১৬ সেপ্টেম্বর শুরু হবে ইউরোপিয়ান শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই চ্যাম্পিয়নস লিগ। এরই মধ্যে মোনাকোর গ্রিমালদি ফোরামে হয়ে গেছে লিগ পর্বের ড্র। এই পর্বে বেশ কিছু উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচ দেখা যাবে। যেখানে কিছু লড়াইয়ে হয়ে উঠতে পারে ফেবারিট দলগুলোর ভাগ্য নির্ধারক। লিগ পর্বে ফুটবলপ্রেমীদের আগ্রহের কেন্দ্রে যেসব ম্যাচ থাকবে, সেগুলো নিয়েই এ আয়োজন।
বর্তমান চ্যাম্পিয়ন পিএসজি নিজেদের ঘরের মাঠে আতিথ্য দেবে বায়ার্ন মিউনিখকে। কদিন আগে বায়ার্নকে ক্লাব বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে হারিয়েছিল তারা। বায়ার্নের জন্য এটা তাই প্রতিশোধের ম্যাচ। বুন্দেসলিগায় উড়ন্ত সূচনা পেয়েছে ভিনসেন্ট কোম্পানির দল। চ্যাম্পিয়নস লিগেও পিএসজির বিপক্ষে দারুণ কিছু করে বার্তা দিতে চাইবে দলটি। সব মিলিয়ে দারুণভাবে জমে উঠতে পারে এ ম্যাচ।
চ্যাম্পিয়নস লিগের লিগ পর্বে আরেকটি হাইভোল্টেজ ম্যাচে মুখোমুখি হবে বার্সেলোনা ও পিএসজি। এই দুই দল এর আগে মনে রাখার মতো একাধিক ম্যাচ ফুটবলপ্রেমীদের উপহার দিয়েছে। ২০১৬–১৭ মৌসুমে বার্সেলোনা প্যারিসে ৪–০ গোলে হারের পর ক্যাম্প ন্যুতে ৬-১ গোলে জিতেছিল। অন্যদিকে ২০২০–২১ ও ২০২৩–২৪ মৌসুমে নকআউট পর্বে বার্সার বিদায় ঘণ্টা বাজিয়েছিল পিএসজি। এবার লিগ পর্বে ঘরের মাঠে প্রতিশোধ নেওয়ার সুযোগ বার্সার।
সাম্প্রতিক সময়ে রিয়াল–ম্যান সিটি লড়াই ইউরোপিয়ান ফুটবলে ধ্রুপদির মর্যাদা পেয়েছে। মুখোমুখি লড়াইয়ে দুই দলেরই সাফল্য আছে। ২০২২–২৩ মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পথে সেমিফাইনালে রিয়ালকে হারিয়েছিল সিটি। অন্যদিকে ২০২৩–২৪ কোয়ার্টার ফাইনাল এবং ২০২৪–২৫ মৌসুমের প্লে–অফে জিতেছিল রিয়ালই। এবার সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে লিগ পর্বের ম্যাচে মুখোমুখি হবে দুই দল। যেখানে সাম্প্রতি হিসাবটা সমান করতে মরিয়া থাকবেন গার্দিওলা।
২০১৮ ও ২০২২ সালে চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালে হারের ক্ষত এখনো পোড়ায় লিভারপুল–সমর্থকদের। দুই ম্যাচেই তাদের আত্মসমর্পণ করতে হয়েছিল রিয়ালের কাছে। গত মৌসুমে লিগ পর্বে মুখোমুখি হয়ে অবশ্য রিয়ালকে হারিয়েছিল আর্নে স্লটের দল। এবার অ্যানফিল্ডে আবার রিয়ালের মুখোমুখি হবে তারা। দুই দলেরই জয়ের আকাঙ্ক্ষা ধ্রুপদি করে তুলতে পারে ম্যাচটিকে।
দ্বৈরথের গল্প আছে বায়ার্ন ও চেলসির চ্যাম্পিয়নস লিগের লড়াইয়েও। ২০০৪–০৫ মৌসুমের কোয়ার্টার ফাইনালে জয় পেয়েছিল চেলসি। এরপর ২০১৩ সালে নাটকীয় পেনাল্টি শুটআউটে বায়ার্নকে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল ইংলিশ ক্লাবটি। তবে ২০১৯–২০ মৌসুমে জার্মান চ্যাম্পিয়নরা বর্তমান ক্লাব বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়নদের দুই লেগ মিলিয়ে হারিয়েছিল ৭–১ গোলে। এবার অ্যালিয়াঞ্জ অ্যারেনায় গল্পটা কাদের পক্ষে যায়, সেটাই দেখার অপেক্ষা।
চ্যাম্পিয়নস লিগে চোখ থাকবে বায়ার্ন–আর্সেনাল ম্যাচেও। মিকেল আরতেতার দল গতবার সেমিফাইনাল থেকে হতাশ হয়ে ফিরেছিল। এবার তাদের চোখ থাকবে বড় কিছুতে। একইভাবে বায়ার্নও নামবে শ্রেষ্ঠত্ব পুনরুদ্ধারের মিশনে। দুই দলেরই তাই লক্ষ্য থাকবে একে অপরকে হারানোর, যা ম্যাচটাকে রোমাঞ্চকর করে তুলতে পারে। তবে ঘরের মাঠে ম্যাচ হওয়ায় কিছু সুবিধাজনক অবস্থানে থাকবে আর্সেনালই।
চ্যাম্পিয়নস লিগে চেলসি–বার্সা ১৪ বার মুখোমুখি হয়ে ৪ বার করে জিতেছে এবং ড্র হয়েছে বাকি ৬ ম্যাচ। ২০০৮ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল দুই দলের। ২০০৮–০৯ মৌসুমের সেমিফাইনালে অ্যাওয়ে গোলের সুবিধা নিয়ে জিতেছিল বার্সা। তবে ২০১১–১২ মৌসুমের সেমিতে সেই হারের শোধ নিয়েছিল চেলসি। এরপর ২০১৭–১৮ মৌসুমের শেষ ষোলোয় জিতেছিল বার্সা। এবার স্টামফোর্ড ব্রিজে কি তবে চেলসির পালা?
ইন্টার গত মৌসুমে ফাইনালে গিয়ে হতাশ হয়েছিল। অন্যদিকে লিভারপুল লিগ পর্বে শীর্ষ থাকার পরও বিদায় নিয়েছিল শেষ ষোলো থেকে। দুই দলই চাইবে এবার ভাগ্য বদলাতে। নিজেদের পথ মসৃণ করতে এবং আত্মবিশ্বাস বাড়াতে লিগ পর্বের বড় ম্যাচগুলোতে চোখ থাকবে দুই দলের। যেখানে এই দুই দল মুখোমুখি হবে একে অপরের। এখন সান সিরোর ম্যাচটিতে শেষ পর্যন্ত কে দাপট দেখাতে পারে দেখা যাক।