
মাগুরায় এক গৃহবধূর মৃত্যু নিয়ে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য পাওয়া গেছে। শ্বশুরবাড়ির লোকজনের দাবি, ওই গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছেন। অন্যদিকে পরিবারের সদস্যরা বলছেন, তাঁকে নির্যাতনের মাধ্যমে হত্যা করা হয়েছে। গতকাল শনিবার রাত আটটার দিকে মৃত অবস্থায় ওই গৃহবধূকে মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে আনা হয়।
নিহত ওই গৃহবধূর নাম আফিয়া খাতুন (১৯)। তিনি পৌরসভার পারনান্দুয়ালী এলাকার মৃত আল আমিনের মেয়ে। এক বছর আগে পৌরসভার কুকনা গ্রামের মাজেদ মোল্লার ছেলে রমজান মোল্লার সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়।
নিহত গৃহবধূর নানা বাচ্চু মোল্লা বলেন, শনিবার রাত সাড়ে আটটার দিকে আফিয়ার শ্বশুরবাড়ির গ্রামের একজন ফোন করে জানান, তাঁর নাতনি মারা গেছে। হাসপাতালে দেখতে যেতে বলা হয়। বাচ্চু মোল্লা বলেন, ‘হাসপাতালে এসে আফিয়াকে মৃত অবস্থায় পাই। ওর শ্বশুরবাড়ির লোকজন দাবি করেছে, সে নাকি আত্মহত্যা করেছে। কিন্তু আসলে এমন ঘটনা ঘটেনি। তাকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে। তার কান দিয়ে রক্ত বের হচ্ছিল এবং শরীরের বিভিন্ন জায়গায় দাগ রয়েছে। তা ছাড়া মেয়েটির আত্মহত্যা করার কোনো কারণ নেই।’
তবে ওই গৃহবধূর শ্বশুর মাজেদ মোল্লা আজ রোববার প্রথম আলোকে বলেন, ‘ঘটনার সময় আমি বাড়িতে ছিলাম না। শুনেছি, ছেলের বউ বাবার বাড়ি যেতে চেয়েছিল, সেটা নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মনোমালিন্য হয়। এর জের ধরে শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা কি আটটার দিকে ঘরের ভেতরে আড়ার সঙ্গে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে সে (আফিয়া খাতুন) আত্মহত্যা করে। এ সময় আমার স্ত্রী ও মা বাড়িতে ছিল, কিন্তু তাঁরা কিছু বুঝতে পারেননি। এরপর তাঁকে উদ্ধার করে আমরা হাসপাতালে নিয়ে যাই।’
মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গৃহবধূ আফিয়া খাতুনকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসক ওসমান গনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘গতকাল রাত পৌনে ৯টার দিকে ওই গৃহবধূকে হাসপাতালে জরুরি বিভাগে আনা হয়। তবে হাসপাতালে আনার আগেই তাঁর মৃত্যু হয়েছিল। তাঁকে যাঁরা নিয়ে এসেছিলেন, তাঁরা জানিয়েছিলেন যে মেয়েটি আত্মহত্যা করেছেন।’
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ওই গৃহবধূকে হাসপাতালে নেওয়ার পর থেকেই তাঁর স্বামী গা ঢাকা দিয়েছেন। বাড়িতে গিয়েও তাঁকে পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাগুরা সদর থানার ওসি মো. আইয়ুব আলী রোববার প্রথম আলোকে বলেন, নিহত ওই গৃহবধূর লাশের ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদরের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। তিনি কীভাবে মারা গেছেন, এটা এখনো স্পষ্ট নয়। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্ত সাপেক্ষে বিষয়টি পরিষ্কার হওয়া যাবে।