কুষ্টিয়া-৩ আসন

ভোট কারচুপির ও হামলা-সহিংসতার অভিযোগ এনে গেজেট বাতিলের দাবি

কুষ্টিয়া–৩ আসনে পুনরায় ভোটগ্রহণের দাবিতে ঈগলের কর্মী-সমর্থকদের বিক্ষোভ মানবন্ধন। বুধবার দুপুরে কুষ্টিয়া পৌরসভার সামনে
ছবি: প্রথম আলো

কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনে ভোট কারচুপির অভিযোগ এনে গেজেট বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছেন পরাজিত স্বতন্ত্র প্রার্থী (ঈগল প্রতীক) পারভেজ আনোয়ারের কর্মী-সমর্থকেরা। সেই সঙ্গে তাঁরা ভোটের পরে বিজয়ী নৌকার প্রার্থী মাহবুব উল আলম হানিফের কর্মী-সমর্থকদের হামলা-সহিংসতার শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ তুলে ধরেছেন।

আজ বুধবার বেলা সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত শহরে কালেক্টরেট চত্বরের সামনে কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ মহাসড়কের দুই পাশে দাঁড়িয়ে এই মানববন্ধন করা হয়। সেখানে সহস্রাধিক নারী-পুরুষ ব্যানার হাতে দাঁড়িয়ে অংশ নেন।

মানববন্ধনে অংশ নিয়ে বক্তব্য দেন পারভেজ আনোয়ারের বাবা কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও কুষ্টিয়া পৌরসভার পাঁচবারের মেয়র আনোয়ার আলী। মানববন্ধন শেষে জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা এহেতেশাম রেজার কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়।

কুষ্টিয়া–৩ আসনে পুনরায় ভোটগ্রহণের দাবিতে বিক্ষোভ মানবন্ধনে বক্তব্য দেন কুষ্টিয়া পৌরসভার মেয়র আনোয়ার আলী। বুধবার দুপুরে

স্মারকলিপিতে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরে বলা হয়, ভোটের আগের রাতে সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত নৌকার প্রার্থীর ক্যাডাররা সদলবল প্রতিটি ইউনিয়নে ভোটকেন্দ্রের আশপাশে মহড়া দিয়েছে। পারভেজ আনোয়ারের পোলিং এজেন্টদের হুমকি দিয়েছে। ওই রাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দিয়ে পারভেজের পোলিং এজেন্টদের বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাওয়ার ভয় দেখানো হয়। প্রিসাইডিং কর্মকর্তা নিয়োগেও ব্যাপক অনিয়ম করা হয়েছে। দলীয় পদধারী ও নৌকার প্রার্থীর আস্থাভাজন লোকজনকে প্রিসাইডিং কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়। ভোটের দিন বেলা ১১টার মধ্যে প্রায় ৭০টি কেন্দ্র থেকে পারভেজের পোলিং এজেন্টদের মারধর করে বের করে দেওয়া হয়। বেলা একটার মধ্যে কয়েকটি কেন্দ্র ছাড়া অধিকাংশ কেন্দ্র থেকে পোলিং এজেন্টদের বের করে দিয়ে ভোটকেন্দ্র দখলে নেন নৌকার প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকেরা। বেলা দেড়টা থেকে খবর আসতে থাকে, পোলিং এজেন্ট শূন্য করে প্রশাসনের সহায়তায় নৌকায় সিল মারা হচ্ছে। মুঠোফোনে প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করেও কোনো সহায়তা পাওয়া যায়নি।

কুষ্টিয়া-৩ আসনে জয়ী নৌকার প্রার্থী মো. মাহবুব উল আলম হানিফ এবং পরাজিত ঈগল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. পারভেজ আনোয়ার

ভোটে কারচুপি করে জয়লাভের পর ওই রাত থেকেই পারভেজের কর্মী-সমর্থকদের ওপর শুরু হয়েছে হামলা, বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাট। ওই রাতেই পৌরসভার ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের কুমারগাড়া এলাকায় ঈগলের প্রতীকের সমর্থক রজব আলীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করেছেন নৌকার সমর্থকেরা। এ ছাড়া আরও কয়েকজনকে মারধর ও বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয়েছে।

পরাজিত স্বতন্ত্র প্রার্থী পারভেজ আনোয়ার বলেন, ‘নির্বাচনের মাঠে শেষ পর্যন্ত থাকার চেষ্টা করেছি। বিনিময়ে আজ আমার কর্মী-সমর্থকদের জীবন চরম নিরাপত্তাহীনতায়। এ ধরনের ভোট ডাকাতি ও প্রহসনের নির্বাচন আশা করিনি। অবিলম্বে এই আসনে পুনরায় ভোট গ্রহণের জোর দাবি জানাচ্ছি।’

কুষ্টিয়া-৩ আসনে মো. মাহবুব উল আলম হানিফ নৌকা প্রতীকে ১ লাখ ২৭ হাজার ৮০৩ ভোট পেয়ে তৃতীয়বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. পারভেজ আনোয়ার ঈগল প্রতীকে পেয়েছেন ৪২ হাজার ১৮১ ভোট।