প্রাক্তনের বিয়ের দাওয়াতে কি যাবেন

শিরোনামের প্রশ্নের সবচেয়ে যুতসই উত্তর হলো, ‘কী দরকার!’ আবার বেশির ভাগের কাছে এই প্রশ্নের উত্তর একটাই, ‘প্রশ্নই আসে না!’

আমন্ত্রণ না পেলেও বিয়ের দাওয়াতে যাওয়ার ভ্লগ বানিয়েছেন একজন
বোরহানি বিয়ের খাবার

আমার চাচাতো ভাই আবিদের (ছদ্মনাম) বিয়েতে দুই বন্ধু নিয়ে বিয়ের দাওয়াতে এসেছিলেন সুমন (ছদ্মনাম) নামের একজন। সুমন সেই বিয়ের দাওয়াতে যাওয়ার ভ্লগ বানিয়েছেন। শিরোনাম দিয়েছেন, ‘প্রাক্তনের বিয়েতে যা যা খেলাম’।

সেই ভিডিও আবিদের চোখে পড়ে গেছে। অনেকেই সেই ভিডিওতে তাঁকে ট্যাগ করেছে, ইনবক্সে পাঠিয়েছে। আবিদ তাঁর স্ত্রী সাদিয়াকে (ছদ্মনাম) এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করেছে।

সাদিয়া জানিয়েছে, সুমন তাঁর এলাকার ছেলে। টিকটক করে। ভ্লগ বানায়। সুমনের সঙ্গে রাস্তায় দুয়েকবার দেখা হয়েছে, হাই–হ্যালো হয়েছে। তবে কস্মিনকালেও সাদিয়ার সঙ্গে সুমনের কোনো সম্পর্ক ছিল না।

কে সুমনকে বিয়েতে দাওয়াত দিয়েছে, সেই সম্পর্কে সাদিয়ার কোনো ধারণাও নেই। এ নিয়ে আবিদ ও সাদিয়ার ভেতরে শুরু হয়েছে কিঞ্চিৎ অন্তর্দ্বন্দ্ব।

সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা একাধিক দিক থেকে প্রাক্তনের বিয়েতে যাওয়া বা না যাওয়ার বিষয়ে মন্তব্য করেছেন। তাঁরা পরামর্শ দিয়েছেন মূলত মানসিক স্বাস্থ্য, সম্পর্কের গুণমান ও সামাজিক প্রেক্ষাপটের ওপর ভিত্তি করে।

প্রাক্তনের বিয়েতে যাওয়া না যাওয়া নির্ভর করে আপনার মানসিক প্রস্তুতির ওপর। যদি এখনো মনে কষ্ট, বিদ্বেষ বা ঈর্ষা থাকে, তাহলে প্রাক্তনের বিয়েতে আপনার উপস্থিতি মানসিক জটিলতা বাড়াতে পারে।
জন গটম্যান, মার্কিন বৈবাহিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ

সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ বিয়েতে উপস্থিত হওয়ার চেয়ে দূর থেকে শুভেচ্ছা বা উপহার পাঠানোকে ভালো বিকল্প হিসেবে জানিয়েছেন।

প্রাক্তনের বিয়েতে যাওয়া না যাওয়া নির্ভর করে আপনার মানসিক প্রস্তুতির ওপর

কানাডীয় মানসিক স্বাস্থ্য ও সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ হেনরি ক্লার্ক প্রাক্তনের বিয়েতে উপস্থিত হওয়ার বিষয়টিকে ‘মানসিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। আর বলেছেন বর্তমান সঙ্গীর মানসিক স্বাস্থ্যকে সবার আগে বিবেচনায় নিতে।

হেনরি আরও বলেন, ‘এমনিতেই দুজন ব্যক্তির দাম্পত্য বা রোমান্টিক সম্পর্কে জটিলতার অন্ত নেই। তাই যেসব ইয়েলো ফ্ল্যাগ অর্থাৎ সবুজ ও লালের মাঝামাঝি, সেসব এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকলে অবশ্যই এড়িয়ে যাবেন।’

যদি সম্পর্ক ইতিবাচকভাবে শেষ হয়, আপনারা যদি সত্যিকারের “প্লেটোনিক বন্ধু” হিসেবে সম্পর্ক চলমান রাখেন বা একই বন্ধুবলয়ের সদস্য হন, সে ক্ষেত্রে প্রাক্তনের বিয়েতে ক্ষণিকের উপস্থিতি বা শুভেচ্ছা জানানো মন্দ নয়। তবে সম্মানজনক, নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখতেই হবে। যাতে পুরোনো কোনো আবেগ জেগে ওঠার সম্ভাবনা না থাকে।
স্যান্ড্রা মিশেল, মার্কিন রিলেশনশিপ কোচ

নতুন সঙ্গীকে নিয়ে কি প্রাক্তনের বিয়েতে যাবেন

আপনার নতুন সঙ্গী আপনার ও প্রাক্তনের মধ্যে থাকা অতীতের আবেগ সহজভাবে সামলাতে সক্ষম হলে যেতে পারেন। এক কথায় আপনার নতুন সঙ্গী যদি বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে দেখেন, ‘স্পোর্টিংলি’ নেন, তবেই।

অনেক সময় দেখা যায়, মনের আনন্দে সঙ্গী হয়তো আপনার প্রাক্তনের বিয়েতে গেছেন, কিন্তু সেখান থেকে ফিরে আসার পর তাঁর মনের ভেতরে নানা প্রশ্ন উঁকিঝুঁকি দিচ্ছে। ফিরে আসার পর তিনি গম্ভীর হয়ে গেছেন।

সঙ্গী যদি সংবেদনশীল মনের অধিকারী হন, তাঁকে প্রাক্তনের বিয়েতে না নিয়ে যাওয়াই ভালো

এমন হতে পারে, সেখানকার কোনো একটা ছোট্ট কথা, বিষয় বা ঘটনা আপনার বর্তমান সঙ্গীর মনের ভেতর কাঁটার মতো বিঁধেছে। সঙ্গী মানসিক জটিলতার ভেতর দিয়ে যাচ্ছেন।

তাই সঙ্গী যদি সংবেদনশীল মনের অধিকারী হন, তাঁকে না নিয়ে যাওয়াই ভালো। আপনাদের সামাজিক বলয় বিষয়টিকে কীভাবে নিচ্ছে, সেটিও দেখার বিষয়।

এক কথায় প্রাক্তনের বিয়েতে উপস্থিত হলে যদি ওই প্রাক্তন, আপনি বা আপনার সঙ্গীর ভেতরে কোনো ধরনের অস্বস্তি, অনিশ্চয়তা বা বিব্রত ভাব তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে, তাহলে আপনার সেখানে যাওয়া মোটেই উচিত হবে না।

সূত্র: ব্রাইডস স্টোরি