পাথর লুট–কাণ্ডে সিলেটে গণশুনানি তদন্ত কমিটির, ১০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা

শুনানি শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ও মন্ত্রিপরিষদ সচিব (সমন্বয় ও সংস্কার) জাহেদা পারভীন
ছবি: প্রথম আলো

সিলেটের ভোলাগঞ্জের সাদাপাথরে পাথর লুটের ঘটনায় গণশুনানি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের গঠিত তদন্ত কমিটি। বুধবার দুপুরে সিলেট সার্কিট হাউসে গণশুনানি হয়। এতে জানানো হয়, বেঁধে দেওয়া ১০ কার্যদিবসের মধ্যেই প্রতিবেদন জমা দেওয়া হতে পারে। এ ছাড়া পাথর লুট ঠেকাতে করণীয় ঠিক করা হবে বলে তদন্ত কমিটি থেকে জানানো হয়েছে। এর আগে গতকাল মঙ্গলবার তদন্ত কমিটি সরেজমিনে ভোলাগঞ্জ সাদাপাথর এলাকা পরিদর্শন করে।

গণশুনানিতে সভাপতিত্ব করেন তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ও মন্ত্রিপরিষদ সচিব (সমন্বয় ও সংস্কার) জাহেদা পারভীন। শুনানিতে কমিটির অন্য আরও তিন সদস্যও অংশ নেন। শুনানিতে অংশ নেন সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা। বক্তব্য দেন পরিবেশ অধিদপ্তর, ট্রাক পরিবহন মালিক সমিতি, পাথর ব্যবসায়ী সমিতি, পরিবেশবাদী সংগঠন ও সাংবাদিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা।

শুনানি শেষে কমিটির আহ্বায়ক জাহেদা পারভীন সাংবাদিকদের বলেন, তদন্ত কমিটি যাঁদের সঙ্গে কথা বলার প্রয়োজন, সবার সঙ্গে কথা বলেছে। এ ছাড়া আরও কয়েকজন সরকারি ও বেসরকারি কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলার বাকি রয়েছে। তাঁদের সঙ্গেও কথা বলা হবে। ঘটনার দুটি বিষয় নিয়ে কাজ করছে তদন্ত কমিটি। একটি হচ্ছে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনের ঘটনায় কোনো কর্তৃপক্ষের দায়িত্বের অবহেলা ছিল কি না, সেটি নিরূপণ করা এবং উল্লিখিত ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সুপারিশ প্রণয়নপূর্বক প্রতিবেদন দাখিল করা।

তদন্ত এখনো চলমান আছে জানিয়ে জাহেদা পারভীন বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিভিন্ন শ্রেণি–পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। বিষয়টি অনুধাবনের চেষ্টা করা হয়েছে। এ ছাড়া গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলো পর্যালোচনা করা হবে। ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে বিভিন্ন জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর বিষয়টি আরও পরিষ্কার করে জানানো হবে। এখনই তদন্ত কমিটির বিষয়গুলো সম্পর্কে আলোচনা করব না। তথ্যগুলো সংগ্রহ করে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। আশা করা যাচ্ছে, কর্তৃপক্ষের দেওয়া ১০ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেব।’

গণশুনানিতে অংশ নেওয়া পরিবেশবাদী সংগঠন ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা) সিলেট শাখার সদস্যসচিব আবদুল করিম চৌধুরী (কিম) প্রথম আলোকে বলেন, শুনানিতে প্রথম আলোয় প্রকাশিত পাথর লুটের বিষয়ে একাধিক প্রতিবেদনের বিষয়ে তদন্ত কমিটির দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। প্রতিবেদনগুলো প্রকাশের পর ব্যবস্থা নেওয়া হলে লুট–কাণ্ড ঠেকানো যেত।