নিহত শ্রমিকদের লাশের অপেক্ষায় পরিবারের সদস্যরা। আজ রোববার সকালে ঢাকার মিটফোর্ড হাসপাতালের মর্গের সামনে
নিহত শ্রমিকদের লাশের অপেক্ষায় পরিবারের সদস্যরা। আজ রোববার সকালে ঢাকার মিটফোর্ড হাসপাতালের মর্গের সামনে

কেরানীগঞ্জে কারখানায় আগুন

হাতে চাবি ও চুলের ক্লিপ দেখে নারী শ্রমিকের লাশ শনাক্ত

ঢাকার কেরানীগঞ্জের কদমতলীতে গ্যাসলাইটার কারখানায় আগুনের ঘটনায় নিহত ছয়জনের মধ্যে চারজনের মরদেহ শনাক্ত করা হয়েছে। গতকাল শনিবার রাতে পুরান ঢাকার মিটফোর্ড হাসপাতালের মর্গে তাঁদের মৃতদেহ শনাক্ত করেন পরিবারের সদস্যরা।

নিহত চারজন হলেন মঞ্জু বেগম (৩৬), শাহীনুর বেগম (৩৫), মীম আক্তার (১৬) ও হাজেরা বেগম ওরফে পারভীন (৫৮)। এর মধ্যে হাতে চাবির গুচ্ছ ও চুলের ক্লিপ দেখে মঞ্জু ও শাহীনুরের মরদেহ শনাক্ত করা হয়।

নিহত মঞ্জু বেগম পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কবীরকাঠি গ্রামের জসিম উদ্দিন দুয়ারির স্ত্রী। তিনি কারখানার পাশে শহীদনগর এলাকায় বসবাস করতেন। এই দম্পতির এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। তাঁর ছেলে সাব্বির হোসেন বলেন, ‘আমার মায়ের হাতে ঘরের চাবির গুচ্ছ দেখে তাঁর লাশ শনাক্ত করি। যাদের অবহেলার কারণে আমার মায়ের মৃত্যু হয়েছে, আমরা তাদের সবার বিচার চাই।’

নিহত শাহীনুর বেগম মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার আলীনগর গ্রামের বাসিন্দা রাজু মিয়ার স্ত্রী। এই দম্পতির এক ছেলে রয়েছে। শাহীনুর পরিবারের সদস্যদের নিয়ে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের গোলামবাজার এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। শাহীনুরের বাবা আজিজ কাজী গতকাল রাত ১১টায় মিটফোর্ড হাসপাতালের মর্গে গিয়ে তাঁর লাশ শনাক্ত করেন। তিনি জানান, তাঁর মেয়ের (শাহীনুর) চুলের খোঁপার ক্লিপ দেখে চিনতে পারেন।

নিহত মীম বরিশালের মুলাদী উপজেলার বাসিন্দা লাল চানের স্ত্রী। এই দম্পতির তিন বছর বয়সী একটি ছেলেসন্তান রয়েছে। মীমের খালু সালাম কাজী বলেন, ‘মীমের স্বামী লাল চান মাদকের মামলায় ছয় মাস ধরে জেলে আছে। আগুনের খবর পেয়ে আমরা কারখানার সামনে ছুটে আসি। তখন মীমের কোনো খোঁজ পাচ্ছিলাম না। পরে মিটফোর্ড হাসপাতালের মর্গে গিয়ে মীমের মরদেহ শনাক্ত করি।’

নিহত হাজেরা বেগম নোয়াখালী সদর উপজেলার পিয়ারাপুর গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর স্বামীর নাম জসীম উদ্দীন। দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের আগানগর ইউনিয়নের আমবাগিচা এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। তাঁর ছেলে জাহিদ মিয়া বলেন, ‘এক বছর ধরে আমার মা ওই কারখানায় কাজ করে আসছিলেন। লোকমুখে আগুনের খবর শুনে কারখানার সামনে ছুটে যাই। সেখানে অনেক খোঁজাখুঁজি করেও মাকে না পেয়ে মিটফোর্ড হাসপাতালে আসি। পরে সেখানে মায়ের লাশ খুঁজে পাই।’

ক্ষোভ প্রকাশ করে জাহিদ মিয়া আরও বলেন, ‘এটা দুর্ঘটনা নয়; আমার মাসহ অন্য শ্রমিকদের হত্যা করা হয়েছে। তাঁদের মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছে কারখানার লোকজন। আমরা তাদের সবার ফাঁসি চাই।’

দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলম বলেন, এ ঘটনায় এখনো মামলা হয়নি। মামলা প্রক্রিয়াধীন। কারখানার মালিক আকরামকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

উল্লেখ্য, গতকাল শনিবার দুপুরে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের আগানগর ইউনিয়নের কদমতলী ডিপজল গলি সড়ক এলাকায় আকরাম গ্যাসলাইটার কারখানায় আগুন লাগে। দেড় ঘণ্টা চেষ্টার পর বেলা আড়াইটার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। আর বিকেল পৌনে পাঁচটার দিকে আগুন পুরোপুরি নেভাতে সক্ষম হয় ফায়ার সার্ভিস।