প্রিন্স হ্যারি ও মেগান মার্কেল
প্রিন্স হ্যারি ও মেগান মার্কেল

মেগান কি হ্যারির ‘ব্রেনওয়াশ’ করেছেন, ক্যামিলার মন্তব্যে তোলপাড়

যুক্তরাজ্যের রাজা তৃতীয় চার্লসের স্ত্রী কুইন কনসর্ট ক্যামিলা নাকি মন্তব্য করেছিলেন, প্রিন্স হ্যারিকে তাঁর স্ত্রী মেগান মার্কেল ভীষণভাবে প্রভাবিত করে ফেলেছেন। হ্যারিকে নিয়ে নতুন একটি জীবনীগ্রন্থে এমন দাবি করা হয়েছে। তবে এই অভিযোগকে ‘বিকৃত যড়যন্ত্র’ বলেছেন হ্যারির মুখপাত্র। গতকাল শনিবার তিনি এ দাবি করেন।

হ্যারি–মেগান দম্পতি ২০২০ সালে রাজকীয় দায়িত্ব ছেড়ে দেন। এরপর যুক্তরাজ্য ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় থিতু হন তাঁরা। ওই সময় থেকে তাঁরা ব্রিটিশ রাজপরিবারের সঙ্গে কার্যত বিচ্ছিন্ন। তবে যুক্তরাজ্য ও বিদেশে এ দম্পতিকে নিয়ে মানুষের তুমুল আগ্রহ রয়েছে এখনো।

নতুন যে বইটি নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে, সেটির লেখক টম বাওয়ার। যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদপত্র টাইম বইটি থেকে উদ্ধৃতি প্রকাশের পর হইচই পড়ে গেছে। যুক্তরাজ্যের রাজপরিবারের সদস্যদের নিয়ে টম বেশ কয়েকটি জীবনীগ্রন্থ লিখেছেন। নতুন বইয়ে টম বলেছেন, ২০১৮ সালের জমকালো বিয়ের পরপর হ্যারি–মেগান দম্পতি রাজপরিবারের অন্যান্য সদস্যের সঙ্গে বিরোধে জড়ান।

আরও বলা হয়েছে, হ্যারি ও মেগান এখন রাজপরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে প্রায়ই কথা বলেন না। সাম্প্রতিক বছরগুলোয় হ্যারি তাঁর বাবা রাজা তৃতীয় চার্লসের সঙ্গে খুব কমই দেখা করেছেন। টম লিখেছেন, হ্যারির বড় ভাই প্রিন্স উইলিয়াম এবং তাঁর স্ত্রী কেট মিডলটন মনে করেছিলেন, মেগানের প্রভাব হ্যারির ওপর উদ্বেগজনক। তাঁরা মেগানকে ‘সম্ভাব্য হুমকি’ হিসেবেও দেখতেন।

জীবনীগ্রন্থে টম দাবি করেছেন, কুইন কনসর্ট ক্যামিলা (হ্যারির মা ডায়ানার মৃত্যুর পর রাজা যাকে বিয়ে করেন) তাঁর একজন বন্ধুকে বলেছিলেন, ‘হ্যারির ওপর ভীষণ রকমের প্রভাব ফেলছেন মেগান। হ্যারির “ব্রেনওয়াশ” করা হয়েছে।’

টমের দাবি, চাচা অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটনের সাম্প্রতিক সম্মানহানির ঘটনা প্রিন্স হ্যারিকে বিস্মিত করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের কুখ্যাত প্রয়াত যৌন নিপীড়ক জেফরি এপস্টিনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার জেরে দেশে–বিদেশে বিতর্ক দেখা দেওয়ায় অ্যান্ড্রু সব ধরনের রাজকীয় উপাধি হারিয়েছেন। অ্যান্ড্রুকে প্রাসাদ থেকেও সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রিন্স হ্যারির ভয় ছিল, তাঁকেও পরিবার থেকে দূরে সরিয়ে দিতে পারেন বড়ভাই উইলিয়াম।

এসব নিয়ে হ্যারি–মেগানের কোনো প্রতিক্রিয়া সচরাচর দেখা যায় না। কিন্তু এবার কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। হ্যারি ও মেগানের মুখপাত্র বলেছেন, ‘টমের মন্তব্য অনেক আগেই সমালোচনার সীমা ছাড়িয়ে গেছে। এটা এখন একধরনের আসক্তিতে পরিণত হয়েছে।’

এক বিবৃতিতে হ্যারি–মেগানের মুখপাত্র বলেন, ‘যাঁরা সত্য তথ্য জানতে চান, তাঁরা অন্যত্র তা খুঁজবেন। আর যাঁরা বিকৃত ষড়যন্ত্র ও নাটকীয়তা খুঁজে ফেরেন, তাঁরা ঠিকই জানেন এসব কোথায় পাওয়া যাবে।’

এ বিষয়ে রাজা তৃতীয় চার্লস ও কুইন কনসর্ট ক্যামিলার পক্ষ থেকে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে বাকিংহাম প্রাসাদ। অন্যদিকে প্রিন্স উইলিয়াম ও কেট মিডলটনের প্রতিনিধির তাত্ক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।