের প্রচারণার প্রথম দিনেই জামায়াতে ইসলাম ও বিএনপির নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ফেস্টুন লাগানোকে কেন্দ্র করে এ সংঘর্ষ হয়। এতে উভয় পক্ষের চারজন আহত হয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার সকালে ভবানীগঞ্জ ইউনিয়নের রিফুজি মার্কেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহত ব্যক্তিরা হলেন ওই ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মো. শাহজাহান, ভবানীগঞ্জ ৬ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের কর্মী ফিরোজ আলম, ছাত্রশিবিরের ওয়ার্ড সেক্রেটারি ইয়াসিন আরাফাত ও অর্থ সম্পাদক মো. সোহাগ হোসেন। আহত ব্যক্তিদের সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সকাল থেকে ভবানীগঞ্জ এলাকার বিভিন্ন স্থানে দুই দলের নেতা-কর্মীরা নিজ নিজ প্রার্থীর পক্ষে ফেস্টুন লাগাতে থাকেন। এ সময় এক জায়গায় ফেস্টুন লাগানো নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন তাঁরা। সংঘর্ষে লাঠিসোঁটা ব্যবহৃত হয়। এতে উভয় পক্ষের চারজন আহত হন।
আহত জামায়াত কর্মী ফিরোজ আলম বলেন, ‘আমরা সকালে রিফুজি মার্কেট এলাকায় লক্ষ্মীপুর-৩ (সদর) আসনে জামায়াতে ইসলামের প্রার্থী রেজাউল করিমের প্রচারণার ফেস্টুন লাগাতে যাই। এ সময় স্থানীয় বিএনপির কর্মী কাশেম মাঝি বাধা দেন। একপর্যায়ে আমরা সেখান থেকে সরে গিয়ে বাজারে অপর পাশে ফেস্টুন লাগানোর চেষ্টা করি। তখন বিএনপির আরেক কর্মী শাহজাহান লাঠিসোঁটা নিয়ে আমাদের ওপর হামলা করেন। স্থানীয়রা আমাদের উদ্ধার করেন।’
লক্ষ্মীপুর জেলা বিএনপির নেতা হাছিবুর রহমান বলেন, বিএনপির কর্মী শাহজাহানের বাড়িতে জামায়াতে ইসলামীর কর্মীরা ফেস্টুন লাগাতে যান। শাহজাহান তাঁর বাড়িতে ফেস্টুন না লাগানোর অনুরোধ করলে জামায়াতের নেতা-কর্মীরা ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁকে মারধর করেন। মারধরের কারণে তাঁর নাক ফেটে যায়।
লক্ষ্মীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওয়াহিদ পারভেজ বলেন, পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এর আগে গত ১৫ জানুয়ারি লক্ষ্মীপুরে বিএনপি-জামায়াতের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হন। সদর উপজেলার চরশাহী ইউনিয়নে চরশাহী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড বটগাছতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষ পাল্টাপাল্টি মামলা করেছেন।