প্রশ্নের শেষ অংশেই ছিল কথাটা, মিরপুরের এমন উইকেট কি আপনাদের কপালের দোষে? তা শুনে কিছুক্ষণ চুপ করে থাকলেন নাজমুল হোসেন। এরপর তিনিও বললেন, ‘আমাদের কপাল’, সঙ্গে সঙ্গে হাসির রোলই পড়ে গেল সংবাদ সম্মেলনকক্ষে।
মিরপুরের উইকেট নিয়ে আলোচনা তো আর নতুন কিছু নয়। ব্যাটসম্যানরা প্রায়ই এ নিয়ে আপত্তি জানান। রান করাটা কঠিন হয়ে যায় তাঁদের জন্য। দীর্ঘ সময় ধরে সমালোচনার পর গত বছর শ্রীলঙ্কান কিউরেটর গামিনি ডি সিলভাকেও সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবু মিরপুরের উইকেট রয়ে গেছে একই রকম।
কালও বিপিএলের প্রথম এলিমিনেটরে রংপুর রাইডার্স করেছিল মাত্র ১১১ রান, সেই রান টপকাতে সিলেট টাইটানসকে খেলতে হয়েছে ইনিংসের শেষ বল পর্যন্ত। রাতে কোয়ালিফায়ারের ম্যাচেও রাজশাহী ওয়ারিয়র্স অলআউট হয় ১৩৩ রানে। সেই রান চট্টগ্রাম পেরিয়েছে শেষ ওভারে গিয়ে।
আমাদের আসলে কপালের দোষ। না হলে হয়তো ভালো উইকেট পেতাম।নাজমুল হোসেন, অধিনায়ক, রাজশাহী ওয়ারিয়র্স
মিরপুরের উইকেট নিয়ে এই ম্যাচের পর দুঃখই করে গেছেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন, ‘আমাদের আসলে কপালের দোষ। না হলে হয়তো ভালো উইকেট পেতাম।’
উইকেটটা যে একদমই টি-টুয়েন্টিসুলভ নয়, তা–ও স্পষ্ট করেই বলেছেন নাজমুল, ‘ব্যাটসম্যান হিসেবে আমার মনে হয়, টি–টুয়েন্টিসুলভ উইকেট নয়। খুবই কঠিন ব্যাটসম্যানদের জন্য। আপনি যদি পুরা ৪০ ওভারের ব্যাটিং দেখেন, প্রত্যেকটা ব্যাটসম্যান স্ট্রাগল করছে, দেশি-বিদেশি সবাই। এখানে শট খেলাই যাচ্ছে না।’
দুপুরে এলিমিনেটর ম্যাচের পর টি-টুয়েন্টির জন্য এই উইকেট আদর্শ না, তা বলে গেছেন রংপুর রাইডার্সের অধিনায়ক লিটন দাস। উইকেট নিয়ে অভিযোগ ছিল নাজমুলের কণ্ঠেও। তাঁদের সুরেই কথা বলেন ফাইনালে যাওয়া চট্টগ্রাম রয়্যালসের অধিনায়ক মেহেদী হাসানও।
সংবাদ সম্মেলনে এলিমিনেটর ও কোয়ালিফায়ারের উইকেট নিয়ে মেহেদী বলেন, ‘আসলে এটা টি-টুয়েন্টি টাইপের উইকেট ছিল না। আজকে দুইটা ম্যাচই এমন ছিল। যেহেতু কিউরেটর বদলেছে, আশা করেছিলাম এ বছর আরও ভালো উইকেট হবে। সবার প্রত্যাশা ছিল টি-টুয়েন্টিতে যে ধরনের উইকেট দরকার, ও রকম পাবে। কিন্তু হয়নি। আমরা একটু হতাশ এদিক থেকে।’
কঠিন পথ পাড়ি দিয়েই ফাইনালে পৌঁছেছে চট্টগ্রাম রয়্যালস। টুর্নামেন্ট শুরুর আগের দিন দলটির মালিকানা নিতে হয় বিসিবিকে, নতুন কোচিং স্টাফকে দায়িত্ব দেয় তারা, প্রথম ম্যাচে তারা খেলেছিল মাত্র দুজন বিদেশি নিয়ে।
পুরো সময়ে দলটির অধিনায়কত্ব নেওয়া মেহেদী কাল এই যাত্রা নিয়ে বলেন, ‘যুদ্ধক্ষেত্রে যখন নামবেন, আপনার যা আছে, তা দিয়েই উজাড় করে খেলবেন। আমাদের হয়তো কোনো বড় নাম নেই, বিদেশিও বড় নাম নেই বা স্থানীয় ক্রিকেটারও। কিন্তু আমাদের ছেলেরা বা সবাই যেভাবে পারফর্ম করেছে, টিম গেম না হলে আসলে এই ফল হতো না।’
বিপিএল শেষে মেহেদী হাসানদের পরের মিশন বিশ্বকাপ। ১৫ সদস্যের দলে আছে তিনি। তবে বিশ্বকাপে বাংলাদেশ কোথায় খেলবে বা আদৌ খেলবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে এখনো। এ নিয়ে অবশ্য কাল কথা বলতে চাননি মেহেদী।
মেহেদী বলেন, ‘এটা তো আমাদের খেলোয়াড়দের হাতে নেই। বিপিএলের ফাইনাল ম্যাচটা আছে, ওটাতে আমাদের দল হিসেবে খেলতে হবে। যদি ভালো ক্রিকেট খেলি, ইনশা আল্লাহ আমরা জিততে পারব। আর বিশ্বকাপের সিদ্ধান্ত তো পুরো ক্রিকেট বোর্ডের। এ সম্পর্কে আমি কিছু বলতে পারব না। তারা আমাদের যেটা করতে বলবে, আমরা সেটাই করব।’
এ নিয়ে কাল কথা বলেছেন রাজশাহীর অধিনায়ক নাজমুল হোসেনও। বিশ্বকাপ খেলা নিয়ে কী হচ্ছে, এ নিয়ে স্বচ্ছ ধারণা নেই তাঁর।
তবে জাতীয় দলের টেস্ট অধিনায়ক নাজমুল বলেন, ‘খেলোয়াড় হিসেবে দেখেন, আমরা সব সময় চাই ক্রিকেট খেলতে। আর বিশ্বকাপের মতো ইভেন্ট হলে তো অবশ্যই, কেন নয়। কারণ, এ ধরনের ইভেন্ট দুই বছর পরপর আসে। ৫০ ওভারের খেলা চার বছর পরপর আসে। এটা আমার মনে হয় যে আমরা এটা আমাদের জন্য সুযোগ ওইখানে ভালো ক্রিকেট খেলার। কিন্তু এখানে অনেক বিষয় আছে, সে বিষয়গুলো শতভাগ আমি ব্যক্তিগতভাবে জানি না। আমি বিশ্বাস করি যে এই বিষয়গুলো সুন্দরভাবে সমাধান হয়, ইনশা আল্লাহ বিশ্বকাপে খেলোয়াড়েরা যদি যেতে পারে, অবশ্যই ভালো হবে।’