১৫টি ছবিতে দেখুন নয়নতারার চমৎকার হোম স্টুডিওর অন্দর

দক্ষিণ ভারতের ‘লেডি সুপার স্টার’ বলা হয় নয়নতারাকে। তাঁর স্বামী পরিচালক ভিগ্নেশ শিবান। এই তারকা জুটি নতুন একটি হোম স্টুডিও বানিয়েছেন। একদিকে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আমেজ, অন্যদিকে চেন্নাইয়ের গ্রামীণ আবহের মিশেলে তাঁরা তৈরি করেছেন বাড়িটির অন্দর। চলুন, নয়নতারা ও ভিগ্নেশ শিবানের নতুন স্টুডিওর অন্দরে উঁকি মারা যাক।

৭ হাজার বর্গফুটের এই ঔপনিবেশিক ধাঁচের বাংলো মৃৎশিল্পসহ ঐতিহ্যবাহী শিল্পকর্ম আর কাঠের তৈরি ভাস্কর্যে সাজানো। অভিনেত্রী নয়নতারা ও পরিচালক–প্রযোজক ভিগ্নেশ শিবান জুটির রুচির মিশেলে স্টুডিওটি সাজানো হয়েছে।
ছবি: ইনস্টাগ্রাম থেকে
হোম স্টুডিওটির ভেতরে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে পর্যাপ্ত আলো ও প্রাকৃতিক বাতাস চলাচলে। চেন্নাইয়ের আবহাওয়ার সঙ্গে মানানসই গ্রামীণ সৌন্দর্য আর স্থানীয় বিভিন্ন হস্তশিল্পে গুরুত্ব পেয়েছে এখানে। মেটে রঙের কালার প্যালেটকে গুরুত্ব দিয়ে কখনো বেত, কখনো পুরু কাঠ আর হাতে বোনা ফাইবার-লিলেনের উপকরণ ব্যবহার করা হয়েছে।  
পুরোনো জিনিসগুলোকে বেশ গুরুত্ব দিয়ে নতুন আঙ্গিকে ঘরে ব্যবহার করেছেন তাঁরা। স্টুডিও লাউঞ্জের এই অংশে পুরোনো একটি দরজাকে কফি টেবিলে রূপান্তর করা হয়েছে। জয়পুরের ঐতিহ্যবাহী গালিচাও শোভা পাচ্ছে।
ধূসর লাইমস্টোনের মেঝে। যোধপুরের এক পুরোনো রপ্তানিকারকের কাছ থেকে সংগৃহীত ক্যাবিনেট ও লাল রঙে রাঙানো অ্যান্টিক চেয়ারগুলো দারুণভাবে মানিয়ে গেছে এখানে।
এটাকে ‘কলোনিয়াল স্টাইল’ বললেও বাড়ির অনেক জায়গা মূলত বোহো স্টাইলে সাজানো।
তারপরও বাংলোর পুরোনো ও মূল কিছু উপাদান, যেমন কাঠের স্তম্ভগুলো সংযত্নে সংরক্ষণ করা হয়েছে। স্তম্ভের সঙ্গে বেঞ্চটি ছিল কাঠের দোলনা। পরে তাতে পায়া লাগানো হয়েছে।
হোম স্টুডিওতে রূপান্তরের আগে বাড়িটি বাংলোই ছিল। এরপর হোম স্টুডিওর ভাবনায় খোলামেলা ও আলো–হাওয়াপূর্ণ পরিবেশের প্রয়োজনে অনেক কিছু ভাঙা হয়েছে।
অফিসঘরের প্রবেশপথে নজর কাড়ে রেলিং স্টাইলে হাতে খোদাই করা পান্না–সবুজ রঙের দরজাটি। এই দরজা যতটা না গোপনীয়তার জন্য, তার চেয়ে বেশি সহজে বাতাস চলাচলের জন্য।
নয়নতারা ও ভিগ্নেশ জুটির শিল্পপ্রেম এই বাড়ির সবখানেই চোখে পড়ে। কিছু কিছু চিত্রকর্ম জয়পুর থেকে আনা। তবে অফিসের দেয়ালে থাকা বিশালাকার চিত্রকর্মটি নয়নতারা একটা শিল্পপ্রদর্শনী থেকে সংগ্রহ করেছিলেন।
ঘরের ভেতরে ধাতব সিঁড়ির সঙ্গে কাঠের বেষ্টনী ও মেঝে আধুনিক মিনিমালিস্টিক আবহ এনেছে।
চেন্নাইয়ের পুরোনো জিনিসের বাজার থেকে সংগ্রহ করা পিতলের জিনিসপত্র ঘরের নান্দনিকতা বাড়িয়েছে।
নয়নতারার ব্যবহারের জন্য তৈরি এই ডেস্কের ওপরের অংশ আস্ত গাছ চিরে তৈরি করা।
এই ঘরের দেয়াল সাজানো পটচিত্র দিয়ে।
জায়গাটি যেন ঔপনিবেশিক ছোঁয়ার সঙ্গে আধুনিক ভাবধারার স্বতন্ত্র পরিচয়।
বাড়ির বাইরে থাকা লাল রঙের প্রবেশদ্বারটি পেরিয়ে ভেতরে এলেই নিস্তব্ধ প্রাকৃতিক পরিবেশ। টালির ছাদের একটা অংশ কেটে দেওয়া হয়েছে, যাতে সফেদাগাছটির কোনো সমস্যা না হয়।