৩০ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ৫০তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষা। ২ লাখ ৯০ হাজারের বেশি পরীক্ষার্থী এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছে। দীর্ঘদিনের পরিশ্রমকে সার্থকতা দেওয়ার সময় এখন। হাতে সময় আছে মাত্র দুই দিন। এ সময়ে নতুন কিছু পড়ার চেয়ে যা পড়েছেন, তা গুছিয়ে নেওয়া এবং মানসিকভাবে ফিট থাকাটাই আসল চ্যালেঞ্জ। পরীক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ পরামর্শ দিয়েছেন ৪৪তম বিসিএসে শিক্ষা ক্যাডারে (ইতিহাস) প্রথম মাসফিকা রহমান।
এত দিন যা পড়েছেন, সেগুলোই এখন চোখ বুলিয়ে নেওয়ার সময়। নতুন কোনো বিষয় বা কঠিন টপিক এখন শুরু করতে যাবেন না।
রোটেট করে পড়ুন: একটানা একটা বিষয় না পড়ে ২-৩ ঘণ্টা পরপর বিষয় পরিবর্তন করুন। এতে একঘেয়েমি আসবে না এবং মস্তিষ্কের ধারণক্ষমতা বাড়বে।
বাংলার ওপর জোর: প্রাচীন ও মধ্যযুগের সিলেবাস যেহেতু নির্দিষ্ট, তাই এখান থেকে নম্বর তোলা সহজ। আধুনিক যুগের গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্যিকদের তথ্যগুলো একবার দেখে নিন।
ইংরেজি ও গণিত: ইংরেজির গুরুত্বপূর্ণ লিটারারি পিরিয়ড এবং গ্রামারের বেসিক রুলস পার্টস অব স্পিস, ইডিয়মস, ফ্রেজ অ্যান্ড ক্লজ, ডিটারমিনারস ঝালাই করে নিন। গণিতের ক্ষেত্রে নতুন অঙ্ক না করে শুধু সূত্রগুলো এবং বিগত বছরের কিছু ট্রিকি সমাধান দেখে যান।
বাংলাদেশ বিষয়াবলি: বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলিতে অনেক বড় সিলেবাস। কৃষি, অর্থনীতি, শিল্প- বাণিজ্য, সংবিধানের সঙ্গে রাজনৈতিক ও সরকারব্যবস্থা সমন্বয় করে রিভিশন দিন।
সাধারণ জ্ঞান ও বিজ্ঞান: আন্তর্জাতিক সংস্থা (জাতিসংঘ, আইএমএফ, বিশ্বব্যাংক), সাম্প্রতিক গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক ঘটনা এবং বিজ্ঞানের গতানুগতিক বা স্ট্রাকচারাল বিষয়গুলো দ্রুত রিভিশন দিন।
নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন: বিগত বছরের প্রশ্নগুলো দেখে নিন। পাশাপাশি সুশাসন ও নৈতিকতার মৌলিক বিষয়গুলোতে চোখ বোলান।
বিসিএসের মতো দীর্ঘ প্রক্রিয়ার পরীক্ষায় আপনার শারীরিক ও মানসিক স্থিরতা অর্ধেক লড়াই জিতিয়ে দেয়।
ঘুমের সঙ্গে আপস নয়: পরীক্ষার আগের রাতে অন্তত সাত থেকে আট ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন ঘুম প্রয়োজন। ঘুম পর্যাপ্ত না হলে পরিচিত প্রশ্নও পরীক্ষার হলে মনে পড়বে না।
স্বাস্থ্য সতর্কবার্তা: মনে রাখবেন, জীবনের জন্য চাকরি, চাকরির জন্য জীবন নয়। প্রস্তুতির চাপে অসুস্থতা অবহেলা করবেন না। ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, ৪৩তম বিসিএসের সময় চোখের সমস্যা অবহেলা করে পরীক্ষা দিতে যাওয়ায় আমার চোখের স্থায়ী ক্ষতি হয়েছিল। তাই শরীরকে কষ্ট দিয়ে শেষ মুহূর্তের পড়াশোনা হিতে বিপরীত হতে পারে।
স্নায়ু নিয়ন্ত্রণ: পরীক্ষার হলে ঢোকার পর অনেকেরই মনে হয় ‘সব ভুলে গেছি’। এটি একটি অত্যন্ত সাধারণ মানসিক অবস্থা। প্রশ্ন পাওয়ার পর ধীরে ধীরে সব মনে পড়তে শুরু করবে।
পছন্দের বিষয় দিয়ে শুরু: মানসিক চাপ কমাতে সাধারণ জ্ঞান বা বাংলার মতো সহজ ও পরিচিত বিষয় দিয়ে উত্তর শুরু করা বুদ্ধিমানের কাজ। গণিত বা ইংরেজি শেষে সমাধান করলে সময়ের সঠিক ব্যবস্থাপনা করা সহজ হয়।
নেগেটিভ মার্কিং এড়িয়ে চলা: এটি কোনো পাণ্ডিত্য দেখানোর পরীক্ষা নয়, বরং টিকে থাকার পরীক্ষা। যেসব প্রশ্নের উত্তরে আপনি নিশ্চিত নন, সেগুলো এড়িয়ে চলাই শ্রেয়।
আজ রাতের মধ্যেই আপনার প্রবেশপত্র এবং অন্তত দু-তিনটি কালো কালির বলপয়েন্ট কলম গুছিয়ে রাখুন। পরীক্ষার দিন সকালে তাড়াহুড়ো করলে মানসিক চাপ বেড়ে যায়।
মনে রাখবেন, বিসিএস একটি দীর্ঘ দৌড়। এখানে যাঁরা শেষ পর্যন্ত ধৈর্য ধরে রাখতে পারেন, দিনশেষে তাঁরাই সফল হন। নিজের ওপর বিশ্বাস রাখুন। আপনি যতটুকু পড়েছেন, সেটুকুই যদি সঠিকভাবে প্রয়োগ করে আসতে পারেন, তবে সাফল্য আপনার হাতের মুঠোয় আসবেই।
সবার জন্য শুভকামনা।