
ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার সোহাগী গ্রামে ১৯৭১ সালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে উপজেলার সোহাগী চরপাড়া গ্রাম থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার আসামির নাম ছলিমুদ্দিন (৯০)।
ছলিমুদ্দিনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ বিচারাধীন মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল। প্রায় দুই বছর তিনি পলাতক ছিলেন। আজ শুক্রবার দুপুরে ময়মনসিংহ গোয়েন্দা পুলিশের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ছলিমুদ্দিনের বাড়ি ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার সোহাগী গ্রামে। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় অক্টোবর মাসে সোহাগী বাজারে হামলা চালিয়ে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করেন তিনি। তাঁর সহায়তায় তৎকালীন আওয়ামী লীগ নেতা ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক নুরুল হক ওরফে তারা মিয়ার বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়; হিন্দু ব্যবসায়ী গোপাল চন্দ্র করকে অপহরণ করে পাকিস্তান আর্মি ক্যাম্পে নিয়ে অমানুষিক নির্যাতন ও গুলি করে হত্যা করা হয়। হত্যার পর গুম করা হয় লাশ।
এ ছাড়া মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে বাংলা কার্তিক মাসের ২৭ তারিখ আনুমানিক ১০টায় আওয়ামী লীগ নেতা ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক নুরুল হককে ধরে নিয়ে যান ছলিমুদ্দিন। এরপর ময়মনসিংহের বড় মসজিদ রাজাকার ক্যাম্পে আটকে রেখে নির্যাতন করেন। পরে ব্রহ্মপুত্র নদের পাড়ে নিয়ে গুলি করে হত্যার পর লাশ নদীতে ভাসিয়ে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে মানবতাবিরোধী অপরাধ ট্রাইব্যুনালে করা মামলায়। ওই মামলায় দুই বছর আগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল।
ছলিমুদ্দিনকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে ময়মনসিংহ জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি ফারুক হোসেন বলেন, গ্রেপ্তারের পর ছলিমুদ্দিনকে আজ ময়মনসিংহের আদালতের মাধ্যমে ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়েছে।