
ইরানের অভ্যন্তর থেকে নিজেদের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে কিছুক্ষণ আগে বেশ কিছু ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েল।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আজ রোববার দেওয়া এক পোস্টে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী বলেছে, আকাশপথে আসা এ হুমকি মোকাবিলায় তাদের ‘প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয়’ রয়েছে।
একই সঙ্গে নিরাপত্তার স্বার্থে নিজেদের নাগরিকদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়ার জন্য সতর্কবার্তা দিয়েছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী।
সিএনএন জানিয়েছে, ইসরায়েলের তেল আবিব শহরের বেশ কয়েকটি স্থানে গোলাবারুদ বা ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত হানার ঘটনা তদারকি করছে দেশটির পুলিশ। এক পুলিশ মুখপাত্র বলেছেন, ক্ষতিগ্রস্ত স্থানগুলো আলাদা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বর্তমানে পুলিশ সদস্য ও বোমা বিশেষজ্ঞ দল কাজ করছে।
তবে এখন পর্যন্ত এসব ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি বলে জানানো হয়েছে।
মানামায় বিস্ফোরণ
বাহরাইনের রাজধানী মানামায় ভোরে বড় ধরনের বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
বাহরাইন কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, ইরানের হামলা শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ১২৫টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ২০৩টি ড্রোন প্রতিহত করেছে তারা। এসব হামলায় বাহরাইনে এ পর্যন্ত দুজন এবং পার্শ্ববর্তী উপসাগরীয় দেশগুলোতে আরও ২৪ জন নিহত হয়েছেন।
তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের মধ্যেই ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে নিশানা করার অঙ্গীকার করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।
আজ রোববার আইআরজিসির নিজস্ব ওয়েবসাইট ‘সেপাহ নিউজ’-এ প্রকাশিত এক বিবৃতিতে নেতানিয়াহু সম্পর্কে বলা হয়, ‘আমরা পূর্ণ শক্তি দিয়ে তাঁকে ধাওয়া ও হত্যা করার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাব।’
দুই সপ্তাহ আগে ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থার পতনের ডাক দিয়ে দেশটির সঙ্গে এ যুদ্ধ শুরু করেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর প্রথম দিন অর্থাৎ গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় নিহত হন দীর্ঘ ৩৭ বছর ইরানের সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্বে থাকা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। তাঁর মৃত্যুর পর দ্বিতীয় পুত্র আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন।
চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে নেতানিয়াহুকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি ও হিজবুল্লাহ প্রধান নাঈম কাসেমের বিরুদ্ধে ইসরায়েল কী ব্যবস্থা নিতে পারে? জবাবে তিনি বলেছেন, ‘আমি এই ‘‘সন্ত্রাসী’’ নেতাদের কারোরই জীবনবিমার নিশ্চয়তা দেব না।’
তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
ইরানে হামলা অব্যাহত রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। দেশটির মধ্যাঞ্চলীয় প্রদেশ ইসফাহানের বেশ কয়েকটি স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে।
এসব হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ১৫ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
তথ্যসূত্র: আল–জাজিরা
ইসরায়েলের পাশাপাশি ইরাক ও কুয়েতে অবস্থিত তিনটি মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।
আইআরজিসির এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইসরায়েলে ‘অ্যাম্বুলেন্সের সাইরেনের অবিরাম শব্দ’ এবং হতাহতের সংখ্যা বৃদ্ধির বিষয়ে দেশটির কর্তৃপক্ষের স্বীকারোক্তিই বলে দিচ্ছে যে তেল আবিবের শিল্পাঞ্চলগুলোতে ইরানের ভারী ক্ষেপণাস্ত্রগুলো কতটা শক্তিশালী প্রভাব ফেলেছে।
বিবৃতিতে আরও দাবি করা হয়, ইরাকের ইরবিলে অবস্থিত হারির মার্কিন বিমানঘাঁটি এবং কুয়েতে মার্কিন সেনা মোতায়েন থাকা আলি আল সালেম ও আরিফজান ঘাঁটি ইরানের শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ‘ধ্বংস’ হয়ে গেছে।
তথ্যসূত্র: আল–জাজিরা
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে হামলায় ব্যবহারের জন্য ইরানকে ‘শাহেদ’ ড্রোন সরবরাহ করছে রাশিয়া।
মার্কিন সম্প্রচারমাধ্যম সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এমনটাই দাবি করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। গতকাল শনিবার সাক্ষাৎকারের এই অংশটি প্রচারিত হয়।
সিএনএনের ফরিদ জাকারিয়াকে জেলেনস্কি বলেন, এটি ‘শতভাগ সত্য’ যে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালাতে ইরান রাশিয়ার তৈরি শাহেদ ড্রোন ব্যবহার করেছে। এ
অঞ্চলের অন্যান্য দেশে চালানো হামলার সঙ্গেও শাহেদ ড্রোনের যোগসূত্র পাওয়া গেছে। তবে এসব ড্রোনের প্রস্তুতকারক কারা, তা সবসময় স্পষ্ট নয়।
মূলত ইরানই প্রথম এ শাহেদ ড্রোন তৈরি করে, যা ব্যয়বহুল ক্ষেপণাস্ত্রের তুলনায় অনেক সাশ্রয়ী।
ইউক্রেনের দাবি, ২০২২ সালের শরৎকাল থেকে রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণে এই ড্রোনের ব্যাপক ব্যবহার দেখা যায়। তখন থেকে রুশ বাহিনী হাজার হাজার শাহেদ ড্রোন উৎক্ষেপণ করেছে।
শুরুতে ইরান এসব ড্রোন সরবরাহ করলেও এখন রাশিয়া নিজেই শাহেদ ড্রোন তৈরি করছে। ইতিমধ্যে, মার্কিন সেনাবাহিনীসহ অন্য দেশের সশস্ত্র বাহিনীও শাহেদ ঘরানার ড্রোন গ্রহণ করেছে।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর মতে, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানে এই ড্রোনগুলো ব্যবহার করা তাদের পরিকল্পনার অংশ।
তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালিতে ইরানের আধিপত্য কমাতে সেখানে মাইন শনাক্তকারী ড্রোন পাঠানোর কথা ভাবছে ব্রিটেন।
এর আগে ওই অঞ্চলে তেলবাহী ট্যাংকারগুলোর সুরক্ষায় মিত্র দেশগুলোর যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের আহ্বান জানিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে পণ্যবাহী জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে ‘নানা ধরনের বিকল্প’ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট উত্তোলিত তেলের প্রায় ২০ শতাংশ প্রতিদিন এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়।
প্রথমবারের মতো ওই প্রস্তাবের খবর সামনে এনেছে দ্য সানডে টাইমস। সংবাদমাধ্যমটি জানায়, ব্রিটিশ রয়্যাল নেভির ‘মাইন অ্যান্ড থ্রেট এক্সপ্লোয়িটেশন গ্রুপ’ থেকে এসব ড্রোন মোতায়েন করা হতে পারে; যারা বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থান করছে।
তবে বর্তমানে ঠিক কতগুলো ড্রোন কার্যকর রয়েছে এবং এর মধ্যে কতটি মোতায়েন করা সম্ভব, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে পত্রিকাটি।
এদিকে দ্য সানডে টেলিগ্রাফের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউক্রেনের জন্য বিশেষভাবে তৈরি করা ব্রিটিশ ইন্টারসেপ্টর ড্রোনগুলো ইরানের ‘শাহেদ’ ড্রোন প্রতিহত করতেও ব্যবহার করা হতে পারে।
তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
আগের লাইভ দেখতে ক্লিক করুন: