ব্রেকআপের পর যে ৭টি কাজ ভুলেও করবেন না

বিচ্ছেদের পর অনেকে সাময়িকভাবে ভালো থাকা জন্য নানা ফাঁদে পা দেন। ফলে ওই পরিস্থিতি থেকে বের হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার যাত্রা দীর্ঘ ও কঠিন হয়ে যায়। জেনে নিন বিচ্ছেদের পর যেসব কাজ ভুলেও করা যাবে না।

ব্রেকআপের পর সময়টা এক কথায় ভীষণ কঠিন
ব্রেকআপের পর যে ৭টি কাজ ভুলেও করবেন না

কিছুই ভালো লাগছে না। পছন্দের খাবারটা চিবিয়ে চলেছেন, কিন্তু কোনো স্বাদ পাচ্ছেন না। কারও ফোন ধরতে বা কারও সঙ্গে কথা বলতে ইচ্ছা করছে না। নানা চিন্তাভাবনা করতে করতে কখন যেন ঘুমিয়ে গেলেন, ঘুম থেকে ওঠার পর মনে হচ্ছে, কেন উঠলাম? ঘুমিয়ে ছিলাম, ভালো ছিলাম।

বুকের ভেতরে এক তীব্র হাহাকার যেন প্রতিনিয়ত তাড়া করছে। ভেতরটা মনে হচ্ছে শূন্য। দম নিতেও কষ্ট হচ্ছে। বিচ্ছেদের পর সময়টা অনেকটা এ রকমই। এক কথায় ভীষণ কঠিন।

তবে বিশ্বাস করুন, এই দুঃসময় কেটে যাবে। সময়ের সঙ্গে আপনি সেরে উঠবেন। ভুল থেকে শিখে, জীবনের কঠিন সময় পার করে আপনি একসময় আরও পরিণত, পরিশুদ্ধ একজন ব্যক্তি হয়ে উঠবেন। জেনে নিন বিচ্ছেদের পর যেসব কাজ ভুলেও করা যাবে না।

১. শেষ সুযোগের আশা করা

কখনোই শেষ একটা সুযোগ ‘ভিক্ষা’ করবেন না। কেননা প্রেমের সম্পর্ক পুরোপুরি দ্বিপক্ষীয় বিষয়। আপনি জোর করে আর যা-ই হোক, ভালোবাসা বা সম্মান পাবেন না। তাই আরেকটু চেষ্টা করলে সম্পর্কটা হয়তো টিকিয়ে রাখা যেত, এই চিন্তা ভুলেও নয়! সঙ্গীর সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করুন। তাঁকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আনফলো, ব্লক করুন।

২. যেকোনো ধরনের বার্তা চালাচালি

প্রথম কাজটি থেকে বিরত রাখার জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে সাময়িক বিরতি নিন। কে অপরাধী, কার কতটা দোষ, নানা ফিরিস্তি লিখে লম্বা লম্বা বার্তা তো নয়ই, খুদেবার্তা, নিজেদের পুরোনো ছবি, উপহার বা প্রাক্তনের হাসিমুখ দেখা থেকে বিরত থাকুন।

চেষ্টা করুন, প্রথম ৭২ ঘণ্টা কোনো বার্তা না পাঠাতে। এই সময় সবচেয়ে কঠিন। এই ৩ দিনে আপনি নিজে মানসিকভাবে স্থির হোন। তারপর একটানা ২১ দিন যোগাযোগ বন্ধ রাখুন। কেবল তারপরই আপনি ‘তাঁর সঙ্গে আমার কোনো যোগাযোগ নেই’ কথাটি সফলভাবে বলতে পারবেন। এর মানে এই নয় যে ২১ দিন পর আবার যোগাযোগ করবেন!

৩. প্রতিশোধের কথা ভাবা

ব্রেকআপের পর প্রতিশোধ নেওয়ার কথা ভুলেও ভাববেন না

প্রতিশোধ নেওয়ার কথা ভুলেও ভাববেন না। প্রতিশোধস্পৃহা আপনার মানসিক শান্তি পাকাপাকিভাবে নষ্ট করে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। আপনি নিজের মতো করে ‘মুভ অন’ করুন। কোনো রকম রাগ, দুঃখ, ক্ষোভ, অভিমান বা অনুযোগ না রেখে মানুষটাকে ভুলে যাওয়ার চেষ্টা করুন।

৪. প্রাক্তনের সম্পর্কে দুর্নাম রটনো

প্রাক্তনের কোনো গোপন ইতিহাস, চিঠি, ছবি, ভিডিও, স্ক্রিনশট বা এমন কোনো তথ্য যা স্পর্শকাতর অথচ আপনি জানেন, তা অকারণে প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকুন। এক কথায় প্রাক্তনের গোপনীয়তা রক্ষা করুন।

৫. নিজের অনুভূতি নিয়ে লুকোছাপা

ব্রেকআপের পর নিজের অনুভূতি লুকাবেন না

নিজের অনুভূতি লুকাবেন না। এমনিতেই আপনি মানসিক চাপে, বিষণ্নতায় অস্থির। সেটা লুকাতে যাওয়া বা ভালো থাকার ভান ধরা আপনার মানসিক চাপ, বিষণ্নতা আরও বাড়াবে। কাছের মানুষকে নিজের মানসিক অবস্থার কথা জানান মন খুলে।

তবে সেখানে অন্য পক্ষের দোষত্রুটি, অভিযোগ, অনুযোগ যত কম আসবে, ততই ভালো। বিচ্ছেদ–পরবর্তী সময়ে যেন আপনি নিজের প্রতি মনোযোগী হন, অন্য পক্ষের প্রতি নয়, সেটি নিশ্চিত করুন।

৬. কিছুতে আসক্ত হওয়া

ব্রেকআপের কষ্ট ভুলতে নেশাজাত দ্রব্য বা এমন কিছুতে জড়িয়ে পড়বেন না, যেটা আদতে আপনাকে ধ্বংসের দিকে টেনে নিয়ে যাবে। অস্বাস্থ্যকর প্রলুব্ধকর যা কিছু, সেসবের দিকে ভুলেও হাত বাড়াবেন না। একটা ছোট সমস্যা থেকে বের হওয়ার জন্য আরও ভয়ংকর কোনো সমস্যায় জড়িয়ে পড়ার কোনো মানে হয় না।  

ব্রেকআপের কষ্ট ভুলতে নেশাজাত দ্রব্য বা এমন কিছুতে জড়িয়ে পড়বেন না, যেটা আদতে আপনাকে ধ্বংসের দিকে টেনে নিয়ে যাবে

৭. রাতারাতি জীবনে বড় পরিবর্তনের চেষ্টা

হুট করে কোনো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেবেন না। যেমন তাড়াহুড়া করে বিয়ে করে ফেলা বা চাকরি ছেড়ে কোথাও চলে যাওয়া। যে সিদ্ধান্ত আপনার জীবনে গভীর ও দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলে, সেসব সময় নিয়ে নিন। রাতারাতি কোনো পরিবর্তন নয়। কেননা আবেগের বশে নেওয়া সিদ্ধান্তে ভুল হওয়ার আশঙ্কাই বেশি।  

সূত্র: আর্কেডিয়ান কাউন্সেলিং