
ইসরায়েলের পর এবার বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, কাতার ও সৌদি আরবে শক্তিশালী বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। রয়টার্স ও আল-জাজিরাসহ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো এ তথ্য জানিয়েছে।
এদিকে উপসাগরীয় ওই তিন দেশ তাদের আকাশসীমা বন্ধ করে দিয়েছে।
রয়টার্স জানিয়েছে, বাহরাইনের জাফায়ার এলাকায় বিকট বিস্ফোরণের পর আকাশে ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠতে দেখা গেছে। উল্লেখ্য, এ এলাকাতেই মার্কিন নৌবাহিনীর একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি রয়েছে। এর আগে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জরুরি সতর্কতা জারি করে নাগরিকদের নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার নির্দেশ দেয়।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবিতেও একটি বিকট বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। তবে এর উৎস বা ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু জানা যায়নি।
আল-জাজিরা জানায়, কুয়েতে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এর পরপরই দেশজুড়ে সতর্কতা সাইরেন বাজানো শুরু হয়।
কাতারের দোহায় একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এর আগে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছিল, ইরান থেকে ছোড়া সব ক্ষেপণাস্ত্র নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে।
এদিকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদেও বিস্ফোরণ ঘটেছে।
মধ্যপ্রাচ্যের এ দেশগুলোতে যুগপৎভাবে বিস্ফোরণের এসব ঘটনায় পুরো অঞ্চলে যুদ্ধ আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
ইরানের বর্তমান ধর্মীয় শাসনব্যবস্থা উৎখাত করতে দেশটির জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এক ভিডিও বার্তায় তিনি ইরানিদের এ সুযোগ (ইসরায়েল–মার্কিন হামলা) কাজে লাগিয়ে সরকারের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দেন। খবর বিবিসির।
ট্রাম্প বলেন, ‘আমাদের অভিযান শেষ হলে আপনারা আপনাদের সরকারের নিয়ন্ত্রণ নিন। এটি আপনাদেরই হবে। আগামী কয়েক প্রজন্মের মধ্যে সম্ভবত এটাই আপনাদের জন্য একমাত্র সুযোগ।’
এদিকে ইরানি নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের হুঁশিয়ারি দিয়ে ট্রাম্প বলেন, তারা যদি অস্ত্র ত্যাগ করে, তবে তাদের ‘ক্ষমা’ করা হবে। অন্যথায় নিশ্চিত মৃত্যুর মুখোমুখি হতে হবে।
এর আগে জানুয়ারির শুরুতে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে দমন-পীড়নের ঘটনায় ট্রাম্প দেশটিতে বোমা হামলার হুমকি দিয়েছিলেন। মানবাধিকার কর্মীদের দাবি অনুযায়ী, ওই বিক্ষোভে অন্তত ৬ হাজার ৪৮০ জন নিহত হন। সেই সময় ট্রাম্প বিক্ষোভকারীদের আশ্বস্ত করে বলেছিলেন, ‘সহায়তা আসছে’।
ইসরায়েলে নিযুক্ত বিতর্কিত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি বিবৃতি দিয়েছেন। হাকাবি একজন কট্টর ‘খ্রিস্টান জায়নবাদী’ হিসেবে পরিচিত। খবর আল–জাজিরার।
গত সপ্তাহে হাকাবির এক মন্তব্য মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছিল। তিনি বলেছিলেন, ইসরায়েল যদি পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে তাদের সীমানা বিস্তার করে, তবে তা ‘ঠিকই’ হবে।
সেই ইসরায়েলপন্থী ‘খ্রিস্টান জায়নবাদী’ হাকাবি ইরানের বিরুদ্ধে এই হামলা শুরু করার জন্য ট্রাম্পের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
ইরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যের দুই দেশ কাতার এবং বাহরাইনে অবস্থান করা মার্কিনদের সর্তক অবস্থায় থাকতে বলা হয়েছে। খবর আল–জাজিরার।
কাতার ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস থেকে উভয় দেশে অবস্থানকারী যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের উদ্দেশে নিরাপত্তা সতর্কতা ‘শেল্টার–ইন–প্লেস’ জারি করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এ সতর্কতা জারি থাকবে।
বাহরাইনে মার্কিন দূতাবাস থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে তাদের নাগরিকদের সতর্ক করে বলা হয়, ‘আপনার আবাসস্থল বা অন্য কোনো নিরাপদ ভবনের মধ্যে একটি সুরক্ষিত স্থান খুঁজে নিন। খাবার, পানি, ওষুধ এবং অন্যান্য জরুরি সামগ্রী মজুত রাখুন।’
কাতারে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস থেকেও নাগরিকদের জন্য একই ধরনের সতর্কতা জারি করে বলা হয়েছে, আপনার আবাসস্থল বা অন্য কোনো নিরাপদ ভবনের মধ্যে একটি সুরক্ষিত স্থান খুঁজে নিন। খাবার, পানি, ওষুধ এবং অন্যান্য জরুরি জিনিসপত্রের মজুত রাখুন।
সতর্কতামূলক এ নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে:
–প্রদর্শনী বা বিক্ষোভ এড়িয়ে চলুন, নিজের পরিচয় গোপন রাখুন এবং চারপাশের পরিস্থিতি সম্পর্কে সচেতন থাকুন।
–স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরের দিকে নজর রাখুন; যেন নতুন খবর পান এবং প্রয়োজন অনুযায়ী নিজের পরিকল্পনা বদলানোর জন্য প্রস্তুত থাকুন।
–আপনার ফোনে চার্জ রাখুন এবং পরিবারের সদস্য ও বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখুন; যাতে তাঁরা আপনার অবস্থা সম্পর্কে জানতে পারেন।
ইরান থেকে ইসরায়েলের দিকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করার দাবি করেছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। এরপর সতর্কতামূলকভাবে দেশের বিভিন্ন স্থানে সাইরেন বাজানো হয়েছে। খবর আল–জাজিরার।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী বলেছে, ‘হোম ফ্রন্ট কমান্ডের নির্দেশনাগুলো অনুসরণ করতে জনসাধারণকে অনুরোধ করা হচ্ছে। এই মুহূর্তে ইসরায়েলি বিমানবাহিনী হুমকি প্রতিহত করার কাজ করছে। প্রয়োজন দেখা দিলে হুমকি নির্মূল করার কাজও করছে তারা।’
ইতিমধ্যে, কিছু গণমাধ্যমে ইসরায়েলে বিস্ফোরণের খবর প্রকাশ করা হয়েছে।
ইরানের রাজধানী তেহরানে অবস্থিত দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ইসরায়েলি হামলার শিকার হয়েছে। এ ছাড়া আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনায় হামলা হয়েছে। খবর আল–জাজিরার।
তেহরানে হামলার শিকার হওয়া গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনাগুলো হলো–
গোয়েন্দাবিষয়ক মন্ত্রণালয়
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়
ইরানের পারমাণবিক শক্তি সংস্থা
পারচিন সামরিক স্থাপনা
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ প্রেসিডেন্ট দপ্তরের একটি সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, তেহরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার ঘটনায় প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সম্পূর্ণ অক্ষত ও নিরাপদ আছেন। খবর আল–জাজিরার।
এর আগে তেহরানের অতি-সুরক্ষিত পাস্তুর জেলায় দফায় দফায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। সেখানে প্রেসিডেন্টের কার্যালয় ও সর্বোচ্চ নেতার বাসভবন অবস্থিত। তবে হামলার পর দ্রুতই প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
ইরানে ইসরায়েলের সঙ্গে যৌথ হামলা চালানোর কথা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, ইরানি শাসকদের হুমকি থামিয়ে দেওয়াই যৌথ মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার লক্ষ্য।
ট্রাম্প বলেন, ‘কিছুক্ষণ আগে, মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানে একটি বড় যুদ্ধ অভিযান শুরু করেছে। আমাদের লক্ষ্য হলো মার্কিন জনগণকে রক্ষা করা এবং ইরানি শাসকদের হুমকি বন্ধ করা।’ খবর আল জাজিরার।
ইরানের সংবাদমাধ্যম বলেছে, শনিবার ইরানের পাঁচটি শহরে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
ফার্স নিউজ এজেন্সির খবর অনুযায়ী, শহরগুলো হলো, তেহরান, ইস্পাহান, কোম, কারাজ এবং কেরমানশাহ।
সংবাদ সংস্থাটির খবরে আরও বলা হয়, ইরানের রাজধানী তেহরানের ‘ইউনিভার্সিটি স্ট্রিট’ এবং ‘রিপাবলিক’ এলাকায় একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। খবর বিবিসির।
ইরানে ইসরায়েলি হামলার পর প্রতিশোধ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে তেহরান। ইরানের এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে এ কথা বলেছেন।
ওই কর্মকর্তা বলেছেন, ইরান ভয়াবহ জবাব দেবে।
ইসরায়েলের হামলার পর ইরানের রাজধানী তেহরানের বেশ কয়েকটি এলাকায় মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্ক পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে যোগাযোগ বিঘ্নিত হচ্ছে। দ্রুত ইন্টারনেট ব্যবস্থায়ও বিঘ্ন সৃষ্ট হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। খবর আল জাজিরার।
ইরানে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। ইসরায়েল এই হামলাকে ‘আগাম প্রতিরোধমূলক হামলা’ (প্রি-এম্পটিভ অ্যাটাক) বলেছে।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ আজ শনিবার সকালে এক বিবৃতিতে হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে দেশজুড়ে ‘বিশেষ ও স্থায়ী জরুরি অবস্থা’ ঘোষণা করেছেন। বিস্তারিত পড়ুন
যুক্তরাষ্ট্রের একজন কর্মকর্তা আল জাজিরাকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে যৌথ সামরিক অভিযান চালিয়েছে।
ইরানের পুরো আকাশসীমা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত এটি বন্ধ থাকবে। দেশটির সিভিল অ্যাভিয়েশন অরগানাইজেশনের মুখপাত্র মজিদ আকহাভান মেহের সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ ঘোষণা দিয়েছেন। খবর আল জাজিরার।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি বর্তমানে তেহরানে নেই। তাঁকে একটি নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর করা হয়েছে।
আজ শনিবার রয়টার্সকে এক সরকারি কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন।
ইরানে আজ শনিবার ভোরে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। এই হামলাকে ইসরায়েল ‘আগাম প্রতিরোধমূলক হামলা’ (প্রি-এম্পটিভ অ্যাটাক) বলেছে।
ইরানের রাজধানী তেহরানের উত্তর ও পূর্ব অংশে আরও বেশ কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ফারস নিউজ এজেন্সির বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বিবিসি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আজ শনিবার তেহরানে এসব বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। এর আগে শহরটির বিভিন্ন অংশে বিস্ফোরণের খবর আসে। তবে এসব বিস্ফোরণের উৎস বা ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে এখন পর্যন্ত বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি।