দুজন বিপিএল খেলছেন দুই দলের হয়ে। তবু কাল সিলেট টাইটানসের ইথান ব্রুকসের নেটে হাজির রংপুর রাইডার্সের ডেভিড ম্যালান। প্রায় আধঘণ্টা ব্রুকসকে বল থ্রো করলেন, একটু পরপর ব্যাটিং নিয়ে পরামর্শও দিলেন।
ম্যালান ইংল্যান্ডের হয়ে তিন সংস্করণেই জাতীয় দলে খেলেছেন, অন্যজন একই দেশের উঠতি ক্রিকেটার। দুজনেরই অবশ্য একটা জায়গায় মিল আছে—ভিনদেশে খেলার অভিজ্ঞতা তাঁদের প্রথমবার হয়েছে বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে খেলার অভিজ্ঞতা যে তাঁকে অনেকটাই বদলে দিয়েছিল, তা এখনো অকপটে স্বীকার করেন ম্যালান। ব্রুকসকেও তিনি পরামর্শ দিয়েছিলেন ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে খেলার।
শুধু ম্যালান নন, আগে বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলে পরে ইংল্যান্ড জাতীয় দলে খেলেছেন এমন ক্রিকেটারদের তালিকাটা বেশ লম্বা। জফরা আর্চার, উইল জ্যাকস, জেসন রয়রা যখন বিপিএলে খেলেছেন, তখন তাঁরা জাতীয় দল থেকে দাঁড়িয়ে ছিলেন বেশ দূরে।
আমি সব সময় বলি, কেউ যদি ইংল্যান্ড দলে খেলার মতো যোগ্য হয়, তাহলে সে এমনিতেই খেলবে। আমি তাই বিপিএলটা শুধু উপভোগ করার চেষ্টা করছি।ইথান ব্রুকস, ক্রিকেটার
সেই পথে কি আপনিও নতুন নাম হবেন? কাল প্রশ্নটা শুনে মুখে হাসি রেখেই ইথান ব্রুকস বলতে শুরু করেন, ‘এটা ঠিকই বলেছেন যে আগে অনভিজ্ঞ অনেকেই এখানে এসে অভিজ্ঞতা অর্জন করে জাতীয় দলে খেলেছে। কিন্তু আমি সব সময় বলি, কেউ যদি ইংল্যান্ড দলে খেলার মতো যোগ্য হয়, তাহলে সে এমনিতেই খেলবে। আমি তাই বিপিএলটা শুধু উপভোগ করার চেষ্টা করছি। আমাকে দেখবেন সব সময় মাঠে হাসি, আনন্দ করে বেড়াই।’
বিপিএলে তাঁকে সুযোগ করে দেওয়া মঈন আলী সিলেট টাইটানসেই ব্রুকসের সতীর্থ। কাউন্টি দল ইয়র্কশায়ারে মঈনের ভাই কাদির আলী তাঁর ব্যাটিং কোচ। সে সূত্রেই দুজনের পরিচয়। কয়েক বছর ধরেই ব্রুকসের জন্য বিদেশি লিগে সুযোগ খুঁজছিলেন মঈন। তাঁর পরামর্শেই ২৪টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলে ৩ সেঞ্চুরি করা ব্রুকসকে দলে নেয় সিলেট টাইটানস।
বিপিএল ব্রুকসের জন্য উপভোগ্য এক মঞ্চই হয়ে উঠেছে। সেটি জানিয়ে তিনি বলছিলেন, ‘এখানকার সমর্থকেরা পাগলাটে, আমি এমন কিছু আসলেই ভাবিনি। তারা আমাকে অনেক সমর্থন দিচ্ছে, আশা করি ম্যাচ জিতিয়েই তাদের এর প্রতিদান দিতে পারব।’
সিলেটকে ম্যাচ জেতাতে ব্রুকস খুব আহামরি ভূমিকা রাখছেন, তেমন নয়। তবে মাঠে তাঁর স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি চোখে পড়ছে সবার, দুর্দান্ত ক্যাচ কিংবা ব্যাটিংয়ে ছোট্ট ইনিংসে নজর কাড়ছেন নিয়মিত। সেসবের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম হয়ে পৌঁছে যাচ্ছে ইংল্যান্ডে থাকা বন্ধু–স্বজনদের কাছেও।
সিলেটে মাঠের বাইরের বেশির ভাগ সময় ব্রুকসের কাটছে পড়াশোনা করে। ক্রিকেট খেলার পাশাপাশি স্পোর্টস সায়েন্সের ওপর স্নাতক করছেন, আগামী এপ্রিলে সেটি শেষ হওয়ার কথা।
পড়াশোনার অংশ হিসেবেই ব্রুকসের ল্যাপটপ ভর্তি হয়ে আছে কাউন্টি ক্রিকেটে ক্রিকেটারদের চোট–আঘাতের ইতিহাসে, ‘মৌসুমের কোন সময়ে কী ধরনের চোটে পড়ে খেলোয়াড়েরা, কোন সংস্করণে কেমন বা খেলার সূচি কীভাবে চোট–আঘাতের ওপর প্রভাব ফেলে, সেসব দেখছি। এসব নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করা স্বস্তির কিছু নয়, তবু এখন এটাতেই নিজেকে ব্যস্ত রাখছি।’
তবে ব্রুকসের আশা, খেলাতেই তিনি ক্যারিয়ার গড়তে পারবেন, অন্য কিছু বেছে নিতে হবে না, ‘আশা করি আমার ক্রিকেট ক্যারিয়ারটাই লম্বা হবে। যদি কখনো ইনজুরিতে পড়ে যাই কিংবা ফর্ম খারাপ হয়; এমন ভাবনা থেকেই পড়াশোনা শেষ করে রাখছি।’
বাংলাদেশে এসে এখানকার সংস্কৃতিকেও বুঝতে চেষ্টা করছেন ব্রুকস। এবারের বিপিএলে মাঠে ঢাকা ক্যাপিটালসের সহকারী কোচ মাহবুব আলী জ্যাকির জানাজা দেখেছেন পেছনে দাঁড়িয়ে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর হওয়া দোয়ার সময়ও তিনি ছিলেন সেখানে। এসব ঘটনা ছুঁয়ে গেছে ব্রুকসকেও, ‘মাঠে মৃত্যুটা তো খুবই মর্মান্তিক ছিল। জীবন যে কত ঠুনকো, তা বোঝা গেছে এটা থেকে। আমি তাঁদের সম্মান জানানোর জন্যই ওখানে দাঁড়িয়েছি, মানুষ হিসেবে এটা মনে হয় যে কেউই করত।’